সমাজচিন্তক আবুল কাসেম ফজলুল হকের সাধনা
আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন বাংলাদেশি সংস্কৃতি বিকাশের এক অন্যতম প্রতিভূ। আমৃত্যু তিনি সমাজের অসংগতি দূরীকরণে সচেষ্ট ছিলেন। প্রাজ্ঞ ও পণ্ডিত কিন্তু একেবারে সাদাসিধে এই মানুষটি বাঙালির মুক্তির ধ্বজা হাতে দেশের মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে একটি স্বপ্নরাজ্যের পরিসমাপ্তি ঘটল। তবুও তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙালির মননে ও তার সৃষ্টির গুণে।
কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। তার বাবা মুহাম্মদ আবদুল হাকিম, মা জাহানারা খাতুন এবং স্ত্রী ফরিদা প্রধান। তার দুই সন্তানের নাম শুচিতা শরমিন ও ফয়সল আরেফিন দীপন। তার মেয়ে শুচিতা শরমিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (প্রথম নারী উপাচার্য) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার ছেলে ফয়সল আরেফিন দীপনকে ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর দুর্বৃত্তরা হত্যা করে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে দীর্ঘ চার দশক শিক্ষকতা করেছেন। তিনি তার লেখা ও কথার মাধ্যমে জনগণের মাঝে সৎ চিন্তা উসকে দিতে চেয়েছেন। তিনি মানুষের মধ্যে শুভবোধের জাগরণ কামনা করতেন। তিনি জনগণকে শ্রদ্ধা করতেন এবং তাদের কখনো তুচ্ছতাচ্ছিল্য করতেন না। তিনি এমন মতপ্রকাশ করতেন যে, যেহেতু দেশের অধিকাংশ সাধারণ মানুষই ধর্মানুগত, তাই তাদের বিশ্বাসে সরাসরি আঘাত দিলে তাদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা হারাতে হয় এবং সমাজ পরিবর্তনের কাজ বিঘ্নিত হয়।
‘শিক্ষকতা চাকরি নয়, শিক্ষকতা হলো ব্রত’–এই চিন্তা আজীবন ধারণ করেছেন আবুল কাসেম ফজলুল হক। কৃত্রিমতামুক্ত ভালোবাসা ও মমত্ববোধে শিক্ষার্থীদের জ্ঞানের আলো বিতরণ করে তিনি প্রকৃত শিক্ষক হতে পেরেছিলেন। শিক্ষকতা করলেই সবাই শিক্ষক হয় না; মহান শিক্ষকের তকমা তার শিক্ষার্থীরাই তাকে দিয়েছেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থী মহলে অত্যন্ত বিনয়ী ও সজ্জন ব্যক্তি হিসেবে তার নাম সুবিদিত। শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মধ্যেই আবুল কাসেম ফজলুল হকের শিক্ষকতা সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর বাইরেও তিনি শিক্ষার্থীদের দেখিয়েছেন শোষণ ও অত্যাচার থেকে মুক্তির পথ। মত ও পথ অনেক হলেও তিনি সত্যকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সঞ্চারিত করতে বদ্ধপরিকর ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান থেকে শুরু করে তিনি দেশের চিন্তার জগতে কাজ করেছেন। তাই তিনি হয়েছিলেন দেশ ও সমাজের চিন্তক, শিক্ষক ও আলোর দিশারি।
নিজেকে আলোকিত করে সমাজকে আলোকিত করাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। যুগে যুগে জ্ঞানীদের মাধ্যমেই পৃথিবী থেকে অন্ধকার দূর হয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) থেকে শুরু করে বর্তমান প্রজন্ম পর্যন্ত আমরা এমন আলোর সারথিদের খুঁজে পাই। আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সুশিক্ষিত; তার চিন্তার পরিধি দিয়ে প্রসারিত হয়েছে সমাজ ও দেশের চিন্তার জগৎ। পত্রপত্রিকায় অসংখ্য প্রবন্ধ লিখেছেন তিনি। সাহিত্য সমালোচক হিসেবে তার খ্যাতি গগনচুম্বী। ষাট বছরের অধিক সময়ে তার রচিত গ্রন্থের সংখ্যা পঞ্চাশের বেশি।
