টানা আট হারের খরা কাটিয়ে বিদেশের মাটিতে টেস্ট জিতল পাকিস্তান
বিদেশের মাটিতে টানা আটটি টেস্টে পরাজয়ের চ্যাপ্টার অবশেষে বন্ধ করল পাকিস্তান। তিন বছর ও দীর্ঘ অপেক্ষার পর বিদেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেল তারা। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর বিদেশের মাটিতে এটিই পাকিস্তানের প্রথম টেস্ট জয়। বিশেষ বিষয়টি হলো, সেবারও অধিনায়ক ছিলেন বাবর আজম, আর এবারও তার নেতৃত্বেই ঘুচল পাকিস্তানের এই জয়খরা।
পোর্ট অব স্পেনে চতুর্থ দিনে ছিলো অনেকটা আনুষ্ঠানিকতা। দুই স্পিনার আলি উসমান ও সাজিদ খানের স্পিনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস (১১৭) অল্পে আটকে মামুলি লক্ষ্য পেয়েছিলো তারা। ৭৫ রানের লক্ষ্য সফরকারী দল পেরিয়ে যায় ২ উইকেট হারিয়েই। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ শেষ হলো ১-১ সমতায়।
টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৩৪৪ রানে অলআউট করে পাকিস্তান। ৩৪৪ রান তাড়া করা বেশ চ্যালেঞ্জিং মনে হলেও জবাবে ব্যাট করতে নেমে চমৎকার শুরু পায় সফরকারীরা। সৌজন্যে আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজমের শতকীয় জুটি। তাদের মধ্যে ১৮৩ রানের বিশাল জুটিতে চালকের আসনে বসেছিল পাকিস্তান।
তবে ম্যাচে বড় মোড় আনেন ব্র্যান্ডন কিং। তার একটি অসাধারণ সরাসরি থ্রোতে সেঞ্চুরি মিস করে রানআউট হন বাবর আজম। কিংয়ের এই থ্রো পাকিস্তান ইনিংসে হঠাৎ ধস নামায়, যদিও রানআউট করার প্রক্রিয়ায় নিজে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন কিং। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান প্রথম ইনিংসে ৪৩ রানের লিড পায়।
দ্বিতীয় ইনিংসে আসল কাজটা করেন পাকিস্তানি স্পিনাররা। ম্যাচের তৃতীয় দিনেই ১০৩ রানে স্বাগতিকদের ৬ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তারা। চতুর্থ দিন সকালে বাকি উইকেটগুলো গুটিয়ে নিতে পাকিস্তানের আধ ঘণ্টাও লাগেনি।
জয়ের জন্য ছোট লক্ষ্য মাত্র ৭৫ রান। পাকিস্তান মানেই তো কিছুটা নাটকীয়তা; ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে দুই ওপেনারকে হারালেও জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি। কাকতালীয়ভাবে প্রথম ইনিংসের মতোই এবারও দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন আবদুল্লাহ শফিক ও বাবর আজম জুটি।
গত তিন বছরে পাকিস্তানের ক্রিকেটে এসেছে একের পর এক পরিবর্তন। বদলেছেন একাধিক কোচ ও নির্বাচক। এর মধ্যে দুইবার অধিনায়কত্ব ছেড়েছিলেন বাবর আজম। সব নাটকীয়তার পর শেষ পর্যন্ত অধিনায়ক বাবর আজম ও কোচ সরফরাজ আহমেদের জুটির হাত ধরেই স্বস্তির জয়ে সিরিজ সমতায় শেষ করল পাকিস্তান।