প্রান্তিক ও কণ্ঠহীন মানুষের রাজনৈতিক এজেন্ডা কোথায়
বাংলাদেশে মানুষের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ—যারা সামাজিকভাবে কম দৃশ্যমান বা অদৃশ্য, যাদের কণ্ঠস্বর খুব কমই আলোচনায় আসে এবং যারা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত—আদিবাসী, চা শ্রমিক, হরিজন (পরিচ্ছন্নতাকর্মী), ঋষি (মুচি), কায়পুত্র (শূকর চড়ানো গোষ্ঠী), বেদে (যাযাবর জনগোষ্ঠী), জলদাস (চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় বসবাসকারী সমুদ্রমুখি জেলে সম্প্রদায়), যৌনকর্মী, হিজড়া বা ট্রান্সজেন্ডার ও বিহারি সম্প্রদায়। এসব সম্প্রদায়ে জনসংখ্যা ৫০ লাখের মতো।
ধর্ম, পেশা, জাতিগত পরিচয়, সংস্কৃতি, স্থানচ্যুতি ও ভৌগলিক কারণে এসব মানুষ নানাভাবে বৈষম্য, মজুরি বঞ্চনা, দমন-পীড়ন, হামলা, মর্যাদাহানিকর পরিস্থিতি এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার। এসব জনগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশের সেই ৪ কোটি মানুষের অন্তর্ভুক্ত, যারা বহুমাত্রিক দারিদ্র্য বা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব সম্প্রদায়ের অনেকেই ‘অস্পৃশ্য’ বা ‘দলিত’ হিসেবে বিবেচিত।
এর বাইরে প্রতিবন্ধী এবং কামার, কুমার, বাঁশ ও বেতজাত পণ্যের কারিগর, জুতা তৈরির কারিগর, পিতলের তৈজসপত্র তৈরির কারিগরসহ আরও কিছু সম্প্রদায় সামাজিক বঞ্চনা ও অর্থনৈতিকভাবে নানা দুর্ভোগের শিকার।
ছোট ছোট কিছু সম্প্রদায়—যেমন: বেহারা (পালকিবাহক), নাপিত, ধোপা, হাজাম (গ্রামে খৎনা করায়), নিকারি, পাটনি, তেলি, পাতিকার, তাঁতি (পাকিস্তান থেকে আসা উর্দুভাষী বুননশিল্পী), দর্জি, মাঝি বা খোত্রা, কসাই ইত্যাদি—রয়েছে, যারা আধুনিক সমাজের উন্নয়নের ধারাবাহিকতার সঙ্গে তাল মিলাতে না পেরে পিছিয়ে পড়েছে। এসব সম্প্রদায়ের আয়ও খুব সামান্য এবং তাদের বেশিরভাগই বাঙালি ও মুসলমান হওয়া সত্ত্বেও মূলধারার সমাজে অবহেলা ও অবজ্ঞার শিকার।
সংখ্যায় বেশি বা কম যাই হোক না কেন, এসব মানুষ দেশের মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ হওয়ার পরও এখনো সামাজিকভাবে দৃশ্যমান নয় এবং তাদের কণ্ঠস্বরও শোনা যায় না বললেই চলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের প্রেক্ষাপটে দেশে নতুন এক বন্দোবস্তের সূচনা হয়। তখন এদের অনেকেই মনে করেছিলেন, নতুন একটি সমাজব্যবস্থায় তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্য পুরোপুরি না হলেও অনেকটাই কমে আসবে।
বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার যখন সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ করে এবং সেইসঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয়, তখন পিছিয়ে পড়া এসব জনগোষ্ঠীর আশা ছিল তাদের সুরক্ষায় এক বা একাধিক সংস্কার কমিশন গঠিত হবে।
কিন্তু তারা হতাশার সঙ্গে প্রত্যক্ষ করেন, এসব জনগোষ্ঠীর অভিন্ন ও গোষ্ঠীভিত্তিক সমস্যা সমাধানকল্পে না হলো কোনও সংস্কার কমিশন না নেওয়া হলো কোনও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ।
জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলেও নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর পক্ষ থেকে এসব অদৃশ্য ও কণ্ঠহীন জনগোষ্ঠীর বিষয়ে স্পষ্ট বা সুনির্দিষ্ট কোনো অঙ্গীকার ছিল না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাপ্লায়েড ডেমোক্রেসি ল্যাবের পরিচালক অধ্যাপক আইনুল ইসলাম মনে করেন, ‘এটা খুবই দুঃখজনক যে যারা সমাজে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের শিকার, তাদের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নেই।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল, সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করা এবং এই লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ বা যথাযথ কৌশল প্রণয়ন। এখানে উল্লেখ্য যে বৈষম্য দূর করার ইস্যুই ছিল স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলার অন্যতম চালিকাশক্তি। অথচ বাস্তবতা হলো বাংলাদেশে আয়-বৈষম্য বেড়েই চলেছে; জাতীয় আয়ের প্রায় ৪১ শতাংশ ভোগ করছে দেশের মাত্র ১০ শতাংশ মানুষ। ২০২২ সালে দেশে দারিদ্র্যের হার ছিল যেখানে ১৮.৭ শতাংশ, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৭.৯ শতাংশে, যার অর্থ প্রায় প্রতি চারজনের একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
