কেমন হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র স্থলযুদ্ধ?
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সমন্বিত হামলার আজ ৩৩তম দিন।
টানা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে বিমান হামলা চালিয়েও এই যুদ্ধ থেকে দুই শক্তিশালী দেশের লক্ষ্যগুলো এখনো পূরণ হয়নি।
ওই আরাধ্য লক্ষ্য পূরণে এবার ইরানে সীমিত ও স্বল্পমেয়াদী স্থল অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে পেন্টাগন। এমনটাই জানিয়েছে কাতারের আল জাজিরা ও যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাক্সিওস।
যে কারণে স্থল হামলার ছক যুক্তরাষ্ট্রের
সম্ভাব্য এই হামলার মূল লক্ষ্য হতে পারে ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে মজুত রাখা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ছিনিয়ে আনা।
ইরানের হাতে সমৃদ্ধকরণ-প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়া প্রায় ৪০০ কেজির বেশি উচ্চমানের ইউরেনিয়াম আছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একাধিকবার ইরানের এই ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। ইরানের এই ‘মহামূল্যবান সম্পদ’ ট্রাম্পের জন্যও অস্বস্তির কারণ।
অনেকে বলছেন, খারগ দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিতেও মার্কিন স্থল অভিযান শুরু হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুসারে—খারগ দ্বীপের মাধ্যমেই ইরানের ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়। এই দ্বীপ দখলে নিয়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে ওয়াশিংটন।
পাশাপাশি, ইরানের অর্থনীতিকে আরও চাপে ফেলা, সর্বোচ্চ চাপ দিয়ে দেশটিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মতি দিতে বাধ্য করা বা শাসকগোষ্ঠীতে পরিবর্তন আনার মতো লক্ষ্যও পূরণ হতে পারে এ ধরনের স্থল অভিযানের মাধ্যমে।
যেভাবে শুরু হতে পারে স্থল অভিযান
স্থল অভিযানের বিষয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, কীভাবে ইরানে প্রবেশ করবে মার্কিন বাহিনী। সাম্প্রতিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষণ ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে এ বিষয়ে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়।
ইরানের কেশম বা খারগ দ্বীপে সেনা মোতায়েন করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এ ক্ষেত্রে অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট বা জলে ও স্থলে, উভয় মাধ্যমে চলতে পারে এমন যান নিয়ে হামলা চালাতে পারে মার্কিন সেনা। হরমুজ প্রণালির কাছে আরও কয়েকটি দ্বীপে এই অভিযান শুরু হতে পারে।
ধারণা করা হচ্ছে, কাতারের আল উবেইদ বিমানঘাঁটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত বা বাহরাইনের নৌঘাঁটি, কুয়েত বা ইরাক থেকে এই অভিযান শুরু হতে পারে।
ইরানের সেনা সক্ষমতা
২০২৫ সালে মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের বিশ্লেষণ থেকে জানা যায়, সংখ্যার দিক থেকে ইরানের সেনাবাহিনী বেশ শক্তিশালী।
বিভিন্ন আনুষ্ঠানিক সূত্র বলছে ইরানের সেনাবাহিনী মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
মূল সেনাবাহিনী ‘আরতেশ’ ও বহুল আলোচিত বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী বা আইআরজিসি।
গত ২ মার্চ আল জাজিরা ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে দেশটির সেনাবাহিনীর জটিল ও বহুস্তরযুক্ত কাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।
তবে পরবর্তী এক মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের নিরবচ্ছিন্ন হামলার পর হয়তো পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে বলে সাম্প্রতিক অপর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
গত ২ মার্চের ওই প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের সক্রিয় সেনার সংখ্যা ছয় লাখ ১০ হাজারের মতো।
এর মধ্যে আরতেশের সদস্য তিন লাখ ৫০ হাজার থেকে চার লাখ ২০ হাজারের মধ্যে।
অপরদিকে, বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর মোট সদস্য সংখ্যা এক লাখ ৫০ হাজার থেকে এক লাখ ৯০ হাজারের মধ্যে। তাদের বেশিরভাগই স্থলবাহিনীর সদস্য।
পাশাপাশি, সাড়ে তিন লাখ ‘রিজার্ভ’ সেনা আছে ইরানের। তারা মূলত বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর সঙ্গে কাজ করে থাকে।
