গাজীপুরে ৪৫ শতাংশ পোশাক কারখানায় ছুটি, টানা বৃষ্টিতে মহাসড়কে চাপ
পবিত্র ঈদুল আজহার বাকি আর মাত্র তিন দিন। এর মধ্যে গাজীপুরে আজ সোমবার থেকে ধাপে ধাপে পোশাক কারখানার ছুটি শুরু হয়েছে। প্রথম দিনেই প্রায় ৪৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হওয়ায় ঢাকা-ময়মনসিংহ ও ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে।
এর মধ্যে আজ সকাল সাড়ে ১১টা থেকে টানা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে গেছে। এতে যান চলাচল ধীর হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত যাত্রীবাহী বাসগুলো থেমে থেমে চলছে। বাসের আশায় দীর্ঘ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদেরকে।
টঙ্গীর হোসেন মার্কেট এলাকায় ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে পরিবার নিয়ে ময়মনসিংহ যাওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন নুরুন্নাহার (৪৫)। সঙ্গে ছিল বস্তাভর্তি মালামাল। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও বাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন তিনি।
শাওন পরিবহনের চালক শরিফ হোসেন বলেন, ‘সকাল থেকেই সড়কে যানজট। বেলা বাড়ার পরও তা কমেনি। বিকেলে এই চাপ আরও বাড়তে পারে।’
টঙ্গী এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক মো. সফিক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গী থেকে কলেজ গেট পর্যন্ত যানবাহন ধীরগতিতে চলেছে। টানা বৃষ্টিতে ভোগড়া এলাকায় হাঁটুসমান পানি জমেছে। পাশাপাশি কারখানা ছুটি শুরু হওয়ায় সড়কে যানবাহনের চাপও বাড়ছে।
ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, চন্দ্রা দিয়ে দেশের ২৩ জেলার মানুষ যাতায়াত করেন। সাধারণ সময়ে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও ঈদের সময় তা বেড়ে ১৫ থেকে ২০ লাখে পৌঁছায়। ফলে পুরোপুরি যানজট এড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে।
শিল্প পুলিশ জানিয়েছে, গাজীপুর মহানগরীতে বর্তমানে ২ হাজার ৬৭৪টি কারখানা রয়েছে। গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসেন জানান, আজ ৪৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হচ্ছে। কাল মঙ্গলবার আরও ৪৫ শতাংশ কারখানা ছুটি হবে। এ ছাড়া ২৭ মে ৭ শতাংশ কারখানা ছুটি হবে এবং বাকি ৩ শতাংশ কারখানা খোলা থাকবে।
গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নূরুল করিম ভূইয়া জানান, গাজীপুর চৌরাস্তা, ভোগড়া ও চন্দ্রার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে ১৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের সহায়তায় মাঠে থাকবেন বিজিবি, আনসার ও পুলিশ সদস্যরা। বিশেষ করে গাজীপুর চৌরাস্তায় ১০ সদস্যের একটি বিজিবি দল সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বিআরটিসির অতিরিক্ত ৬০টি দ্বিতল শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) বাস চালুর ব্যবস্থা হয়েছে।