মিরসরাইয়ে হরিণ জবাইয়ের ঘটনায় জড়িত ৩ জন শনাক্ত, গ্রেপ্তারে চলছে অভিযান
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি চিত্রা হরিণকে জবাই করার ঘটনা ঘটেছে। উপকূলীয় এলাকায় গত ১১ এপ্রিল এ ঘটনা ঘটে বলে বন বিভাগের কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
আজ বুধবার মিরসরাই উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তারা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, হরিণ জবাইয়ের সঙ্গে জড়িত তিনজন শনাক্ত হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
ওই ঘটনার একটি ভিডিও গতকাল মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে যায়। ৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, একটি প্রাকৃতিক নালার পাশে একজন একটি হরিণের পা চেপে ধরে ধারালো দা দিয়ে জবাইয়ের চেষ্টা করছেন। পাশেই আরও দুজনকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিরসরাই উপজেলার ইছাখালী ইউনিয়নের মুহুরি প্রজেক্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। এলাকাটি মিরসরাই জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (বেজা) কাছেই।
ভিডিওটি দেখে বোঝা যায় খুব কাছ থেকে এটি ধারণ করা হয়েছে। ভিডিওর এক পর্যায়ে হরিণটিকে জবাই করতে থাকা লোকটি রেখে প্রশ্ন করছেন, কেন ভিডিও করা হচ্ছে। জবাবে ভিডিও ধারণকারী ব্যক্তি বলেন, এতে সমস্যা কী?
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে গেলে মানুষ এর প্রতিবাদ করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, মিরসরাইয়ের উপকূলীয় অঞ্চলে একসময় প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত সবুজ ম্যানগ্রোভ বন ছিল। এই বন হাজারো হরিণ ছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির সাপ, শিয়াল, বেজি, মেছোবাঘ এবং শত শত পাখির আবাসস্থল ছিল।
তবে ওই এলাকায় জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার পর থেকে বড় আকারে বন উজাড় শুরু হয়। এর ফলে বন্যপ্রাণীগুলো ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
ধারণা করা হয়, শিল্পাঞ্চলের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির আশেপাশে এখনো কিছু হরিণ বসবাস করে।
কর্মকর্তারা মনে করছেন, জবাই করা চিত্রা হরিণটি দলছুট হয়ে ওই এলাকায় চলে এসেছিল।
যোগাযোগ করা হলে মিরসরাই উপকূলীয় বন বিভাগের কর্মকর্তা শাহেনশাহ নওশাদ দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ভিডিওটি আমরা দেখেছি। আমরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়েছি যে এ ঘটনায় ৩ জন জড়িত ছিল। তাদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।।'
সন্দেহভাজনরা ওই এলাকার মৎস্য খামারের শ্রমিক বলে ধারণা করছে বন বিভাগ।