স্নায়ুচাপের নাটকে জয়ী বাঘিনীরা

স্পোর্টস ডেস্ক

ক্রিকেটে অনিশ্চয়তার খেলা, কথাটা যেন অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণ করল বাংলাদেশ নারী দল। শুরুতে ব্যাটিং বিপর্যয়, এরপর দুর্দান্ত জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানো, আর জয় থেকে মাত্র কয়েক কদম দূরে থাকতে অবিশ্বাস্য এক ধস! পরতে পরতে ছড়ানো রোমাঞ্চ আর স্নায়ুচাপের এক দারুণ প্রদর্শনী শেষ হাসি হেসেছে বাঘিনীরা।

সোমবার রাজশাহীর শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে শ্রীলঙ্কা নারী দলকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ২০৫ রান করেছে লঙ্কানরা। জবাবে ৯ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

নিজেদের সেরা খেলোয়াড় চামারি আত্তাপাত্তুকে ছাড়া মাঠে নামা শ্রীলঙ্কা এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। শুরুটা তাদের দারুণ ছিল। অধিনায়ক হাসিনি পেরেরার সঙ্গে ইমেশা দুলানির ওপেনিং জুটিতে আসে ৬৮ রান। পেরেরাকে এলবিডাব্লিউর ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন রিতু মনি।

এরপর হারশিথা সামারাবিক্রমাকে ফিরিয়ে নিজেই ক্যাচ ধরে ফেরান এই অলরাউন্ডার। তবে ইমেশা দুলানির সঙ্গে দলের হাল ধরেন হানসিমা করুনারত্নে। ৫২ রানের জুটি গড়ে দলকে বড় পুঁজির দিকে এগিয়ে নেন তারা। সুলতানা খাতুন ইমেশাকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙার পর করুনারত্নেকে সঙ্গ দেন কাভিশা দিলহারি। তবে ২৬ রানের বেশি স্কোরবোর্ডে রান যোগ করতে পারেননি তারা, করুনারত্নেকে ফিরিয়ে দেন সোবহানা মোস্তারি।

এরপরই দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে বাংলাদেশ। শেষ ৪৫ রানের ব্যবধানে লঙ্কানদের শেষ ৭ উইকেট তুলে নেয় দলটি। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন করুনারত্নে এবং ৫২ রান আসে ইমেশার ব্যাট থেকে। বল হাতে বাংলাদেশের রিতু মনি ৩৬ রান খরচায় ৩টি এবং নাহিদা আক্তার ৩৮ রানের বিনিময়ে ২টি উইকেট শিকার করেন।

২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। দলীয় ৫ রানেই ফিরে যান দুই ওপেনার জুরাইয়া ফেরদৌস ও শারমিন সুলতানা। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানাও দ্রুত ফিরে গেলে মাত্র ৩৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি। তাদের ৮৭ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

৬টি চারের সাহায্যে ৫৬ বলে ৪১ রান করা সোবহানা চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে স্বর্ণা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে সেঞ্চুরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন শারমিন। কিন্তু ব্যক্তিগত ৮৬ রানে ইনোকা রানাবিরার বলে তিনি স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়লে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে বাঘিনীদের লাইনআপ। স্কোরবোর্ডে আর কোনো রান যোগ হওয়ার আগেই বিদায় নেন ৩৫ রান করা আরেক সেট ব্যাটার স্বর্ণা।

এরপর মাত্র ১ রান যোগ হতে ফিরে যান রিতু মনি ও রাবেয়া খানও। মাত্র এক রানের ব্যবধানে চার উইকেট হারিয়ে অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচ কঠিন করে ফেলে বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত নাহিদা আক্তার ও সুলতানা খাতুনের দৃঢ়তায় ৩ উইকেটের স্বস্তির জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।