আরও ১ লাখ টন ডিজেল আসবে কাজাখস্তান থেকে
চলমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন উৎস হিসেবে কাজাখস্তান থেকে ডিজেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি আজ শনিবার জরুরি ভিত্তিতে এ আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করেছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, কাজাখস্তান থেকে প্রতি ব্যারেল ৭৫ দশমিক ০৬ ডলার মূল্যে ১ লাখ টন ডিজেল কেনা হবে।
এর আগে, গত সপ্তাহেও সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে 'এক্সনমোবিল কাজাখস্তান ইনক' থেকে আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছিল সরকার।
জ্বালানি মন্ত্রণালয় মন্ত্রিসভা কমিটিকে জানিয়েছে, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) নিয়মিত সরবরাহকারীরা নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি সরবরাহ করতে পারছে না। এতে দেশের জ্বালানি মজুতের পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে।
ইতোমধ্যে দুই প্রধান সরবরাহকারী—ইউনিপেক সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড ও পেটকো ট্রেডিং লাবুয়ান কোম্পানি এপ্রিলের নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করেছে।
এ অবস্থায় জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর জোর দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া, বেশ কয়েকটি রপ্তানিকারক দেশ সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বিশ্ববাজার সংকুচিত হয়েছে। এতে বাংলাদেশও আমদানির ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতিতে পড়েছে।
অন্যদিকে, কাতার ও ওমান থেকে এলএনজি রপ্তানি ব্যাহত হওয়ায় ইউরোপে গ্যাসের দাম বেড়ে গেছে। এ কারণে বিকল্প হিসেবে তরল জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় বিশ্ববাজারে তেলের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় অনেক দেশই জ্বালানি রেশনিং এবং চাহিদা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারও জ্বালানি নিয়ে কিছু নির্দেশনা জারি করেছে এবং জ্বালানি সাশ্রয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেছে।
ক্রয় কমিটি আজ 'আরামকো ট্রেডিং সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড' থেকে দুই কার্গো এলএনজি সংগ্রহের প্রস্তাবও অনুমোদন করেছে।