শান-সাউদদের সঙ্গে তর্কের কারণ জানালেন তাইজুল
তখন চা-বিরতির খানিকটা বাকি। মুশফিকুর রহিম একটু সময় নিয়েই তৈরি হচ্ছিলেন। সেটা দেখে পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ তাকে কিছু একটা বলেন। তাতে দুজনের উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হতে দেখা যায়। পরে স্লিপে থাকা সাউদ শাকিলের সঙ্গে লেগে যায় তাইজুল ইসলামের। দিনের খেলা শেষে তাইজুল বিস্তারিত তুলে ধরলেন ঘটনা।
টেস্টে মূলত যেকোনো বিরতির আগে ব্যাটাররা বাড়তি সময় নিয়ে খেলার চেষ্টা করেন যাতে উইকেট না পড়ে। ওই সময় মুশফিক-তাইজুলের প্রতিটি বল সময় নিয়ে খেলার প্রবণতা ছিল। পাকিস্তান চাইছিল চা-বিরতির আগে আরেকটি বাড়তি ওভার যদি করা যায়।
এই অবস্থায় নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে থাকা মুশফিকের দিকে ছুটে গিয়ে কিছু একটা বলেন শান, মুশফিককেও প্রতিউত্তর দিতে দেখা যায়।

স্ট্রাইকে থাকা তাইজুলকে অন্যদিকে কিছু বলতে থাকেন স্লিপে থাকা সাউদ শাকিল, আগ্রাসী শরীরী ভাষায় জবাব দিতে দেখা যায় তাইজুলকেও। এমনিতে শান্ত স্বভাবের বলে পরিচিত তাইজুল, এরকম রাগ করতে তাকে দেখা যায় না।
'এটা আসলে আপনি যখন ম্যাচে নামবেন তো অনেক ধরনের পরিস্থিতি ঘটতে পারে। তারাও দীর্ঘসময় ফিল্ডিং করছিল এজন্য টেম্পারমেন্ট ধরে রাখতে পারে নাই। মুশি ভাই কোনো কিছু বলে নাই, মুশি ভাই তো নরমালি আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলছিল। কিন্তু ও কী বুঝছে না বুঝছে, ও রিয়্যাক্ট করছে। আর আমার সঙ্গে যেটা হয়েছে সাউদ আমাকে বলছিল যে ‘তুমি ব্যাটিং করতে আসো’। আসলে এটা তো ওর বিজনেস না, এটা আমার বিজনেস ব্যাটিং করাটা, এই আরকি।'
বাকবিতণ্ডার পর খুররম শাহজাদ তাইজুলকে ঠুকে দেন বাউন্সার। ক্যালিপসো ছন্দে এক পা তুলে সেটা পুল করে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে দেন তাইজুল। এটা নিয়ে তাইজুলের বিনয়ী ব্যাখ্যা, 'এটা ব্যাটিং করতে গেলে আসলে বলটাও রকম ছিল আরকি।'
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সোমবার তৃতীয় দিন শেষে দাপুটে অবস্থানে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিডের সঙ্গে ৩৯০ রান যোগ করে পাকিস্তানকে ৪৩৭ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। যা টপকে জিততে হলে সফরকারীদের বিশ্বরেকর্ড গড়তে হবে।
দলের এই বড় লিডের পেছনে তাইজুলেরও আছে অবদান। সেঞ্চুরিয়ান মুশফিকুর রহিমকে সপ্তম উইকেটে দারুণ সঙ্গ দেন তিনি। ৭৭ রানের জুটিতে ৫১ বলে ২২ করে অবদান রাখেন তাইজুল। এদিন মুশফিকের ১৩৭ ও লিটনের ৬৯ রানে বড় পুঁজি পেয়ে নিরাপদে আছে স্বাগতিক দল।