কেউ কেউ দাবি করেন, রিজার্ভসহ মোট সেনার সংখ্যা ১০ লাখেরও বেশি।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সেনাদের বেশিরভাগই সীমিত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন এবং তাদের অস্ত্রও মান্ধাতার আমলের।
ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধ কৌশল
এখন পর্যন্ত ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার জবাবে ইরান সাশ্রয়ী শাহেদ ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। এখন পর্যন্ত স্থল সেনাদের কোনো কার্যক্রম দেখা যায়নি।
সংবাদ প্রতিবেদন অনুসারে, বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী যুদ্ধ পরিস্থিতির মোকাবিলায় ‘মোজাইক সুরক্ষা’ নীতি তৈরি করেছে। এই নীতির মূল সুর হলো দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থাকে স্বায়ত্তশাসিত আঞ্চলিক কমান্ডে ভাগ করে নেওয়া।
এর ফলে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব অকেজো হয়ে পড়লে বা বিমান হামলায় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ধ্বংস হলেও অন্যান্য অঞ্চল থেকে প্রতিরোধ অব্যাহত থাকে।
এই নীতির আওতায় নিয়মিত সেনা (আরতেশ), বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী, বাসিজ বাহিনী ও অন্যান্য স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনীগুলো বিভিন্ন স্তরে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারবে।
মার্কিন স্থল হামলার মুখে শুরুতে প্রথাগত প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে পারে ইরান। এরপর অনিয়মিতভাবে গেরিলা হামলা, অতর্কিত হামলা, শত্রুপক্ষের সরবরাহ শৃঙ্খল বিঘ্নিত করা ও সুযোগ বুঝে দূরবর্তী অবস্থান থেকে কামানের গোলার মাধ্যমে পাল্টা হামলা চালাতে পারে ইরান।
ইতোমধ্যে রিজার্ভ সেনা সহ মোট ১০ লাখ পদাতিক সেনা প্রস্তুত রাখার দাবি করছে ইরান।
ইরানের যত অস্ত্র
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর পছন্দের অস্ত্র রাশিয়ায় নির্মিত ঐতিহ্যবাহী কালাশনিকভ অ্যাসল্ট রাইফেল।
তবে কালাশনিকভের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল একে-৪৭ এর বদলে এর উন্নত সংস্করণ একে-১০৩ এর আদলে স্থানীয়ভাবে নির্মিত ‘কপি’ কেএল-১৩৩ ব্যবহার করেন সেনারা।
একে ১০৩ রাইফেল তৈরিতে কাঠের বদলে অত্যাধুনিক প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। যার ফলে এর ওজন অনেকটাই কম। পাশাপাশি এতে উন্নত মানের ব্যারেল, আধুনিক আনুষঙ্গ (স্নাইপার স্কোপ, লেসার লাইট) যোগ করার সুবিধা থাকায় এটি আরও নিখুঁত। একই কায়দায় কেএল-১৩৩ তৈরি করা হয়।
ইরানের পুলিশ, আধা-সামরিক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী বাসিজ, রক্ষীবাহিনী, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সকল সেনা এই অস্ত্র ব্যবহার করেন।
২০২৩ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ইরান থেকে ইয়েমেনের উদ্দেশে পাঠানো অস্ত্রের চালান আটকের খবর প্রকাশ করে আল জাজিরা। চীনে বানানো টাইপ ৫৬ রাইফেল (কালাশনিকভের আদলে তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেল) ও পিকেএম মেশিনগান জব্দ করে ফরাসি কর্তৃপক্ষ।
ধারণা করা হয়, ইরানের হাতে রুশ অস্ত্রের পাশাপাশি এসব অস্ত্রের উল্লেখযোগ্য মজুত আছে।
এ ছাড়াও, গত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ইরানের সেনাদের হাতে বেরেটা পিস্তল ও শটগানও দেখা গেছে।
অপর এক সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়—ইরানের ৫০০টির মতো বহনযোগ্য ছোট কামান, ১ হাজার ৮০০ বড় কামান ও ১ হাজার ৫০০ রকেট লঞ্চার আছে।
এগুলো ইরানের স্থলবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে বিবেচিত।
পাশাপাশি অজ্ঞাত সংখ্যক কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট লঞ্চারও আছে ইরানের কাছে। এগুলো স্থানীয় ভাবে তৈরি করে উপসাগরীয় দেশটি।
অপর দিকে, ইরানের ট্যাংক বা সাঁজোয়া যানের সংগ্রহ বেশ ভালো হলেও গুণগত মানের দিক দিয়ে তারা অনেক পিছিয়ে আছে।
বহরের বেশিরভাগ ট্যাংক ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লবের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া। পাশাপাশি সোভিয়েত আমলের আমদানি ও স্থানীয়ভাবে তৈরি ‘কপি’ ট্যাংকও আছে।
গ্লোবাল ফায়ারপাওয়ার (২০২৬) ও ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ-এর তথ্য অনুসারে ইরানের হাতে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬৭৫ সশস্ত্র ট্যাংক আছে। তবে যুদ্ধে লড়ার মতো অবস্থায় থাকা ট্যাংকের সংখ্যা অনেক কম। বিভিন্ন সামরিক গ্যারেজে অসংখ্য অকেজো ট্যাংকের ওপর ধুলা জমেছে।