আশাহত আদিবাসী, নানান পেশাজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী যারা তাদের প্রতিদিনের জীবনে অর্থনৈতিক সংকট ও সামাজিক বৈষম্যের মুখোমুখি হন, তারা প্রত্যাশা করছেন নির্বাচিত সরকার তাদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ও দাবি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
এসব জনগোষ্ঠীর মাঝে নানান ভিন্নতা আছে। তাদের কিছু সমস্যা অভিন্ন হলেও গোষ্ঠীভিত্তিক অনেক সমস্যা ও বিষয় আছে, যেগুলোর ব্যাপারে পৃথক মনোযোগ ও কার্যকর উদ্যোগ জরুরি।
আমরা যারা দীর্ঘদিন ধরে এসব জনগোষ্ঠীর সঙ্গে কাজ করে আসছি, তারা সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য সুনির্দিষ্ট সমস্যা ও উদ্বেগ তুলে ধরতে পারি।
প্রথমত, সরকার যদি সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশের সব জনগণ ও নাগরিকের পক্ষে অবস্থান নিতে চায়, তাহলে আমাদের জাতীয় পরিচয়, সংখ্যাগরিষ্ঠের ধর্ম ও সংস্কৃতিকে মিথে পরিণত করা উচিত হবে না। উচিত হবে দেশের এতো বৈচিত্র্যময় জনগোষ্ঠীকে যথাযথ স্বীকৃতি প্রদানের জন্য কাজ করা। বিশেষ করে, সাংবিধানিকভাবে ‘আদিবাসী’ স্বীকৃতির পক্ষে সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করতে হবে। পাশাপাশি পেশা, ধর্ম কিংবা অন্যান্য সামাজিক কারণে যেসব জনগোষ্ঠী দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্যে নিমজ্জিত, তাদের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণ এবং তাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এমন কিছু জনগোষ্ঠী রয়েছে, যারা শুধু সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অবহেলিতই নয়, বরং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী উচ্চবিত্তের অর্থনৈতিক স্বার্থে দীর্ঘদিন ধরে কাঠামোগত শোষণের শিকার হয়ে আসছে। এর ভালো একটি উদাহরণ হলো চা শ্রমিক জনগোষ্ঠী। একজন চা শ্রমিকের বর্তমান সর্বোচ্চ দৈনিক মজুরি কেবল ১৮৭ টাকা ৪৩ পয়সা। একইভাবে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার হরিজন জনগোষ্ঠীর বর্তমানে মাসিক বেতন ১ হাজার টাকা, যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্তও ছিল মাত্র ৫০০ টাকা। অন্যান্য অনেক জনগোষ্ঠীর আয়ও সামান্য। তারা দিন আনে দিন খায়। দারিদ্র্য এবং পেশা ও পরিচয়ের কারণে সামাজিক অবজ্ঞার শিকার এসব জনগোষ্ঠী প্রজন্মের পর প্রজন্ম দরিদ্র ও বঞ্চিতই রয়ে যাচ্ছে।
চা শ্রমিকরা শ্রম আইনে তাদের প্রতি বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান চায়। তাদের বেলায় শ্রম আইন ও বিধিমালার একাধিক ধারা নিয়মিতভাবে লঙ্ঘিত হচ্ছে। এ ধরনের লঙ্ঘন বন্ধে সরকারের হস্তক্ষেপ চান তারা। চা শ্রমিকদের দাবি, শ্রম আইন ও বিধিমালার পূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে হবে।
চা শ্রমিক, হরিজন ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়াদের মধ্যে অন্যতম। কেবল সমান অধিকারের ঘোষণা তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথেষ্ট নয়। তাদের বর্তমান অবস্থা থেকে উত্তরণে ইতিবাচক বৈষম্য নীতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
বর্তমানে সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি নিয়ে প্রধান সমালোচনা হলো—এর মোট বাজেটের অর্ধেক বা তারও বেশি অংশ দরিদ্র নয় এমন জনগোষ্ঠীর কাছে যাচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে বিএনপি প্রাথমিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার পরিবার অন্তর্ভুক্ত করে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মাধ্যমে সব নাগরিকের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
সম্পূর্ণ ভূমিহীন জনগোষ্ঠী ও প্রান্তিক মানুষের অন্যতম উদ্বেগ হলো খাস জমিতে ন্যায়সঙ্গত ভাগ। দেশে চিহ্নিত খাস জমির পরিমাণ আনুমানিক ৩০ থেকে ৪০ লাখ একর। এর মধ্যে কৃষিজমি, অকৃষি জমি ও জলাশয়ও রয়েছে।
