হাসানের ইতিহাস গড়া ছয় শিকারে দুইশোর আগে শেষ অস্ট্রেলিয়া
কখনো বল ভেতরে ঢুকালেন, কখনো হালকা মুভমেন্ট করিয়ে বের করে ব্যাটারদের করলেন নাস্তানাবুদ। লাল বলে স্যুয়িং, মুভমেন্টে মায়াবি বিভ্রম তৈরি করলেন হাসান মাহমুদ। ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ে তৃতীয়বার নিলেন পাঁচ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার মাঠ পাঁচ উইকেট পাওয়া প্রথম বাংলাদেশি বোলার হলেন তিনি।
হাসানের এমন দিনে ধস নামল অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। অবশ্য হাসানের পাশাপাশি বাকি দুই পেসারও ছিলেন ঝাঁজালো। চোট কাটিয়ে ফেরার পর ছন্দ পাচ্ছিলেন না ইবাদত হোসেন, তিনি যেন ফিরে পেলেন নিজেকে। তাসকিন আহমেদ গুরুত্বপূর্ণ ধাপে নিলেন দুই উইকেট। অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে অলআউট করে দিল বাংলাদেশ।
অসামান্য স্পেলে ৫৫ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের নায়ক হাসান। অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রান করে স্টিভ স্মিথ।
টস জিতে ব্যাট করতে নামা অস্ট্রেলিয়া করেছিলো সতর্ক শুরু। তাসকিন এলোমেলো শুরু করলেও হাসান ও ইবাদত ছিলেন নিখুঁত। হাসানই শুরু করেন উইকেট নেওয়া। কখনো ওভার দ্য উইকেট, কখনো অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে বল করছিলেন। দ্বাদশ ওভারে গিয়ে হাসান আনেন সাফল্য।
প্রান্ত আগলে রাখার পণ নিয়ে নেমেছিলেন জ্যাক ওয়েদারেল্ড। কিছু বাউন্ডারি পেয়ে গেলেও তাকে খুব সাবলীল মনে হচ্ছিল না। ভালো বল করতে থাকা হাসান মাহমুদের বেরিয়ে যাওয়া বলে তিনি ক্যাচ দেন উইকেটের পেছনে।
প্রথম ঘন্টার পানি পানের বিরতির পর পরই বড় সাফল্য। এবার হাসানের শিকার ট্রেভিস হেড। আগ্রাসী হেড খেলছিলেন রয়েসয়ে। প্রথম পানি পানের বিরতির পর হাত খুলেন। হাসানকে বাউন্ডারি মারার পরই ফিরে যান। অ্যারাউন্ড দ্য উইকেটে বল করা হাসান হেডকে সংশয়ে ফেলেন। হাসানের বল স্টাম্পে টেনে বোল্ড হন হেড। ৩৯ বলে ২২ করে ফেরেন তিনি। ওই সেশনে পরে ইবাদত ও তাসকিন উইকেট নিলে দাপট স্পষ্ট হয় বাংলাদেশের
দ্বিতীয় সেশনে স্মিথ-আলেক্স কেয়ারির প্রতিরোধ ভেঙে ইবাদত খেলায় ফেরান দলকে, পরে তাসকিন বো ওয়েবস্টারকে স্বপ্নের মতো ডেলিভারিতে ছাঁটলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে অজিরা। হাসান আরেক স্পেলে মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্সকে তুলে নেন। শেষ সেশনে স্মিথ, লায়নদের ছেঁটে মুড়ে দেন ইনিংস।