ইরানের ট্যাংক বহরে সোভিয়েত আমলের টি৭২, টি৭২এস, নিজেদের বানানো কাররার, চীনের টি০৫৪/৫৫, টাইপ ৫৯ ও ইসলামী বিপ্লবের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া এম৬০ প্যাটন ও ব্রিটেনের কাছ থেকে পাওয়া চিফট্যান মার্ক ফাইভ ট্যাংক আছে।
অল্প কয়েকটি ‘জুলফিকার’ ট্যাংকের কথাও শোনা যায়। এটি ইরানে নির্মিত আধুনিক ট্যাংক।
ইরানের হাতে প্রায় ৭৫ হাজার সক্রিয় সাঁজোয়া যান আছে। তবে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত যানের সংখ্যা ৪৫ হাজার। সাঁজোয়া যানের মধ্যে আছে বিএমপি-১/২ আইএফভি (রুশ), স্থানীয় বোরাঘ এপিসি, আরাস ও তালাইয়্যেহ সিরিজের হালকা যান।
এক মাসের হামলায় ইরানের বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে বলেই ধরে নিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে ইরানের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ শাহেদ ড্রোন ও বেশ কয়েকটি সশস্ত্র হেলিকপ্টার আছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।
স্থলযুদ্ধে এসব অস্ত্রের ব্যবহার করতে পারে ইরান।
যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যুদ্ধ কৌশল
বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে—সীমিত আকারে স্থল অভিযানের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়েছে পেন্টাগন। এতে নেভি সিল, স্পেশাল ফোর্স ও প্রথাগত পদাতিক সেনারা অংশ নিতে পারেন।
৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের প্যারাট্রুপার (ছত্রীসেনা) মোতায়েনের কথাও শোনা যাচ্ছে। নামে ছত্রীসেনা হলেও তারা মূলত পদাতিক সেনা। অর্থাৎ, শত্রুকে পরাস্ত করতে সম্মুখ-যুদ্ধেও তারা পারদর্শী।
২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য থেকে জানা গেছে—মধ্যপ্রাচ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা ছিল। তবে ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা শুরুর পর পেন্টাগন সেখানে আরও কয়েক হাজারো সেনা পাঠিয়েছে।
ইউএসএস ত্রিপোলি যুদ্ধজাহাজের ক্রু হিসেবে ও ৩১তম মেরিন এক্সপিডিশনারি ফোর্সের অংশ হিসেবে আরও প্রায় আড়াই হাজার মেরিন ও আড়াই হাজার নাবিক মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছে গেছেন।
ইতোমধ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের তিন থেকে চার হাজার ছত্রীসেনা ওই অঞ্চলে পৌঁছেছেন বলে জানা গেছে।
সব মিলিয়ে, আগের ৫০ হাজারের সঙ্গে আরও প্রায় ৭ হাজার সেনা যোগ দিয়েছেন।
মূলত, নৌসেনা (মেরিন) ও ছত্রীসেনারা (প্যারাট্রুপার) সামরিক পরিভাষায় ‘হালকা পদাতিক সেনা’ (লাইট ইনফ্যান্ট্রি) হিসেবে বিবেচিত। এ ধরনের সেনারা ঝটিকা অভিযান চালানোয় পারদর্শী।
মার্কিন সেনাদের অস্ত্র
মেরিন ও প্যারাট্রুপাররা সাধারণত হালকা অ্যাসল্ট রাইফেল ব্যবহার করে থাকেন। তাদের হাতে থাকা বিকল্পের মধ্যে আছে এম৪/এম ৪এ১ কার্বাইন বা এম২৭ ইনফ্যান্ট্রি অটোম্যাটিক রাইফেল, এম২৪৯ এসএডব্লিউ, এম২৪০ মেশিন গান, এম২ .৫০ ক্যালিবারের ভারী মেশিন গান ও স্নাইপার রাইফেল।
এসব অস্ত্রের একটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো, ইরানের বৈরি পরিবেশে এগুলো ব্যবহার করা কঠিন হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন জায়গায় এম৪ কারবাইন বন্দুক বারবার পরিষ্কার না করলে এর কার্যকারিতা অনেকটাই কমে যায়।
পাশাপাশি, তারা কাঁধে বহনযোগ্য ট্যাংক বিধ্বংসী জ্যাভেলিন মিসাইল লঞ্চার ব্যবহার করতে পারেন। রুশ ট্যাংক প্রতিহত করতে ইউক্রেনকে ব্যাপকভাবে এই অস্ত্র দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।
অত্যন্ত কার্যকর এই অস্ত্র ইরানের কাছে থাকা সোভিয়েত আমলের টি৭২ ও ওই ট্যাংকের আদলে বানানো কাররার ট্যাংক ঠেকাতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
ইরানের ড্রোন বা হেলিকপ্টার ধ্বংস করতে স্টিংগার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারেন সেনারা। এটিও কাঁধে বহনযোগ্য লঞ্চার থেকে ছোড়া যায়।
পাশাপাশি, বাংকার ও হালকা যানবাহন ধ্বংস এবং সম্মুখযুদ্ধে গ্রেনেড ও কাঁধে বহনযোগ্য এটি৪ রকেট ব্যবহার হতে পারে।
প্রয়োজন অনুসারে, হালকা সাঁজোয়া যান বা অ্যাম্ফিবিয়াস অ্যাসল্ট ভেহিকল মোতায়েন করতে পারে ওয়াশিংটন।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ-কৌশল কার্যকর হবে?