তার লেখা জনমানুষের মুক্তির কথা বলে, আশার বাণী শোনায়। সব্যসাচী লেখক হিসেবে তার লেখার পাঠকপ্রিয়তা তুঙ্গে। পৃথিবীতে মানবজন্মের এক গভীর রহস্য আছে। কেবল নিজেকে নিয়ে ব্যতিব্যস্ত থেকে জীবন অতিবাহিত করা মানুষের ধর্ম নয়।
কবিতায়ও এমন চিন্তার প্রতিফলন লক্ষণীয়–‘আপনারে লয়ে বিব্রত রহিতে/ আসে নাই কেহ অবনী পরে/ সকলের তরে সকলে আমরা/ প্রত্যেকে আমরা পরের তরে’। পৃথিবীতে মানুষের অনেক দায়িত্ব আছে। পাশ্চাত্যের মনীষী ও সুপ্রসিদ্ধ লেখক রাস্কিন বলেছেন, এই পৃথিবীতে মানুষের তিনটি কর্তব্য আছে—স্রষ্টার প্রতি কর্তব্য, পিতা-মাতার প্রতি কর্তব্য এবং মানব জাতির প্রতি কর্তব্য। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এই দর্শনে বিশ্বাসী ছিলেন। তিনি মানুষের মধ্যে মানবতাবোধ জাগ্রত করার প্রয়াসে সর্বদা ব্যাপৃত ছিলেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি রাষ্ট্রীয় দায়িত্বও পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৪ সালের ২৭ অক্টোবর অন্তর্বর্তী সরকার তাকে বাংলা একাডেমির সভাপতি হিসেবে নিয়োগ প্রদান করে। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারে ভূষিত হন।
আবুল কাসেম ফজলুল হক অত্যন্ত বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তিনি সর্বদা তরুণ প্রজন্মকে পড়ালেখার প্রতি আকৃষ্ট করতে চাইতেন। আমার সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি আছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে একসঙ্গে অতিথি হিসেবে থাকার সুযোগ পেয়েছি। টেলিভিশনে সমসাময়িক ঘটনাবলি, বাংলা ভাষা ও সাহিত্য নিয়ে তার সঙ্গে একত্রে কথা বলেছি। যখনই দেখা হতো, তখনই শুধু খোশগল্পে মেতে না থেকে জানতে চাইতেন–এখন কী নিয়ে কাজ করছি, কী লিখছি। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে তার ভাবনাগুলো তিনি ভাগাভাগি করতেন। সর্বদা দেশমাতৃকার কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা দিতেন। তিনি কিছুতেই নিরাশ হতেন না। জীবন ও জগতের মধ্যে একটি সংযোগ তৈরি করার চেষ্টা তার মধ্যে সর্বদা লক্ষ করা যেত।
দার্শনিক, সাহিত্যিক ও চিন্তকেরা সমাজের মানুষকে জাগ্রত করেন। নিজেদের প্রতি তাদের বিশ্বাস অটুট থাকে। টি এস এলিয়ট বলেছেন, 'I can never see that poetry can ever be separated from something which I should call belief.' কবিতার জন্ম কবির বিশ্বাস থেকে। কবিরা স্বপ্ন দেখান, কবিরাই বিপন্ন মানবতাকে তুলে ধরেন। কবিতা তাই বইয়ের পাতা ঘিরে থাকে না; কবিতা থাকে মানুষের মননে ও চেতনায়। শেষ পর্যন্ত কবিতাই সত্য, কবিতাই শক্তি। এই সত্য ও শক্তি কবিকণ্ঠে ধ্বনিত হয়ে জগত হয় সুন্দর। সেই সুন্দরের অপর নাম জীবন। মূলত জীবনই একটি অনবদ্য কবিতার নাম। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন এই চিন্তার এক মহান সারথি।
অহংবোধ মানুষকে ব্যক্তি ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। অল্পজ্ঞানই এর প্রধান কারণ। প্রকৃত লেখক, কবি ও গবেষকেরা কখনো জ্ঞান নিয়ে অহংকার করেন না। তারা জানেন, অহংকার পতনের মূল। এ প্রসঙ্গে জালালুদ্দিন রুমির গল্পটি প্রাসঙ্গিক হবে–তিনি ছোটকাল থেকেই পড়ালেখায় মনোযোগী ছিলেন। কোথাও গেলে প্রচুর বইপত্র নিয়ে যেতেন। এমনও শোনা যায় যে সাতটি উটের ওপর তিনি বিভিন্ন কিতাব নিয়ে যেতেন। একদিন তিনি বই পড়ছিলেন, এমন সময় এক পাগল এসে তাকে জিজ্ঞেস করল, 'রুমি কী করছ?' রুমি উত্তর দিলেন, 'তুমি এসব বুঝবে না।' কিছুক্ষণ পরে তার বইপত্রে আগুন লেগে গেল। তখন তিনি পাগলকে জিজ্ঞেস করলেন, 'এসব কী হচ্ছে?' পাগল উত্তর দিল, 'এসব তুমি বুঝবে না।'
