ইমরানের সুচিকিৎসায় পাকিস্তান সরকারের কাছে কিংবদন্তি অধিনায়কদের আবেদন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের এক ডজনেরও বেশি সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ইমরান খানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার এই কিংবদন্তিরা ইমরানের 'পর্যাপ্ত' চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য পাকিস্তানের সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
১৪ জন অধিনায়কের স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিটি বার্তা সংস্থা এএফপি হাতে পেয়েছে। এতে ৭৩ বছর বয়সী ইমরানের যথাযথ সেবার দাবি জানানো হয়েছে। তার আইনজীবীর মতে, ইমরান ডান চোখের দৃষ্টিশক্তির বেশিরভাগই হারিয়ে ফেলেছেন।
ইমরান ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং গত বছরের শেষদিকে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ও তার স্ত্রীকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও তারা উভয়ই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। গত সপ্তাহে ইমরানের আইনজীবী কারাগারে তাকে দেখতে যান এবং পরবর্তীতে পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টে একটি প্রতিবেদন জমা দেন। সেখানে তিনি তার মক্কেলের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং চিকিৎসার অনুরোধ জানান।
সাবেক অধিনায়কদের স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে 'শ্রদ্ধার সঙ্গে' পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে যেন 'ইমরান তার পছন্দমতো যোগ্য ও বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে অবিলম্বে, পর্যাপ্ত ও ধারাবাহিক চিকিৎসাসেবা পান তা নিশ্চিত করা হয়'।
এই প্রচারণার নেতৃত্বে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'অন্যায্য বিলম্ব বা বাধা ছাড়াই আইনি প্রক্রিয়ায় ইমরানের স্বচ্ছ ও ন্যায্য সুযোগ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।'
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে অন্যান্যরা হলেন— ভারতের সুনীল গাভাস্কার ও কপিল দেব; ইংল্যান্ডের মাইকেল আথারটন, মাইকেল ব্রিয়ারলি, নাসের হুসাইন ও ডেভিড গাওয়ার; অস্ট্রেলিয়ার অ্যালান বর্ডার, ইয়ান চ্যাপেল, বেলিন্ডা ক্লার্ক, স্টিভ ওয়াহ ও কিম হিউজ; ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্লাইভ লয়েড ও নিউজিল্যান্ডের জন রাইট।
২০২৩ সাল থেকে ঝুলে থাকা একটি মামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে ইমরানের জীবনযাত্রার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি রিপোর্ট তলব করেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এর আগে নিশ্চিত করেছিল, গত জানুয়ারিতে ইসলামাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালে ২০ মিনিট ধরে ইমরানের একটি চিকিৎসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। তবে এই বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন ইমরান খান। পরবর্তীতে দেশটির শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তার সরকারের রাজনৈতিক উত্তেজনার জেরে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর থেকে তিনি দুর্নীতিসহ একাধিক আইনি মামলার সম্মুখীন হচ্ছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের কার্যালয় এএফপিকে জানিয়েছে, তারা এখনও অধিনায়কদের পক্ষ থেকে কোনো বিবৃতি পায়নি।