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব একটা ধৈর্যশীল মানুষ নন। পাশাপাশি, কথা ও কাজে মিল না রাখার ‘অবিস্মরণীয় নজির’ তৈরি করেছেন তিনি। ‘এক হামলায়’ ইরানের ‘দফারফা’ করে দিতে চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি—পাঁচ মিনিটের নোটিশে তার সেনারা খারগ দ্বীপ দখল করে নিতে সক্ষম।
এভাবে একটিমাত্র অভিযান চালিয়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে উঠিয়ে আনার ব্যবস্থা করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে বিশ্লেষকদের মত, ট্রাম্প যাতে এভাবে বিজয় অর্জন করতে না পারেন, সেটা ঠেকাতেই ‘দীর্ঘ যুদ্ধ’ মাথায় রেখে প্রতিরক্ষা কৌশল সাজিয়েছে ইরান।
অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন—ইরানের মাটিতে যুদ্ধ করতে হলে শুধু সামরিক সক্ষমতার পাশাপাশি সহনশীলতাও প্রয়োজন। ইরানের বৈরী ভৌগোলিক পরিস্থিতি মার্কিন সেনাদের মনোবল কতদিন টিকিয়ে রাখতে পারবে তাই দেখার বিষয়।
আল জাজিরার এক প্রতিবেদন বলছে—যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ও ইরাকে যেভাবে আগ্রাসন চালিয়েছে, তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ করেছে তেহরান। সে অনুযায়ী নিজেদের সুরক্ষা কৌশল সাজিয়েছে দেশটি।
এর ফলে, মার্কিন ছত্রীসেনাদের বিশেষায়িত অভিযান কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে।
অনেকে মনে করছেন—সংঘাতকে দীর্ঘায়ত করতে চায় ইরান। তাদের লক্ষ্য, বেশিদিন যুদ্ধ চললে রাজনৈতিক চাপে পড়বেন ট্রাম্প। সন্দেহাতীতভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী অস্ত্র, প্রশিক্ষণ ও কলেবরে ইরানের বাহিনীর তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে।
মূলত এ কারণেই সরাসরি টক্কর না দিয়ে ট্রাম্পের জন্য এই যুদ্ধকে আর্থিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে ব্যয়বহুল করে তোলাই হবে ইরানের প্রধান কৌশল।
সংবাদ প্রতিবেদন থেকে আরও জানা যায়—মার্কিন আগ্রাসনের মুখে সমগ্র জাতিকে একতাবদ্ধ হয়ে দেশপ্রেম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছে ইরানের নেতৃত্ব। কয়েকদিন আগেও যে দেশের মানুষ নিজ সরকারের পতনের জন্য আন্দোলন করেছে, তারাও আজ এই বহিঃশত্রুর হামলার মুখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আভাস দিচ্ছে।
সার্বিক বিবেচনায় এটুকু বলা যায় যে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী ও বাসিজ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর সঙ্গে মার্কিন স্থল যোদ্ধাদের মুখোমুখি সংঘাত এখন শুধুই সময়ের ব্যাপার।
বিশ্লেষকদের অনেকের মত, এই ‘তথাকথিত’ স্থল অভিযান ব্যর্থ হলে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল একইসঙ্গে ‘আমও হারাবে, ছালাও হারাবে’।








