পরিচালন ব্যয় মেটাতে ৪ দশকে প্রথম ঋণ করতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে

স্টার বিজনেস রিপোর্ট

গত চার দশকের মধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো নিয়মিত কার্যাবলি চালাতে ঋণ করতে হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, নিয়মিত বিল পরিশোধ এবং রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সচল রাখতে এ ঋণ নিতে বাধ্য হয়েছিল সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার 'এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ' আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির বর্তমান বাস্তবতা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং আগামী দিনের নীতি-পথরেখা নিয়ে সমন্বিত মূল্যায়ন উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অন্তর্বর্তী সরকারকে শুধু পরিচালন ব্যয় মেটাতে ২৩ হাজার ৭৪২ কোটি টাকা ঋণ নিতে হয়েছে।

তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন, 'বাংলাদেশ এখন এমন এক অবস্থায় পৌঁছেছে যে নিয়মিত পরিচালন ব্যয় মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। আশির দশকে জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের শাসনামলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল।'

রাজস্ব সংগ্রহে দুর্বল ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং স্থবির বিনিয়োগ রাষ্ট্রের আর্থিক ভিত্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। আগের সরকারের রেখে যাওয়া বকেয়া দায় পরিশোধ করতে গিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।'

অনুষ্ঠানে একই মত পোষণ করেন প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, 'উন্নয়ন ব্যয় কমানো এবং কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার সময় যে পরিমাণ ঋণের বোঝা পেয়েছিল, বর্তমানে তা আরও বেড়েছে।'

তিনি বলেন, 'মূলত রাজস্ব আদায় কাঙ্ক্ষিত গতিতে না বাড়া এবং পূর্ববর্তী সরকারের বকেয়া দায় মেটানোর কারণেই এমন হয়েছে।'

মূল প্রবন্ধের তথ্য অনুযায়ী, সরকারের আয় সামান্য বাড়লেও রুটিন বা নিয়মিত ব্যয় বেড়েছে তার চেয়ে দ্বিগুণের বেশি গতিতে। ফলে এই ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায়, যা আগের বছরের ৪ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা থেকে ৬ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি। কিন্তু নিয়মিত পরিচালন ব্যয় ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪ লাখ ৫৯ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
প্রবন্ধে বলা হয়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট প্রাক্কলিত রাজস্ব এবং প্রকৃত আদায়ের মধ্যে ব্যবধান বা রাজস্ব ঘাটতি ১ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও এটি এমন থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
এই পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে ক্রমবর্ধমান ঋণ পরিশোধের চাপ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৩০ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে আগের বছর এই বৃদ্ধির হার ছিল ২৮ দশমিক ৩ শতাংশ।
উন্নয়ন ব্যয় এবং বৈদেশিক ঋণ পরিশোধসহ পূর্ণাঙ্গ বাজেটের হিসাব করলে দেখা যায়, সামগ্রিক ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ২৯৪ কোটি টাকায়, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের ২১ হাজার ৬৮৪ কোটি টাকার তুলনায় প্রায় তিন গুণ।