ভূমিহীন জনগোষ্ঠীর মধ্যে খাস জমির ন্যায়সঙ্গত বিতরণ দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজনীয় একটি বাস্তব ও তাৎপর্যপূর্ণ উদ্যোগ হতে পারে। দুঃখজনকভাবে, খুব অল্পসংখ্যক ভূমিহীন পরিবারই বাস্তবে খাস জমি পায়। বরং স্থানীয় অভিজাত শ্রেণি, রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীরাই খাস জমির সর্বাধিক সুবিধাভোগী হয়ে থাকেন। খাস জমির ওপর নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ভূমিহীন মানুষ ও জনগোষ্ঠী এখনো দৃঢ়ভাবে সংগঠিত হতে পারেনি।
ভূমি, বন ও পরিবেশসংক্রান্ত আরেকটি গুরুতর সমস্যা এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম ও দেশের অন্যান্য বনাঞ্চলে বসবাসকারী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীগুলো দীর্ঘদিন ধরে ভূমি, বন ও পরিবেশসংক্রান্ত জটিল সমস্যার মুখোমুখি হয়ে আসছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে এসব বিষয়ে তেমন কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। বিস্ময়ের বিষয় হলো, জুলাই সনদেও ‘পরিবেশ’, ‘বন’ কিংবা ‘জলবায়ু পরিবর্তন’—এই শব্দগুলোর কোনো উল্লেখই নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম ও অন্যান্য বনাঞ্চলের জনগণের প্রথাগত অধিকার হরণ প্রক্রিয়া শুরু হয় ১৮৬৫ সালে ব্রিটিশ সরকারের প্রণীত অ্যাক্ট সেভেন জারির মাধ্যমে। এরপর থেকে বনাঞ্চলে বসবাসকারী জনগোষ্ঠী ক্রমাগতভাবে বনসম্পদের ওপর তাদের যৌথ ও প্রথাগত অধিকার হারিয়ে চলেছে।
তারা আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করে, নবনির্বাচিত সরকার এ বিষয়ে নজর দেবে। এসব সমস্যার সমাধানে রাজনৈতিক নেতাদের সাহসী, বাস্তববাদী ও জনমুখী ভূমিকা গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন।
সমাজে বর্তমানে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে বহু প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের মর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হলে বৈষম্যের অবসান ঘটানো অপরিহার্য।
পতিত সরকারের আমলে বৈষম্য বিলোপের লক্ষ্যে একটি আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। ‘বৈষম্যবিরোধী আইন, ২০২২’ নামে একটি বিল সংসদে উত্থাপিত হলেও তা পাস হয়নি। বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীগুলো বৈষম্যের অবসান, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনই শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পথ সুগম করে দেয়। সবাই প্রত্যাশা করছে, নবনির্বাচিত বিএনপি সরকার বৈষম্য দূর করতে যথাযথ ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী, চা শ্রমিক ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় ২০টিরও বেশি আন্তর্জাতিক কনভেনশন ও জাতীয় আইন বিদ্যমান। কিন্তু এসব আইন ও সনদ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অনেক সরকারি ও বেসরকারি অংশীজনের মধ্যে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং জবাবদিহিতার ঘাটতি লক্ষ্য করা যায়।
শ্রম আইন, ২০০৬ এবং রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আইনগুলো প্রায়ই অপপ্রয়োগ হয় বা সরাসরি লঙ্ঘিত হয়। যার ফলে আদিবাসী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভূমি অধিকার ক্ষুণ্ণ হয়। বিশেষত, যেসব জনগোষ্ঠী রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘আদিবাসী’ হিসেবে স্বীকৃত নয়, তারা আইনি সুরক্ষা থেকে আরও বেশি মাত্রায় বঞ্চিত।
এর পরিণতিতে ভূমির অবৈধ হস্তান্তর হচ্ছে এবং বিদ্যমান আইনি সুরক্ষা কাঠামো প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছাতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই বাস্তব ও জরুরি সমস্যাগুলো জনপরিসরের আলোচনায় প্রায় অনুপস্থিত এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সরকারের কর্মপরিকল্পনায় এগুলো সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা অপরিহার্য।
আমাদের প্রত্যাশা সরকার অতীতের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে মর্যাদা, সমতা ও জনজীবনে পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণের অধিকারসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি ও প্রতিষ্ঠা করতে বাস্তবভিত্তিক ও অর্থবহ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
ফিলিপ গাইন, গবেষক এবং সোসাইটি ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্টের (সেড) পরিচালক।
philip.gain@gmail.com