জিঞ্জিরা গণহত্যা

‘তারা জিজ্ঞেস করছিল, মন্টু কৌন হ্যায়?’

আহমাদ ইশতিয়াক
আহমাদ ইশতিয়াক

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে জিঞ্জিরা গণহত্যা এক ভয়াল অধ্যায়। মুক্তিযুদ্ধের আজকের দিনে ২ এপ্রিল কেরানীগঞ্জের তিনটি ইউনিয়নের ৩০টিরও বেশি গ্রামে সংঘটিত এই গণহত্যায় শহীদ হন অন্তত আড়াই হাজার মানুষ।

জিঞ্জিরা গণহত্যা চলাকালীন সময়ে কেরানীগঞ্জের একটি গ্রামে অবস্থান করছিলেন তৎকালীন ছাত্রনেতা, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠক ও কেরানীগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা মোহসীন মন্টু। ২৫ মার্চের গণহত্যার পর ঢাকা ছেড়ে কেরানীগঞ্জে এসে মুক্তিযোদ্ধাদের সংগঠিত ও সাধারণ মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনি।

২০২৫ সালের ১৫ জুন মৃত্যুবরণ করেন মোস্তফা মোহসীন মন্টু।

২০২২ সালের মার্চে দ্য ডেইলি স্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন জিঞ্জিরা গণহত্যার পৈশাচিকতা ও পরিকল্পনা নিয়ে।

দ্য ডেইলি স্টার: মুক্তিযুদ্ধে বড় গণহত্যার কথা বললে প্রথমেই জিঞ্জিরা গণহত্যার নাম আসবে। জিঞ্জিরা গণহত্যার প্রেক্ষাপট আসলে কী? কেন পাকিস্তানি বাহিনী সেদিন কেরানীগঞ্জকেই বেছে নিয়েছিল?

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: ২৫ মার্চ ঢাকায় গণহত্যার পর প্রায় দেড় থেকে ২ লাখ মানুষ বুড়িগঙ্গা পার হয়ে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে আশ্রয় নিয়েছিলেন। এর মধ্যে জিঞ্জিরা, কালিন্দী, শুভাঢ্যা ইউনিয়নে ছিলেন সবচেয়ে বেশি মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে, কেউ বিচ্ছিন্নভাবে ছিলেন। বেশিরভাগই সেখানে আশ্রয় নেওয়ার দু-একদিনের মধ্যেই বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যাচ্ছিলেন।

আমরা নেতাকর্মীরা যারা জিঞ্জিরায় নতুন করে মুক্তিবাহিনীকে সংগঠিত করছিলাম, তারা জিঞ্জিরা গণহত্যার অন্যতম লক্ষ্য ছিলাম। আবার ঢাকা ছেড়ে কেরানীগঞ্জে আশ্রয় নেওয়া মানুষও তাদের লক্ষ্য ছিলেন।

আমরা ২৫ মার্চ রাতেই ঢাকা থেকে পালিয়ে কেরানীগঞ্জে আশ্রয় নিয়েছিলাম। যত দ্রুত সম্ভব কেরানীগঞ্জ গিয়ে নেতাকর্মীদের সংগঠিত করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আমাকে।

আমার বাড়ি ছিল নেকরোজবাগে। নানার বাড়ি হলেও ওখানেই আমার যাতায়াত বেশি ছিল। নেকরোজবাগ গ্রামে এসেই আমি ট্রেনিং ক্যাম্প খুলি। এরপর জাতীয় নেতারা আসতে শুরু করলেন। শেখ ফজলুল হক মণি, তোফায়েল আহমেদ, সিরাজুল আলম খান, আবদুর রাজ্জাক, নূরে আলম সিদ্দিকী, শাহজাহান সিরাজ, আ স ম আবদুর রবসহ প্রভাবশালী ছাত্র নেতারা এলেন। কেবল আবদুল কুদ্দুস মাখন ছিলেন না। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া চলে গিয়েছিলেন।

আমাদের বাড়ির পাশে আম বাগান ছিল। ওই আম বাগানেই কে কোন দিক দিয়ে যাবেন, তা নিয়ে আলোচনা হলো। আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী রয়ে গেলেন। বিভিন্ন বাড়িতে তাদের রাখা হলো। বাকিরা চলে গেলেন।

ঢাকা থেকে যারা এদিক দিয়ে যাবেন, তাদের থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত ছিল আমাদের দায়িত্ব। এরইমধ্যে তাজউদ্দীন সাহেব, ব্যারিস্টার আমীর-উল-ইসলাম সাহেব এলেন। তাদেরকেও আমরা নিরাপদেই পার করলাম।

