‘সবাই জানে মামলার ভিত্তি নেই, সদিচ্ছা থাকলে দ্রুত সমাধান সম্ভব’: দেশে ফেরা নিয়ে সাকিব

একুশ তাপাদার
একুশ তাপাদার

প্রায় দুই বছর ধরে দেশের বাইরে থাকা সাকিব আল হাসানের ফেরার পথে প্রধান বাধা আইনি জটিলতাকে। তবে এই বাধা কাটানো এবং তাকে নিরপরাধ হিসেবে ফিরতে দেওয়া পুরোপুরি কর্তৃপক্ষের ‘সদিচ্ছা’র ওপর নির্ভর করছে বলে মনে করেন তিনি। দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে আলাপকালে এই অলরাউন্ডার স্পষ্ট জানিয়েছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে দেখা হলে তার ফেরার পথ দ্রুত প্রশস্ত হবে।

আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক এই  সংসদ সদস্য ২০২৪ সালে তার দলের পতনের পর আর দেশে ফিরতে পারেননি। আওয়ামী লীগের পতনের পর জাতীয় দলের হয়ে দেশের বাইরে দুটি সিরিজ খেললেও দেশের মাঠে খেলে অবসর নিতে চাইলে বাধার মুখে পড়েন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়।

অন্তর্বতী সরকারের পর বিএনপি সরকার দায়িত্ব নিলে সাকিবের ফেরার আলোচনা আবার উঠেছে। বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী সাকিবের ফেরার ব্যাপারে একাধিকবার ইতিবাচক মন্তব্যও করেন। তবে তার ফেরার বিষয় এখনো বেশিদূর এগোয়নি। 

নিজের দেশে ফেরার সম্ভাবনা এবং আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সাকিব বেশ সোজাসাপ্টা মন্তব্য করেছেন। তার মতে, বিচার প্রক্রিয়া কত দ্রুত শেষ হবে তা সিস্টেমের সদিচ্ছার বিষয়, ‘আপনারা সবাই দেখছেন আমার বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো করা হয়েছে সেগুলোর কোনো প্রমাণ নাই, কোনো ভিত্তি নেই—এটা সবাই বলছে। যা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও উঠে এসেছে। বাংলাদেশের সিস্টেমে চাইলে আপনি দ্রুততম সময়ে শেষ করতে পারেন, আবার অনেক সময় নিয়ে শেষ করতে পারেন। এটা হচ্ছে আপনার সদিচ্ছার বিষয়।’

সাকিবের মতে প্রতিহিংসা বাদ না দিলে দেশের বদল আসবে না,  ‘এভাবেও ভাবা যায় যে, একজন মানুষ আসলে কোনো অন্যায় করেনি, তাকে শুধু শুধু সাফারার করার কোনো দরকার নাই। কেবল আপনি আক্রান্ত হয়েছিলেন বলে আমাকেও আক্রান্ত করবেন—জিনিসটা আমার কাছে ভালো মনে হয় না। এরকম চলতে থাকলে দেশের কোনো পরিবর্তন আসবে না।’

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা বা বিদায়ী ম্যাচ নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও সাকিবের কাছে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো নিজ দেশে ফেরা। তিনি বলেন, ‘আমি আশাবাদী, সবসময়ই একজন আশাবাদী মানুষ ছিলাম। আইনি প্রক্রিয়াগুলোর কাজ শুরু হয়েছে। এখন বিষয়গুলো যত দ্রুত সমাধান করা সম্ভব হবে, আমি তত দ্রুতই ফিরতে পারব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়া এখন সেকেন্ডারি বিষয়; আমার প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশে ফেরা।’

বিসিবি বা সরকারের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকলেও বিসিবির মাধ্যমে কিছু কাজ হচ্ছে বলে তিনি জানেন। তবে সাকিবের আক্ষেপ, বিসিবি আরও সক্রিয় হলে সমাধান দ্রুত হতো। তিনি বলেন, ‘যেহেতু আমি দূরে আছি, আমার হয়ে যদি এই কাজগুলো বিসিবি করত, আমার জন্য সহজ হতো। আমি বলছি না একদমই করেনি, কিন্তু আরেকটু ভালোভাবে করা গেলে তাড়াতাড়ি সমাধান হওয়ার সম্ভাবনা থাকত।’

বর্তমান পরিস্থিতির নমনীয়তা বা কঠোরতা প্রসঙ্গে সাকিব মনে করেন, প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা দেশের কোনো মঙ্গল বয়ে আনবে না। তিনি বর্তমান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের সময় খুবই অল্প এখনো। তারা বিষয়গুলো নিরপেক্ষভাবে দেখবে এবং যারা নিরপরাধ তারা যেন সঠিক বিচার পায়। এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হবে। আগের কেউ সাফার করেছেন বলে এখন অন্যদেরও সাফার করাতে হবে—এই মানসিকতা থেকে আমাদের বের হয়ে আসতে হবে।’

সাকিব আশা প্রকাশ করেন যে, সদিচ্ছা থাকলে এবং নিরপেক্ষভাবে বিচার হলে তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যেই সব আইনি বাধা কাটিয়ে দেশে ফিরতে পারবেন।