ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি উল্টে নিহত ৬, নিখোঁজ ১৩০

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইন্দোনেশিয়ার জাভা সাগরে একটি ফেরি উল্টে এখন পর্যন্ত ছয়জন নিহত হয়েছেন এবং ১৩০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ১০৭ জনকে।

গতকাল শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে ভার্গো ট্রান্সপোর্ট ৮ নামের ফেরিটি ২১৩ যাত্রী ও ৩০ জন ক্রুসহ উল্টে যায়।

দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা বাসারনাসের বরাতে বার্তাসংস্থা এএফপি জানায়, ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভা প্রদেশের সুরাবায়া থেকে দক্ষিণ কালিমানতান প্রদেশের বানজারমাসিনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল ফেরিটি। রাত ২টার দিকে এটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

ধারণা করা হচ্ছে, বৈরি আবহাওয়ায় কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ফেরিটি।

বানজারমাসিন সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রধান হেরি পুরওয়ান্তো জানান, ফেরিটির সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছে। এটি বর্তমানে জাভা সাগরে গন্তব্য থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে।

ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি ডুবির ঘটনায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ছবি: সংগৃহীত

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।  

হেলিকপ্টার থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির পরিবহনমন্ত্রী পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, আজ বিকেল ৩টা পর্যন্ত ফেরিটি পানিতে ভাসমান অবস্থায় উল্টে ছিল।

তার মতে, ফেরিটি ডুবে যায়নি, বরং উল্টে গেছে।

বানজারমাসিনের অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থার প্রধান আই পুতু সুদায়ানা জানিয়েছেন, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আগে ফেরির চালক মালিকপক্ষকে ফেরিটি একদিকে কাত হয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

বানজারমাসিন বন্দরে স্থাপিত নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে বোর্ডে হালনাগাদ করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়াদের নাম। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

সুদায়ানা আরও জানান, প্রায় ১০ ফুট উঁচু ঢেউয়ের মধ্যে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। একটি হেলিকপ্টারও যোগ দিয়েছে এই অভিযানে।

বানজারমাসিন বন্দরে একটি নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসাকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের নাম একটি বোর্ডে হালনাগাদ করা হচ্ছে। নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজে সেখানে ভিড় করছেন পরিবারের সদস্যরা।

বানজারমাসিন বন্দরে নিখোঁজদের সন্ধানে স্বজনদের অপেক্ষা। ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬। ছবি: রয়টার্স

এএফপি জানায়, ১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়ায় ফেরি দুর্ঘটনা নিয়মিত ঘটনা। দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বৈরি আবহাওয়া এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ।

এর আগে গত সোমবার আটজন যাত্রী নিয়ে একটি স্পিডবোট বান্তেন প্রদেশে নিখোঁজ হয়। স্পিডবোটে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পাঁচ সাংবাদিক ছিলেন।