'ভুল হতে পারে কিন্তু হৃদয় যা বলে সেটাই করবো, ট্রল নিয়ে ভাবি না'
বাংলাদেশ ক্রিকেটে নির্বাচক প্যানেল মানেই যেন এক উত্তপ্ত কড়াই, যেখানে প্রতিনিয়ত বয়ে চলে আলোচনা আর সমালোচনার ঝড়। সেই ঝড়ের কেন্দ্রে এবার বসলেন দেশের ইতিহাসের অন্যতম সফল অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন। পহেলা এপ্রিল থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব নিতে যাওয়া বাশার স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বাইরের কোনো চাপে নয়, বরং নিজের বিচারবুদ্ধি আর হৃদয়ের ডাক শুনেই দল গড়বেন তিনি।
বিসিবির প্রধান নির্বাচক হওয়া মানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রোলিং আর সমালোচনার শিকার হওয়া—এটি এখন বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক অলিখিত নিয়ম। তবে ক্যারিয়ারের দীর্ঘ সময় অধিনায়ক ও পরে নির্বাচক হিসেবে কাটানো সুমন এতে বিচলিত নন।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে হাজির হয়ে তিনি বলেন, 'আমি জানি আমি সবসময় সঠিক হবো না, আমি মানুষ, ভুল আমারও হতে পারে। কিন্তু আমার জাজমেন্ট বা আমার হৃদয় যেটা বলবে, আমি সেটাই করবো। সেটার জন্য যদি কথা শুনতে হয়, তবে শুনবো। আমি এটা মেনেই দায়িত্ব নিয়েছি যে দশজনের মধ্যে পাঁচজন আমাকে ঠিক বলবে আর পাঁচজন বলবে ভুল।'
সোশ্যাল মিডিয়ায় নির্বাচকদের নিয়ে হওয়া ট্রোলিং প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, 'ট্রোল হোক বা লেখালেখি—এগুলো নিয়ে আমি মোটেও চিন্তিত নই। আমি যখন অধিনায়ক ছিলাম, তখনও এসবের মধ্য দিয়ে গিয়েছি। আমার মূল লক্ষ্য থাকবে টিম নিয়ে কাজ করা, কে কী লিখলো তা আমার কাজকে বাধাগ্রস্ত করবে না।'
নতুন এই নির্বাচক প্যানেলের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ পর্যন্ত। দীর্ঘমেয়াদী এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সুমনের ভাবনায় রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক।
শুধু ১৫ জনের স্কোয়াড নয়, বরং ব্যাক-টু-ব্যাক সিরিজের চাপ সামলাতে অন্তত ২৫ জনের একটি শক্তিশালী খেলোয়াড় পুল তৈরি করতে চান তিনি।
নাইম ইসলাম ও নাদীফ চৌধুরীদের মতো ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞদের নিয়ে গড়া এই প্যানেল পাইপলাইনের খেলোয়াড়দের ওপর কড়া নজর রাখবে।
লিপুর (গাজী আশরাফ হোসেন) ফেলে যাওয়া দুই বছরের পরিকল্পনার ধারাবাহিকতা ধরে রেখেই নিজের ইনপুট দিতে চান সুমন। ঘরোয়া ক্রিকেটের অবকাঠামো এবং উইকেট নিয়ে তার নিজস্ব দর্শন রয়েছে, যা তিনি নির্বাচক হিসেবে প্রয়োগ করতে আগ্রহী।
হাবিবুল বাশার সুমনের হাত ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নির্বাচক প্যানেলে এক নতুন 'বোল্ড' বা সাহসী সংস্কৃতির সূচনা হতে যাচ্ছে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।