তখনই বুঝতে পেরেছিলাম, পাকিস্তানি বাহিনী আমাদের ওপর আক্রমণ চালাতে পারে। বাঙালি গোয়েন্দারা আমাদের বলেছিলেন, ‘সাবধানে থাকবেন। ওরা কিন্তু আমাদের কাছ থেকে আপনাদের প্রচুর খবর নিচ্ছে। আমরা মিথ্যা কথাই বলছি, উল্টাপাল্টা খবর দিচ্ছি। কিন্তু তারা আরও বেশ কয়েকজনকে লাগিয়ে রেখেছে। ওদের লোকজন ভীষণ সক্রিয়।’

ডেইলি স্টার: হামলা যে আসন্ন, তার আভাস কীভাবে পেলেন?

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: ১ এপ্রিল সন্ধ্যার দিকে খবর পেলাম, উচ্চপদস্থ কয়েকজন পাকিস্তানি অফিসার মিটফোর্ড হাসপাতালে রেকি করে গেছে। আর্মি অফিসাররা কেন এল, আমরা বুঝলাম না। ওরা কি হাসপাতাল দখলে নিতে চায়? নাকি অন্য কিছু? তবে আমরা আমাদের বিভিন্ন পয়েন্টে খবর দিলাম।

হামলার আশঙ্কায় আমরা আগেই প্রতিটি গ্রামে ও ঘাটে পাহারা বসিয়েছিলাম। আমাদের নিজেদের মধ্যে যোগাযোগের জন্য সাইকেল ছিল। স্থানীয় ছেলেরা সাইকেল নিয়ে এক পয়েন্ট থেকে আরেক পয়েন্টে খবর পৌঁছে দিত।

ডেইলি স্টার: আক্রমণ কীভাবে শুরু হলো?

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে খবর পেলাম, পাকিস্তানি আর্মি গানবোট থেকে জিঞ্জিরার দিকে নামছে। এর আগে নদীর ওপারে বিভিন্ন জায়গায় পয়েন্টে পয়েন্টে ওরা লঞ্চ রেখেছিল। ওই লঞ্চ থেকে নেমে খুব গোপনে খাল ও নদী দিয়ে ঢুকছিল তারা।

ভোররাত ২টা-৩টার দিকে খুবই নীরবে তারা আসে। তাদের পজিশন যখন ঠিক হয়ে যায়, তখন ভোররাত সাড়ে ৩টা বা ৪টা হবে। তখন ট্রেসার লাইটের মতো কিছু একটার আলোয় পুরো আকাশ আলোকিত হয়ে গেল। এরপর ওরা মর্টার শেল ছুড়তে শুরু করল।

পাকিস্তানি সেনারা এরপর পেছন দিকে কাঁটাতারের দিয়ে বেড়া দিতে শুরু করল। যেখানেই ফাঁকা পাচ্ছে, সেখানেই বাঁশের খুঁটির সঙ্গে কাঁটাতার দিয়ে ঘেরাও করে ফেলছে। বাঁশঝাড়, বাড়ির পাশে বা বিলের দিকে যেখানে একটু ফাঁকা আছে, সেখানেই। যেন কেউ পালাতে না পারে।

ওরা ভেবেছিল, সামনের দিক থেকে আক্রমণ করলে মানুষ পেছনের দিক দিয়ে পালাতে যাবে। সেটা যেন করতে না পারে, সেজন্যই কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হচ্ছিল।

এরপর পাকিস্তানি আর্মি বসতির দিকে আসতে শুরু করল। কিছু কিছু আর্মি সামনের দিক থেকে একটানা গুলিবর্ষণ শুরু করল। লোকজন ছোটাছুটি করে পেছনের দিকে গিয়ে পেল কাঁটাতারের বেড়া। ওরা আর পালাতে পারল না। সবাইকেই ব্রাশফায়ারে হত্যা করল পাকিস্তানি বাহিনী। এভাবে সকাল পর্যন্ত একটানা গুলি চালাল তারা।

ডেইলি স্টার: ছাত্রনেতারা অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিলেন। স্থানীয় মানুষের কাছে শুনেছি, আপনাকেও খুঁজেছিল তারা। কিন্তু চিহ্নিত করতে পারল না। এটি কীভাবে সম্ভব হলো?

