বাংলা লোকসংগীতের এক আবেগের নাম ফরিদা পারভীন
বাংলাদেশের লোকসংগীতের বরেণ্য শিল্পী ফরিদা পারভীন। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। আজ লালনকন্যা খ্যাত এই কণ্ঠশিল্পীর প্রথম প্রয়াণ দিবস। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’, ‘বাড়ির কাছে আরশিনগর’ কিংবা ‘মিলন হবে কত দিনে’, লালন সাঁইয়ের এমন অসংখ্য বিখ্যাত গান ফরিদা পারভীনের কণ্ঠে পেয়েছিল ভিন্ন মাত্রা। গান দিয়ে মানুষের হৃদয় ও স্মৃতিতে আজও গভীরভাবে বেঁচে আছেন তিনি।
লালনের দর্শন ও গানকে তিনি বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছেন। সংগীতে অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৮৭ সালে তাকে দেশের অন্যতম সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ‘একুশে পদক’-এ ভূষিত করা হয়।
চলচ্চিত্রেও তার অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। ১৯৯৩ সালে ‘অন্ধ প্রেম’ ছবির গানের জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া ২০০৮ সালে তিনি জাপান সরকারের সম্মানজনক 'ফুকুওকা এশিয়ান কালচার প্রাইজে' ভূষিত হন।
১৯৫৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর নাটোরের সিংড়ায় জন্মগ্রহণ করেন ফরিদা পারভীন। ১৯৬৮ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে তার পেশাদার সংগীতজীবন শুরু হয়।
সংগীতজীবনের শুরুতে নজরুলগীতি ও দেশাত্মবোধক গান করলেও মূলত লালন সাঁইয়ের গান গেয়েই তিনি দেশ-বিদেশে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।
ফরিদা পারভীন কেবল গান গাইতেন না, গানের গভীর দর্শনকে নিজের ভেতরে অনুভব করতেন। কণ্ঠের নিখাদ সততাই ছিল ফরিদা পারভীনের মূল শক্তি। এ কারণে তার গান শ্রোতাদের হৃদয়ে এত গভীরভাবে জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা লোকসংগীতের ইতিহাসে তিনি এক আবেগের নাম।