কলেজশিক্ষার্থীকে মারধরের পর ৮ তলা থেকে ফেলে হত্যা
চট্টগ্রামে এক কলেজশিক্ষার্থীকে মারধরের পর একটি নির্মাণাধীন ভবনের আটতলা থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত রোববার রাতে নগরীর চকবাজার থানার ডিসি রোড এলাকার মৌসুমি আবাসিকের একটি নির্মাণাধীন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। তবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পর বুধবার রাতে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
চকবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাবুল আজাদ দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আশফাক কবির সাজিদ (১৭) কক্সবাজারের আবুল হাশেম সিকদারের ছেলে। সে চট্টগ্রামের বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার্থী ছিল ও বাকলিয়া ডিসি রোডের একটি বাসায় ভাড়া থাকত।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রোববার সাজিদকে তার বন্ধু ফারদিন হাসান ফোন করে মৌসুমি আবাসিক এলাকার মোড়ে যেতে বলে। সেখানে পৌঁছালে আইমন, অনিক, রানা মাইকেল, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ কয়েকজন ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সাজিদকে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
প্রাণ বাঁচাতে সাজিদ দৌড়ে নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেয় ও গেট বন্ধ করে দেয়। সেসময় হামলাকারীরা চোর বলে ধাওয়া করলে ভবনের নিরাপত্তাকর্মী এনামুল হক গেট খুলে দেন। পরে তারা উপরে উঠে সাজিদকে মারধর করে। একপর্যায়ে তাকে আটতলা থেকে লিফটের ফাঁকা স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় সাজিদকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা আবুল হাশেম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার ছেলে কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল না। আমরা তাকে ভালো শিক্ষার জন্য চকরিয়া থেকে চট্টগ্রামে পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু এখন সে নেই। আমি বিচার চাই। অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।’
ওসি বাবুল আজাদ বলেন, পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, হত্যার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। আমরা তদন্ত করছি।