রুমি বুঝতে পারলেন লোকটি সাধারণ কোনো পাগল নয়, একজন আধ্যাত্মিক সাধক। কিছুক্ষণ পর পাগলকে আর দেখা গেল না। রুমি বুঝলেন, তার অহংকার করা ভুল হয়েছে। তিনি যে জ্ঞান আহরণ করেছেন, তার চেয়ে ওই পাগলের জ্ঞান অনেক বেশি। তাই তিনি অধিক জ্ঞান আহরণের জন্য উদ্যত হলেন এবং আধ্যাত্মিক গুরু খুঁজতে লাগলেন। পরে শামস তাবরিজির কাছে গিয়ে তিনি দীক্ষা নিলেন এবং একাকী ধর্মচর্চা শুরু করলেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ 'মসনবি' এখনো আধ্যাত্মিক জ্ঞান অর্জনে এক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্য।
জ্ঞানীরা সমাজকে পাহারা দেন; তারা সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করেন। চীনে মহাপ্রাচীর তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিলেন সম্রাট শিন হুয়া। তিনি প্রজাদের খুব ভালোবাসতেন। তিনি বিখ্যাত ছিলেন, তবে তার কিছু ভ্রান্তিও ছিল। তিনি যখন সিংহাসনে আরোহণ করেন, তখন চীনে বড় একটি লাইব্রেরি ছিল। সিংহাসনে বসার পর তিনি সেই বিখ্যাত লাইব্রেরি পুড়িয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কারণ, এতে বিখ্যাত ব্যক্তিদের জীবনী ছিল। তার ধারণা ছিল, ওই সব বই পড়লে মানুষ তো আর রাজার জীবনী পড়বে না। কনফুসিয়াস ওই সময়ের একজন চীনা দার্শনিক ও জ্ঞানী ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ওই লাইব্রেরিটি রক্ষা করেছিলেন এবং তার কারণেই শিনহুয়ার ওই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।
শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয় শিক্ষক ও বাবা-মায়ের দ্বারা। বিখ্যাত ব্যবসায়ী বিল গেটস তার মায়ের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। বিল গেটসের জীবনে তার মায়ের সেরা তিনটি উপদেশ ছিল–স্কুলের ফল নিয়ে এসে যখন মাকে দেখালেন, মা দেখলেন তিনি শূন্য পেয়েছেন। বিল গেটস বললেন, 'এই নম্বর আর কয়জন পেয়েছে? আমি একাই পেয়েছি।' মা বললেন, 'আমি খুব খুশি হয়েছি। তুমি দশ, বিশ, চল্লিশ বা আশি পেলেও আমি এত খুশি হতাম না। কারণ তুই একদম শূন্য পেয়েছিস। এখন এই শূন্য থেকেই শুরু কর।' এরপর তার মা তিনটি উপদেশ দেন—
এক. প্রচুর বই পড়তে হবে। ক্লাসের পড়ার বাইরেও একটি বিশাল জগৎ রয়েছে; সে সম্পর্কে জানতে হলে বই পড়তে হবে।
দুই. তুমি যেরকম চিন্তা করবে, জীবন সেভাবেই গড়ে উঠবে। কখনো ছোট চিন্তা করবে না, বড় বড় চিন্তা করবে। এমন চিন্তা করবে যা নিজের কাছেই অসম্ভব মনে হয়।
তিন. জীবনে এমন কাজ করবে যা অন্য কেউ করে না; ভিন্ন চিন্তা করবে। নিজেই নিজের পথ তৈরি করবে এবং অন্যকে স্বপ্ন দেখাবে।
একবার বিল গেটসকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সুপারহিরোদের যেমন অতিমানবীয় ক্ষমতা থাকে, আপনাকে যদি তেমন ক্ষমতা দেওয়া হয়, তাহলে আপনি কী চাইতে চাইবেন? তিনি সবাইকে চমকে দিয়ে উত্তর দিয়েছিলেন, 'আমি যাতে দ্রুত বই পড়ে শেষ করতে পারি, সেই ক্ষমতাই চাইব।' তিনি তার সাফল্যের রহস্য হিসেবে বই পড়ার অভ্যাসকেই তুলে ধরেন।
বই বাছাই এমন হওয়া উচিত, যা জীবনে অনন্য মূল্যবোধ যোগ করে। বইটি পড়ার পূর্বে একজন মানুষ যেমন থাকে, তা পড়া শেষ করার পর সে যেন পরিবর্তিত একজন মানুষ হয়ে ওঠে। বাইরে থেকে দেখতে আগের মতোই লাগলেও, ভেতরে ভেতরে মনমানসিকতায় অনেক কিছুই বদলে যাওয়া উচিত।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক তার শিক্ষার্থীদের মাঝে এভাবেই নিজের চিন্তা সঞ্চারিত করে সমাজ বদলাতে ভূমিকা পালন করেছেন। চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে তিনি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলেছেন এবং সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠায় অবিচল ছিলেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন একজন নীতিবাদী রাজনৈতিক দার্শনিক। তার প্রতিটি লেখায় উন্নত ভবিষ্যৎ সৃষ্টির চিন্তা ও আশার প্রকাশ থাকে। তার কর্মমুখী চিন্তাশীলতা সরাসরি বাস্তব অনুশীলনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। রাষ্ট্র, সমাজ, মানুষ, রাজনীতি, অর্থনীতি, দর্শন, মনোবিজ্ঞান, নীতিবিজ্ঞান, জ্ঞানতত্ত্ব, ইতিহাস প্রভৃতি বিষয়ে তার যুক্তিগ্রাহ্য ও বুদ্ধিদীপ্ত গবেষণামূলক রচনা আমাদের চেতনা ও বিবেচনাবোধকে শাণিত ও সমৃদ্ধ করে চলেছে। তিনি দেশের শ্রমিক, কৃষক এবং মেহনতি মধ্যবিত্ত সাধারণ জনগণের একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিত্ব। তিনি বাংলাদেশের মানুষের মুক্তি, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নতির জন্য আজীবন লিখেছেন এবং দেশ ও সমাজের অগ্রগতির বিষয়ে সব সময় চিন্তাশীল থেকেছেন।
আবুল কাসেম ফজলুল হক কেবল নিজের কথা ভাবেননি। তিনি সারা জীবন অসাম্প্রদায়িক চেতনা লালন করেছেন, যা আজ বাংলাদেশের মানুষের কাছে এক আরাধ্য স্বপ্ন। কেবল নিজের জন্য ভাবাই দার্শনিক ও চিন্তকদের কাজ নয়। যারা কেবল নিজেদের নিয়ে ভাবেন, তারা মানুষের মাঝে বেঁচে থাকতে পারেন না; মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তাদের নাম মুছে যায়।
এইচ জি উইডোসন বলেছেন, ‘His memory is as dear today, as in the hour he passed away’—আজ তার স্মৃতি আপন হয়েছে কারণ কালে সে চলে গিয়েছে।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ছিলেন সমাজের বাতিঘর। তিনি চিন্তা ও মননের দিক থেকে এক স্বচ্ছ মানুষ ছিলেন। আজীবন জনমানুষের মুক্তির বার্তা দিতে হাতে কলম ধরেছেন। শিক্ষার্থীরা যাতে দেশের প্রকৃত নাগরিক হতে পারে, সেই চেষ্টা করে গেছেন নিরন্তর।
জীবনসায়াহ্নেও তিনি থেমে থাকেননি; অবিরত কাজের মাধ্যমে জনকল্যাণে সরব থেকেছেন। তিনি প্রয়াত হয়েছেন। তার কাছ থেকে হয়তো আর নতুন কোনো লেখা পাওয়া যাবে না বা সমাজ ও সংস্কৃতি পরিবর্তনে আর কোনো বক্তৃতাও তিনি দেবেন না। তাই আমাদের তার সৃষ্টিসমূহ অনুশীলন করতে হবে। তার লেখাগুলো ছড়িয়ে দিতে হবে তরুণ প্রজন্মের কাছে। তার লেখার মর্মার্থ অনুধাবনের মধ্য দিয়েই আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তাকে সমাজে আরও প্রসারিত করা সম্ভব। তার আলোর দিশারি লেখা ও কথা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে দ্যুতি ছড়াবে বলে আমার বিশ্বাস।
লেখক: অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও পরিচালক, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট