ইতিহাস গড়ে সেঞ্চুরির স্বাদ নিয়েই থামলেন তানজিদ

স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশের জার্সিতে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নেমেই ইতিহাস গড়লেন তানজিদ হাসান তামিম। অনবদ্য ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অসাধারণ সেঞ্চুরি তুলে নিলেন এই বাঁহাতি ওপেনার। তবে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর আর অল্প সময় ক্রিজে টিকতে পারলেন তিনি। বড় শট খেলার চেষ্টায় লং অফে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাজঘরে।

শুক্রবার ডারউইন টেস্টের দ্বিতীয় দিনের দ্বিতীয় সেশনে সেঞ্চুরির স্বাদ নেন তানজিদ। অজি অফ স্পিনার ন্যাথান লায়নের বলে সিঙ্গেল নিয়ে শতক পূর্ণ করেন তিনি, ১৮৮ বলে। এটি তার ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। শুধু তাই নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড়ের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিও এটি। প্রথম দিনের ৬৭ বলে অপরাজিত ৩২ রান নিয়ে খেলতে নেমেছিলেন তিনি।

স্বাগতিকদের তারকাখচিত বোলিং লাইনআপের বিপরীতে স্মরণীয় ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শের পর লায়নের শিকার হয়েই বিদায় নেন তানজিদ। অফ স্টাম্প ঘেঁষা ডেলিভারিতে টাইমিং ঠিকঠাক না হওয়ায় ক্যাচ যায় লং অফে থাকা মিচেল স্টার্কের হাতে। ১৯৭ বলে আটটি চার ও একটি ছক্কায় তানজিদের দায়িত্বশীল ইনিংস থামে ১০১ রানে। এতে ভাঙে অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে তার ১৫৭ বলে ৯৩ রানের তৃতীয় উইকেট জুটি।

কেবল দ্বিতীয় বাংলাদেশি ব্যাটার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্টে সেঞ্চুরি করলেন তানজিদ। এর আগে ২০০৬ সালে অজিদের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন সাবেক তারকা শাহরিয়ার নাফিস। তিনি ফতুল্লায় খেলেছিলেন ১৩৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস।

তানজিদ সেঞ্চুরি স্পর্শের আগে লায়নের ওই ওভারেই সিঙ্গেল নিয়ে ফিফটিতে পা রাখেন শান্ত। সেজন্য তার লাগে ৭৪ বল। এই সংস্করণের ক্রিকেটে এটি তার সপ্তম হাফসেঞ্চুরি।

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপরীতে এই টেস্টে চালকের আসনে থাকা বাংলাদেশকে বড় সংগ্রহের ভিত দিতে বড় ভূমিকা রেখেছেন তানজিদ। উদ্বোধনী জুটিতে সাদমান ইসলামের সঙ্গে ৫০ বলে ৩৬ ও দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে মুমিনুল হকের সঙ্গে ১৮৯ বলে ১০২ রান যোগ করেন তিনি। সফরকারী বোলারদের পর ব্যাটাররা জ্বলে ওঠায় ইতোমধ্যে বেশ চাপে পড়ে গেছে অস্ট্রেলিয়া।

ভাগ্যও সঙ্গ দিয়েছে তানজিদকে। এদিন ব্যক্তিগত ৬২ রানে জীবন পান তিনি। লায়নের বলে ক্যাচ দিয়ে বেঁচে গিয়েছিলেন। বল উইকেটরক্ষক অ্যালেক্স ক্যারির কনুইয়ে লেগে যায় একমাত্র স্লিপে। সেখানে থাকা স্টিভ স্মিথ ঝাঁপিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও মুঠোয় নিতে পারেননি। এর আগে প্রথম দিনে ব্যক্তিগত শূন্য রানে তানজিদ জীবন পেয়েছিলেন লায়নই ক্যাচ ফেলে দেওয়ায়।

এই প্রতিবেদন লেখার সময়, ৭৩ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ২৬০ রান। স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা শান্ত ব্যাট করছেন ৯৮ বলে ৬৭ রানে। তানজিদ আউট হওয়ার পর নামা অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম ক্রিজে আছেন ২১ বলে ১২ রানে। হাতে ৭ উইকেট নিয়ে প্রথম ইনিংসে টাইগারদের লিড এখন ৬২ রানের ১৮৯ বলে ১০২ রান যোগ করেন তিনি।