বিদ্যুৎ সংকট: কুষ্টিয়ায় চালকলে উৎপাদন কমেছে দুই তৃতীয়াংশ পর্যন্ত
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন-সংকটে পড়েছে কুষ্টিয়ার খাজানগরের চালকলগুলো। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখানকার মিলগুলোতে উৎপাদন প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে গেছে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎ না থাকায় বেশি সময় ধরে ধান ভিজিয়ে রাখতে হচ্ছে, যার ফলে উৎপাদিত চালের মানও খারাপ হয়ে যাচ্ছে।
সারা দেশে চালের বড় মোকামের জন্য কুষ্টিয়ার খাজানগর সুপরিচিত। এখানকার বেশির ভাগ চালকলেই মূলত সরু চাল উৎপাদিত হয়।
মালিকেরা বলছেন, বিদ্যুতের এই সংকটে তারা একদিকে যেমন আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন, তেমনি এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বাজারে চালের দামেও এর বড় প্রভাব পড়বে।
গতকাল বুধবার সরেজমিন খাজানগর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেশির ভাগ মিলের শ্রমিকেরাই অলস সময় কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুতের আওতায় থাকা মিলগুলো বেশি সংকটে পড়েছে। দিনে গড়ে মাত্র ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
খাজানগরের পার্শ্ববর্তী বল্লভপুরে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ চালকল স্বর্ণা অটো রাইস মিলের কর্ণধার আবদুস সামাদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় শ্রমিকেরা এসে আবার বাড়িতে চলে যাচ্ছেন। তাদের বেতন দিতে হচ্ছে, কিন্তু উৎপাদন হচ্ছে না।’
আবদুস সামাদ বলেন, ‘আমার মিলে প্রতিদিন প্রায় ৯০ টন চাল উৎপাদিত হতো। এখন জেনারেটর চালিয়েও ৩০ টনের বেশি উৎপাদন করা যাচ্ছে না। আর ডিজেল পুড়িয়ে জেনারেটর চালানোয় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে। আগে যে শ্রমিক দিয়ে ৯০ টন উৎপাদন হতো, এখন সেই শ্রমিক দিয়ে হচ্ছে ৩০ টন। এখানেও আমরা বড় ক্ষতির শিকার হচ্ছি।’
চাল উৎপাদনে এই অঞ্চলের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান গোল্ডেন রাইস মিলের মালিক জিহাদুজ্জামান জিকু বলেন, ‘প্রোডাকশনের সময় যখন কারখানায় বিদ্যুৎ থাকে না, তখন মেশিনের ভেতরে থাকা ধানগুলো নষ্ট হয়। এতে আমাদের বাই-প্রোডাক্ট বেড়ে যাচ্ছে। চালের উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ছে। গত কয়েক দিনে ৬০-৬৫ শতাংশ পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে।’
তিনি বলেন, ‘পল্লী বিদ্যুৎ ও পিডিবির উভয়েরই আলাদা শিল্প ফিডার লাইন আছে। খাদ্যসংশ্লিষ্ট এসব শিল্পে বিদ্যুৎ সরবরাহ যেন নিরবচ্ছিন্ন রাখা যায়, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’
সরেজমিন পরিদর্শনের সময় নওগাঁ থেকে ধান নিয়ে আসা এক ট্রাকচালককে বসে ঝিমোতে দেখা যায়। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজ নয় দিন ধরে আমরা বসা আছি। বিদ্যুৎ না থাকায় মিলে প্রোডাকশন হচ্ছে না, তাই আমাদের ট্রিপও হচ্ছে না। গতকাল বেলা ১২টায় এসেছি, আজ দুপুর শেষ, কিন্তু এখনো গাড়ি আনলোড করতে পারিনি।’
বিদ্যুৎসংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, কুষ্টিয়ায় পল্লী বিদ্যুতের চাহিদা ১৮০ মেগাওয়াট। কিন্তু গত দুই-এক সপ্তাহ ধরে চাহিদার বিপরীতে মাত্র ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় অবশ্য ১৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পেয়েছিলাম।’
সমস্যা সমাধানের বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান বলেন, ‘চালকলগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখার বিষয়ে আমরা মাত্রই মিটিং করলাম। আশা করছি, দ্রুতই একটা সমাধান দিতে পারব। চালের উৎপাদন যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