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: আমরা ছাত্রনেতাদের কয়েকটি গ্রামের কয়েকটি বাড়িতে রেখেছিলাম। ছাত্রনেতাদের মধ্যে আ স ম আবদুর রব, শাহজাহান সিরাজ, নূরে আলম সিদ্দিকী তখন সেখানেই ছিলেন। আমার নিজের অবস্থান ছিল অনেকটা ছোটাছুটির মধ্যে।

আমি বারবার অবস্থান বদল করছিলাম। যেখানেই পাকিস্তানি আর্মির উপস্থিতি দেখা যেত, আমি সতর্ক হয়ে যেতাম। ওই এলাকা তো আমার হাতের তালুর মতোই চেনা।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আমাকে বলেছিলেন, ঘাটে ঘাটে তারা জিজ্ঞেস করেছে, ‘নারিকেলবাগ কিধার হ্যায়? মন্টু কৌন হ্যায়?’ কিন্তু তারা বলেননি।

নারিকেলবাগ আসলে নেকরোজবাগ। নেকরোজবাগ উচ্চারণ করতে পারত না বলে ওরা বলতো নারিকেলবাগ। সবচেয়ে সৌভাগ্যের বিষয় হলো, আমার অবস্থান একটা লোকও চিনিয়ে দেননি। আমার নাম ধরে ধরে ওরা জিজ্ঞেস করেছে প্রতিটা ঘাটে। মানুষ মারা যাচ্ছেন, গুলি খাচ্ছেন। কিন্তু কেউ আমার গ্রাম চিনিয়ে দেননি। আমি তাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ। বিপদের মুখেও তারা আমাকে বাঁচিয়েছেন।

ডেইলি স্টার: জিঞ্জিরা গণহত্যায় কতো মানুষ শহীদ হয়েছিলেন? কেউ বলেন ২ হাজার, কেউ ৩ হাজার, কেউ ৫ হাজার। কেউ তারও বেশি বলেন। শহীদের সংখ্যা কত হতে পারে বলে আপনার ধারণা?

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: শহীদের সংখ্যা নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। এর প্রধান কারণ, সেখানে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারা শহীদ হননি। স্থানীয় শহীদের সংখ্যা ৩০০-৪০০ হবে। ২৫ মার্চের পর যারা ঢাকা থেকে পালিয়ে এসেছিলেন এবং সেখানে রয়ে গিয়েছিলেন, তারাই মূলত শহীদ হয়েছিলেন। এই শহীদদের স্বজনরা হয়তো জানেনই না তাদের স্বজন বা পরিবারের সদস্যরা এখানে শহীদ হয়েছেন।

ডেইলি স্টার: শহীদের সংখ্যা নিরূপণে কি কখনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল? এখন কি সেটা সম্ভব?

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: না। ওটা হয়নি। হলে ভালো হতো। সেল গঠনের মাধ্যমে করা যেত। বিশেষ করে শেষ তিনদিন যাদের স্বজনরা এই পথ দিয়ে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন, তাদের কাছ থেকে তথ্য নেওয়া যেত।

আমরা বহুবার চেয়েছি, কিন্তু করা যায়নি। এই যে স্মৃতিসৌধটা আছে বর্তমানে, সেটি বিএনপির আমলে আমানউল্লাহ আমান সাহেব (কেরানীগঞ্জের বর্তমান সংসদ সদস্য) করে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, করতে চান। আমরা বললাম, আমাদের সহযোগিতা পাবেন। মানুষ সহযোগিতা করতে রাজি। কিন্তু সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে।

আমরা নিজেরাই উদ্যোগ নিয়ে একটা অনুষ্ঠান করি। এটাতেই শেষ। আমরা বহুবার বলেছি, এটিকে অন্তত দিবস হিসেবে পালন করা হোক। তাহলে জিঞ্জিরা গণহত্যা যে কতটা পৈশাচিক ও নির্মম ছিল, তার কিছুটা হলেও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম অনুধাবন করতে পারবে।

ডেইলি স্টার: কেরানীগঞ্জের মানুষ শুরু থেকেই ২৫ মার্চ পরবর্তীতে ঢাকা ছেড়ে যাওয়া মানুষদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। গ্রামের বাসিন্দারা নিজেদের বাড়িঘর আশ্রয়প্রত্যাশীদের জন্য ছেড়ে দিয়েছিলেন।

মোস্তফা মোহসীন মন্টু: সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য। আমাদের ওপর দায়িত্ব ছিল ঢাকা থেকে যারা কেরানীগঞ্জ হয়ে গ্রামের বাড়িতে যাবে, তাদের জন্য খাবার ও থাকার বন্দোবস্ত করা। লাখো মানুষ তখন প্রাণ ভয়ে ঢাকা ছাড়ছে।

