মুশফিককে ছাড়িয়ে চূড়ায় উঠে শান্ত শোনালেন নেতৃত্ব উপভোগের কথা

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ঢাকা টেস্টে পাকিস্তানকে হারিয়ে মুশফিকুর রহিমের পাশে বসেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। এবার সিলেট টেস্টে সফরকারীদের বিপক্ষে আরেকটি দুর্দান্ত জয়ে এককভাবে চূড়ায় উঠে গেলেন তিনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে তিনিই এখন সফলতম টেস্ট অধিনায়ক। তবে রেকর্ড নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে এই বাঁহাতি ব্যাটার শোনালেন নেতৃত্ব উপভোগের কথা।

বুধবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের পঞ্চম দিনে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক হিসেবে ১৮ টেস্টে শান্তর এটি অষ্টম জয়। টাইগারদেরকে সবচেয়ে বেশি ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া মুশফিকের জয় সাতটি। সাকিব আল হাসান ১৯ টেস্টে চারটি জয় এবং মুমিনুল হক ১৭ টেস্টে তিনটি জয় পেয়েছেন। এছাড়া, একটি করে জয় আছে হাবিবুল বাশার, মাশরাফি বিন মর্তুজা, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজের নামের পাশে।

দুই টেস্টের সিরিজে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, উপভোগের মন্ত্র নিয়ে এগোচ্ছেন তিনি, '(নেতৃত্ব) উপভোগ করছি, অবশ্যই উপভোগ করছি…। এই খেলোয়াড়দের সাথে অনেক লম্বা সময় ধরে আছি, ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা হয়। বিপিএল, বিসিএল, এনসিএল— অনেক জায়গাতেই খেলা হয়। একজন আরেকজনের চিন্তা-ভাবনা সম্পর্কে জানি। তো কাকে কোন সময় কাজে লাগালে দলের উপকার হবে, ওই সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা আছে।'

এই নিয়ে টানা দুবার টেস্টে পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। অস্ট্রেলিয়ার পর বাংলাদেশই দ্বিতীয় কোন দল, যারা টেস্টে পাকিস্তানকে টানা দুবার হোয়াইটওয়াশ করার নজির গড়ল। এর আগে ২০২৪ সালে পাকিস্তানকে তাদের মাটিতেই ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল শান্তর দল। আর একটি জায়গায় বাংলাদেশ অনন্য। পাকিস্তানকে হোম ও অ্যাওয়েতে টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ করার কীর্তি বাংলাদেশ ছাড়া আর কারও নেই।

অধিনায়ক হিসেবে সাফল্য অর্জনের পেছনে সতীর্থদের কৃতিত্ব দেন শান্ত, 'শুধু আজকের ব্যাপার নয়। আমার মনে হয়, আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, মুশফিক ভাই মাঠে আছেন এখনও। এখানে আরও আছে লিটন আছে, মিরাজ আছে, তাইজুল ভাই আছেন। এরকম কঠিন সময়ে আমি একটু আলোচনা করতে পছন্দ করি এবং সবচেয়ে ভালো লাগার বিষয় হলো, যে চারটা-পাঁচটা নাম বললাম— সবাই নিজে থেকে এসে ওই মতামতগুলো দেয় যে, দলের জন্য কী করলে ভালো হবে। আমি খুবই মনখোলা, শুনতে পছন্দ করি।'

তিনি যোগ করেন, 'এই দলে ১৫-২০ জন যারাই খেলে, এই সেট-আপের মধ্যে সবাই দলের কথা চিন্তা করে, সবাই খুবই ভালো। দলে জন্য যেটা ভালো, ওই সিদ্ধান্তগুলা দেওয়ার চেষ্টা করে। এদিক থেকে আমি খুবই সৌভাগ্যবান যে, মুশফিক ভাই, লিটন, মমিনুল ভাইরা সবাই আমাকে সহায়তা করেন। বিশেষ করে, কঠিন সময়ে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা অনেক সময় কঠিন হয়। তখন আশেপাশে থেকে এরকম সহায়তা পেলে অবশ্যই তা বাড়তি একটা পাওয়া।'

সদ্য সমাপ্ত সিরিজে নেতৃত্বে মুন্সিয়ানা দেখানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত পাফরম্যান্সে আলো ছড়ান শান্ত। তাই তিনি নির্বাচিত হয়েছেন 'মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার'। চার ইনিংসে একটি করে সেঞ্চুরি ও ফিফটিতে ৫৯.৭৫ গড়ে তার ব্যাট থেকে আসে ২৩৯ রান।