নারী প্রথম বিভাগের লিগ স্থগিতের দাবি, গভীর হচ্ছে ক্লাব ক্রিকেটের সংকট

আব্দুল্লাহ আল মেহেদী

বাংলাদেশের ক্লাব ক্রিকেটের সংকট আরও গভীর হয়েছে গতকাল, যখন নারী প্রথম বিভাগের নয়টি ক্লাব বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি) চিঠি দিয়ে ঢাকা ফার্স্ট ডিভিশন নারী ক্রিকেট লিগ আগামী বছর পর্যন্ত স্থগিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে।

বিসিবির নারী উইংয়ের চেয়ারম্যান রুবাবা দৌলাকে উদ্দেশ করে লেখা তারিখবিহীন ওই চিঠিতে বলা হয়, দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ক্লাবগুলো আর্থিকভাবে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাই তারা ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগটি স্থগিত রেখে আগামী বছর আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছে বোর্ডকে।

বেগম আনোয়ারা স্পোর্টিং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান, যিনি নয়টি ক্লাবের অনেক কর্মকর্তার মতে বিষয়টি 'দেখভাল' করছেন, জানিয়েছেন, এই বছর অবনমন বা উন্নীতকরণ (রেলিগেশন বা প্রমোশন) না থাকলে তবেই ক্লাবগুলো খেলতে আগ্রহী। তার মতে, অবনমন হলে প্রায় ২০-৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।

তিনি বলেন, 'বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের অনেক স্পনসর দেশে নেই। ফলে আমরা অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছি।'

তিনি আরও বলেন, প্রথম বিভাগের নারী ক্লাবগুলোর কর্মকর্তারা বিসিবির কাউন্সিলর পদ পান না, ফলে স্পনসর জোগাড় করাও তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

তবে অন্য একটি ক্লাবের এক কর্মকর্তা, যিনি চিঠিটিতে স্বাক্ষরকারী হলেও, জানিয়েছেন যে তাদের আর্থিক চাহিদা পূরণ করা হলে তারা খেলতে আগ্রহী।

এ বছর অংশগ্রহণকারী ক্লাবগুলোর জন্য বিসিবি অনুদান ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করেছে। প্রতি ম্যাচে খাবার ও যাতায়াত বাবদ যথাক্রমে ৭ হাজার ও ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া জার্সির জন্য প্রতিটি দলকে ৫০ হাজার টাকা দেবে বিসিবি।

লিগটির খেলোয়াড় বদলির সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২৮ মার্চ পর্যন্ত এবং লিগ শুরুর কথা ছিল ২ এপ্রিল।

তবে লিগ স্থগিতের জন্য ক্লাবগুলোর এই সময়ের দাবি খেলোয়াড়দের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি করেছে।

ঢাকার বাইরে বসবাসকারী এক নারী প্রথম বিভাগের ক্রিকেটার দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'সব তারিখ ঘোষণা করা হয়েছিল, হঠাৎ করে ক্লাবগুলো এখন আর্থিক সমস্যার কথা বলছে। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি, বিসিবি এ বছর আর্থিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।'

তিনি আরও বলেন, 'নারীদের জন্য এমনিতেই ঘরোয়া লিগের সংখ্যা খুব কম। এই পরিস্থিতিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যায়। আমরা সারা বছর অনুশীলন করেছি, শুধু এটা শোনার জন্য যে তারা এ বছর খেলতে চায় না।'

আরেকজন খেলোয়াড়, যিনি এই মৌসুমে একটি ক্লাবের সঙ্গে ২ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন, বলেন ক্লাব কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে, যদি তারা এ বছর খেলেও, সেটাকে তারা অনেকটা 'পিকনিকের মতো' ধরে নেবে।

তিনি বলেন, 'তারা (ক্লাব কর্তৃপক্ষ) আমাদের বলেছে প্রত্যেককে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। চুক্তিতে যে অর্থের কথা আছে, তা তারা দিতে পারবে না।'

আরেক ক্রিকেটার অভিযোগ করেন, ক্লাবগুলো গণমাধ্যমকে এক কথা বলছে, আর খেলোয়াড়দের বলছে সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। কারণ তার ক্লাব তাকে জানিয়েছে, রেলিগেশন ছাড়াই ক্লাবগুলোকে খেলতে বলেছে বোর্ডই।

কিছু অভিযোগ উঠেছে, কয়েকটি ক্লাব সময়মতো দল গঠন করতে না পারায় তারা এই সংকট তৈরি করেছে।

নারী উইংয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লিগটি আয়োজন করতে তারা সমাধান খুঁজছেন। এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য নারী উইংয়ের সহ-সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল দ্য ডেইলি স্টার, তবে তিনি সাড়া দেননি।

এদিকে সোমবার বিসিবি প্রাঙ্গণে শত শত ক্রিকেটার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের পরিকল্পনা করছেন।

নারী ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তায় ভুগছেন জাতীয় দলের ক্রিকেটার রুমানা আহমেদও। তিনি প্রথম বিভাগের ক্রিকেটারদের দুর্দশার সঙ্গে নিজের অবস্থার মিল খুঁজে পেয়েছেন।

তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'যা হচ্ছে তাতে খেলোয়াড়রা খুব হতাশ। প্রায় সব খেলোয়াড়ই এই লিগের আয়ের ওপর নির্ভর করে… আমি আশা করি বিসিবি এ বিষয়ে কিছু করবে।'