তাদের সবার জন্য ব্যবস্থা করাটা ভীষণ দুরূহ হলেও গ্রামের মানুষ এবং আমরা যেভাবে পেরেছি ব্যবস্থা করেছি। তাদের কারো কাছে হয়তো পয়সা নেই, গাড়িভাড়া দিয়ে যাওয়ারও ব্যবস্থা নেই। আমরা স্থানীয় অবস্থাসম্পন্ন মানুষদের কাছে গিয়ে বলেছি, ‘ভাই, আপনারা কিছু সাহায্য করেন।’ এরপর তারা কিছু সাহায্য করলো।

এসব টাকা জড়ো করে ভাংতি নিয়ে রাস্তার পাশে বসেছে ওরা। কাউকে দুই টাকা, কাউকে পাঁচ টাকা গাড়ি ভাড়া দিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে বাড়ি থেকে পানি ভর্তি কলস-মগ নিয়ে পথের ধারে বসেছে বাচ্চা থেকে কিশোর ছেলেমেয়েরা। বিনা পয়সায় তৃষ্ণার্ত, পিপাসার্ত মানুষকে পানি খাওয়াচ্ছে। বাড়িতে চিঁড়া মুড়ি যা ছিল তাদের বাবা-মায়েরা দিয়ে দিচ্ছিল। সেগুলোই তারা রাস্তার পাশে নিয়ে বিতরণ করছে। সে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য!

মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা, বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে কীভাবে দাঁড়াতে হয়, সেটা দেখেছি একাত্তরে।

ভাবুন, নিজের বাড়িতে নিজের বাচ্চা আছে, পরিবারের সদস্যদের জায়গার সংকুলান হচ্ছে না; সেখানে তারা নিজেরা বাড়ির উঠোনে শুয়ে ঢাকা থেকে পালিয়ে আসা কয়েকটা পরিবারকে আশ্রয় দিতে ঘর ছেড়ে দিয়েছে।

নিজের বাচ্চাকে খাওয়ানোর দুধ অন্যদের দিয়ে দিচ্ছে। প্রতিটা বাড়ি যেন একেকটি লঙ্গরখানা। প্রত্যেকটি বাড়িতেই চার-পাঁচটি করে পরিবার পালিয়ে এসে আশ্রয় নিয়েছে। যার ঘরে যা আছে মানুষ উজাড় করে বিলিয়ে দিয়েছে।

আমরাও রাস্তার পাশে বেশ কয়েকটি জায়গায় পয়েন্ট করে লঙ্গরখানা করেছিলাম। জিঞ্জিরা বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা চাল-ডাল আমাদেরকে দিয়েছেন। আমরা সেগুলো দিয়ে কেবল খিচুড়ি রান্না করে বিলিয়েছি।

এক মুহূর্তের জন্য কোথাও কোনো বিরাম নেই। অনবরত রান্না হচ্ছে। মাঠের মধ্যে বিশাল লঙ্গরখানা। অনবরত মানুষ আসছে। খেয়ে আবার বেশিরভাগই চলে যাচ্ছে। ধনী-গরীব বলে কোনো বৈষম্য নেই। যেই আসছে খেয়ে চলে যাচ্ছে।

যাওয়ার সময় আমাদের ধন্যবাদ জানিয়ে যাচ্ছে। আমরাও তাদের সাহস জোগাচ্ছি।

তখনকার স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার কথা যতোই বলি কম হবে। যে যেভাবে পেরেছে সাহায্য করেছে। তখন আমরা একটি বাস রুটও চালু করেছিলাম।

তখন রাস্তায় পুরোনো মোমিন কোম্পানির বাস চলতো। ওই বাসই জিঞ্জিরা থেকে সৈয়দপুর পর্যন্ত যাত্রীদের পৌঁছে দিবে। বিলের মাঝ দিয়ে বাসটা চলতো। একেক গাড়িতে ৩০০ করে মানুষ উঠানো হতো।

গাড়িটা চালু করেছিল মূলত যেসব জায়গায় গাড়ি চলে না, কিছুটা নিচু ভূমি সেসব জায়গায়। সেই জায়গা দিয়েই শুষ্ক মৌসুমে ছয় মাস গাড়িটি চলতো। আমরা সেই গাড়িতে করে বহুদূরের যাত্রী বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছিলাম।