পড়ার ঘরের যে বৈঠক থেকে এসেছিল যুদ্ধের মোড় ঘোরানো সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের নানা স্তরের কৃতিত্ব নিয়ে বিস্তর রেষারেষি থাকলেও খুব সম্ভবত মুজিবনগর সরকার পরিচালনার কৃতিত্বের ক্ষেত্রে মতভেদ খুব কম। প্রায় সবাই স্বীকার করেন ১৯৭১ সালে মুজিবনগর সরকারের প্রাণভোমরা ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদ। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর গভীর আস্থা অর্জন এবং অস্থায়ী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিখাঁদ দেশপ্রেম, নিষ্ঠা, সততা ও কৃচ্ছ্রতার পরিচয় দেওয়ায় যুদ্ধদিনের তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন সাড়ে সাত কোটি বাঙালির অবিচল আস্থার প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী বা মুজিবনগর সরকার মেহেরপুরের আমবাগানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেয় ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল। যদিও এর আগে ১০ এপ্রিল এই সরকারের ঘোষণা দিয়ে বেতারে তাজউদ্দীন আহমদের ভাষণ সম্প্রচারিত হয়েছিল। বাংলার বুকে পাকিস্তানি গণহত্যা শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় এই সরকারের ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে এগিয়ে নিতে একটি বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
অনানুষ্ঠানিক ওই বৈঠকটি ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল রাত ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল দিল্লিতে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সফদর জং রোডের বাসভবনে। বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন আহমদের মধ্যে। ফলাফল নির্ধরণী এই বৈঠকটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানার আগে এর প্রেক্ষাপট জানা প্রয়োজন।
ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় পূর্ব বাংলার মানুষের স্বশাসনের অধিকারের আন্দোলনের প্রতি ভারত অনেক আগে থেকেই নজর রাখছিল। এরপর ২৫ মার্চ কালরাতে গণহত্যা শুরু হলে ভারতীয় বিশেষ করে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রতি প্রবল জনমত তৈরি হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই সমর্থন ও আবেগ ছিল সবচেয়ে বেশি। যার ধারাবাহিকতায় ৩১ মার্চ পূর্ব বাংলার মানুষের প্রতি সংহতি জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অভূতপূর্ব এক হরতাল পালিত হয়েছিল।
এই উপমহাদেশে একদেশের মুক্তি সংগ্রামের সমর্থনে অন্যদেশে স্বতঃস্ফূর্ত হরতাল পালিত হওয়ার ঘটনা খুব সম্ভবত এটাই প্রথম। ঠিক একই দিন অর্থাৎ ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ আরও একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে ভারতীয় লোকসভায়। পূর্ব বাংলার মানুষের ওপর বর্বর গণহত্যার নিন্দা ও মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে সহযোগিতার জন্য এদিন সর্বসম্মতিক্রমে একটি প্রস্তাব পাস হয়। ফলে বাংলাদেশের মুক্তিসংগ্রামে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র তৈরি হয়।
এদিকে প্রতিকূল পরিস্থিতি ও পথ পাড়ি দিয়ে ৩০ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার জীবননগর সীমান্তে পৌঁছান তাজউদ্দীন আহমদ ও আওয়ামী লীগ নেতা ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম। সেখানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা আইজি গোলক মজুমদারের সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়। সেখান থেকে তারা কলকাতা যান। পরে ১ এপ্রিল রাশিয়ান এএন-১২ সামরিক উড়োজাহাজে পৌঁছান দিল্লি। তাজউদ্দীন আহমদেরও লক্ষ্য ছিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মুক্তিযুদ্ধকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।
তাজউদ্দীন আহমদের সঙ্গে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ১৯৭১ সালের ৩ এপ্রিল। কোনো সুসজ্জিত কনফারেন্স রুমে নয়, বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রীর পড়ার ঘরে (স্টাডি রুম)। এটা ছিল অনানুষ্ঠানিক ও কিছুটা গোপন বৈঠক। তাই খুব সম্ভবত এর কার্যবিবরণীও কোথাও লিপিবদ্ধ নেই, ছবি তো নেই-ই। রাত দশটায় শুরু হওয়া সেই বৈঠকেই নির্ধারিত হয়েছিল বাংলাদেশের ভাগ্য।
ভারতীয় সংবাদপত্র ‘দ্য স্টেটম্যান’-এর সাংবাদিক মানষ ঘোষ উল্লেখ করেছেন, বৈঠকের শুরুতে আধাঘণ্টা তাজউদ্দীনের কথা শোনেন ইন্দিরা গান্ধী। বিভিন্ন নথিপত্র থেকে বিএসএফের তৎকালীন প্রধান কে এফ রুস্তমজী (খসরু ফরমোরজ), ইন্দিরা গান্ধীর মুখ্যসচিব পিএন হাকসার (পরমেশ্বর নারায়ণ), প্রতিরক্ষামন্ত্রী জগজীবন রাম ও গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর একজন অফিসারের সঙ্গে বৈঠকের সংশ্লিষ্টতার কথা জানা যায়।
৩ এপ্রিল প্রথম বৈঠকের ধারাবাহিকতায় পরদিন ৪ এপ্রিল তাজউদ্দীনের সঙ্গে আরেকটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। যতদূর জানা যায়, পরদিনের বৈঠকে ইন্দিরা গান্ধী নয়, উপস্থিত ছিলেন তার আস্থাভাজন বিশেষ সহকারীরা, যেখানে চূড়ান্ত হয়েছিল বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের যুগান্তকারীসব সিদ্ধান্ত।
আলোচিত এই বৈঠকের একটি বর্ণনা পাওয়া যায় ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলামের বয়ানে। ১৯৯১ সালে প্রকাশিত ‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন, ‘ইন্দিরা গান্ধী প্রথম প্রশ্ন করেন, হাউ ইজ শেখ মুজিব, ইজ হি অলরাইট? এই প্রশ্ন সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত ছিলাম। কেননা এই প্রশ্নের সম্মুখীন আমাদেরকে আরো অনেকবার হতে হয়েছে। মিসেস গান্ধীর প্রশ্নের জবাবে তাজউদ্দীন ভাই বলেন, বঙ্গবন্ধু আমাদের দায়িত্ব দিয়ে পাঠিয়েছেন। তিনি তাঁর স্থান থেকে আমাদের নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। আমাদের বিশ্বাস তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। ২৫শে মার্চের পর তাঁর সাথে আমাদের আর যোগাযোগ হয়নি। সাক্ষাতে তাজউদ্দীন ভাই আরো বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যে কোন মূল্যেই এই স্বাধীনতা আমাদের অর্জন করতে হবে।’ (পৃষ্ঠা: ৩১, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি)
ওই বৈঠকে ইন্দিরা গান্ধী তাজউদ্দীনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, যুদ্ধ পরিচালনার জন্য কোনো সরকার গঠিত হয়েছে কি না? তাজউদ্দীন সে সময় জবাব দেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এরইমধ্যেই সরকার গঠিত হয়েছে। যদিও সে সময় প্রকৃতপক্ষে কোনো সরকার গঠিত হয়নি। খুব সম্ভবত তাজউদ্দীন মুক্তিযুদ্ধকে এগিয়ে নিতে আগ বাড়িয়ে এ কথা জানিয়েছিলেন।
এ সময় তাজউদ্দীন আহমদ ইন্দিরা গান্ধীকে জানান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব এরইমধ্যেই বাংলাদেশের সরকার গঠিত হয়েছে। ‘দ্য স্টেটম্যান’-এর সাংবাদিক মানষ ঘোষের ‘বাংলাদেশ ওয়ার: রিপোর্ট ফ্রম গ্রাউন্ড জিরো’ গ্রন্থে ‘দ্য ইন্দিরা-তাজ মিটিং’ শিরোনামের এক নিবন্ধে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়। তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘ভারতীয় সরকারের কাছে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের জন্য অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ সাহায্য কামনা করেন তাজউদ্দীন। একইসঙ্গে কামনা করছেন শরণার্থীদের জন্য আশ্রয় ও খাদ্য। আলোচনার সরকার গঠিত হওয়ার কথা অবহিত হওয়ার পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, এই সরকার সম্পর্কে ভারতীয় ও বিশ্ববাসী খুব একটা জানে না। তাই আন্তর্জাতিক মহলের স্বীকৃতি ও সমর্থন, এমনকি ভারতীয়দের সবার্ত্মাক সহযোগিতার জন্য এই সরকারের প্রকাশ্যে আসা উচিত। এ সময়ই ইন্দিরা গান্ধীই ইঙ্গিত দেন, এই সরকারের আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের সামনে শপথ নেওয়া জরুরি।’ (পৃষ্ঠা: ১০৫-১০৬, বাংলাদেশ ওয়ার: রিপোর্ট ফ্রম গ্রাউন্ড জিরো)
দুই দফার ওই বৈঠকের পরপরই ৭ এপ্রিল থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতীয় সীমান্ত উন্মুক্ত করা হয়। ৮ এপ্রিলেই প্রবাসী সরকারের বিবৃতি ও দলিলের অনুবাদ সম্পন্ন হয়। একইসঙ্গে এ সময় সরকার গঠন সম্পর্কিত তাজউদ্দীন আহমদের বিবৃতি রেকর্ড করা হয়। যে বিৃবতি বা সরকার গঠনের ঘোষণা ১০ এপ্রিল বেতারযোগে সম্প্রচার করা হয়েছিল।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ১০ এপ্রিল স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু হয়নি। তাই এই ঘোষণাটি শিলিগুড়ির একটি অনিয়মিত বেতার থেকে সম্প্রচার করা হয়, যার সিগন্যাল ছিল খুবই দুর্বল। তাই পরদিন ১১ এপ্রিল আবার এই ঘোষণা আকাশবাণী থেকে পুনরায় সম্প্রচার করা হয়েছিল।
দিল্লিতে তাজউদ্দীন ও ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের ফলাফল নিয়ে একটি বিশ্লেষণ পাওয়া যায় মঈদুল হাসানের ‘মূলধারা ৭১’ গ্রন্থেও। উল্লেখ করা যেতে পারে, ১৯৭১ সালে মঈদুল হাসান মুজিবনগর সরকারের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন ঐতিহাসিকসব ঘটনাপ্রবাহ।
‘মূলধারা ৭১’ বইয়ে তিনি লিখেছেন, ‘এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে গুরুত্বপূর্ণ যে দুটি সিদ্ধান্ত ভারত সরকার গ্রহণ করেন, তার প্রথমটি ছিল ভারত সীমান্ত উন্মুক্ত করার এবং দ্বিতীয়টি ছিল বাংলাদেশ সরকারকে ভারতীয় এলাকায় রাজনৈতিক কর্মতৎপরতা চালাবার অধিকার দান করার। এই দুয়েরই তাৎপর্য ছিল সুদূরপ্রসারী। এই কারণে উভয় সিদ্ধান্ত সম্পর্কেই ভারতীয় মন্ত্রিসভার অভ্যন্তরে এবং উচ্চতর প্রশাসনিক মহলে—বিশেষত পাশ্চাত্যপন্থী অংশের পক্ষ থেকে জোরাল আপত্তি ওঠে। আন্তর্জাতিক ও কূটনৈতিক শালীনতার বিষয় ছাড়াও উপরোক্ত দুই সিদ্ধান্ত ভারতের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, সে সম্পর্কে উত্থাপিত প্রশ্ন প্রকাশ্য বিরোধিতার রূপ নেবার আগেই ইন্দিরা গান্ধী মূলত একক সিদ্ধান্ত আরোপ করেই সকল মতবিরোধের অবসান ঘটান। মার্চ মাসের সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেসের দক্ষিণপন্থীদের বিরুদ্ধে বিপুলভাবে জয়যুক্ত না হলে তাঁর পক্ষে এই দুই সিদ্ধান্ত এমনিভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হত কি না বলা কঠিন।’ (পৃষ্ঠা: ১৩, মূলধারা ৭১)
ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্তের প্রতিফলন পাওয়া যায় সামনের দিনগুলোতেও। ভারতীয় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় একটি ডাকোটা উড়োজাহাজে করে সীমান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের খুঁজতে বের হন তাজউদ্দীন আহমদ। লক্ষ্য ছিল প্রবাসী সরকারের শপথ অনুষ্ঠান।
প্রথমে শপথ অনুষ্ঠান চুয়াডাঙ্গায় হওয়ার কথা থাকলেও পরে তা মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলার আমবাগানে অনুষ্ঠিত হয়। ১৭ এপ্রিল বিশ্ববাসীর সামনে আত্মপ্রকাশ করে মুজিবনগর সরকার। এই সরকারের শপথ ও অন্যান্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছিল ভারতীয় প্রধামন্ত্রীর সঙ্গে তাজউদ্দীন আহমদের ওই ঐতিহাসিক বৈঠকেই।
টিকা: প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর যে বাড়িতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সফদর জং রোডের সেই বাড়িতেই ১৯৮৪ সালে তিনি আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। পরে ওই বাড়িটি ইন্দিরা গান্ধী মেমোরিয়ায়ে রূপান্তর করা হয়। বর্তমানে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন দিল্লির কেন্দ্রস্থল ৭, লোক কল্যাণ মার্গে অবস্থিত।
(রাহাত মিনহাজ: সহকারী অধ্যাপক, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা)
তথ্যসূত্র:
আহমদ, মহিউদ্দিন, (২০২৩) ১৯৭১: ভারতেরে বাংলাদেশ যুদ্ধ, ঢাকা: প্রথমা প্রকাশন।
হাসান, মঈদুল (২০১০) মূলধারা ৭১, ঢাকা: ইউপিএল
ইসলাম, আমীর-উল (১৯৯১) মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি, ঢাকা: কাগজ প্রকাশনা
সাক্ষাৎকার ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম (২০১৫)
Ghosh, Manash (2021) Bangladesh War: Report from ground zero, New Delhi: Niyogi Books.