শিক্ষার্থীর চুল কর্তন, প্রতিবাদ করায় স্কুল থেকে বহিষ্কার
গাজীপুরের কালীগঞ্জে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীর (৯) চুল কেটে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পর শিশুটিকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়।
গত ১৫ মার্চ কালীগঞ্জ পৌরসভার দুর্বাটি এলাকার ‘হিউম্যান বাড টিউটোরিয়াল’ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগে শিশুটির বাবা জানান, ১৫ মার্চ চুল বড় হওয়াকে অজুহাত দেখিয়ে আমার ছেলেকে শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে দেন আরবি শিক্ষক রুকন উদ্দিন। পরে সবার সামনে কাঁচি দিয়ে অগোছালো ও অপমানজনকভাবে তার মাথার চুল কেটে দেন ওই শিক্ষক।
এরপর শিশুটিকে ওই অবস্থায় শ্রেণিকক্ষে পাঠানো হলে সহপাঠীরা তাকে নিয়ে হাসাহাসি ও ঠাট্টা করে। পরে শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে বাড়িতে ফিরে বিষয়টি তার মাকে জানায়।
অভিযোগ করার পর বৃহস্পতিবার হিউম্যান বাড টিউটোরিয়ালের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ওম্মে হাফসার সই করা এক নোটিশে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের অভিযোগে ওই শিশুকে বিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে হিউম্যান বাড টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. মজিবুর রহমান এবং প্রধান শিক্ষক ওম্মে হাফসাকে ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
বিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক মারুফুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘চুল কাটার সিদ্ধান্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের। ওইদিন আরবি ক্লাসের সময় অজুখানায় নিয়ে চুল কাটা হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলে কোনো প্রফেশনাল নাপিত নেই, তাই চুল ঠিকভাবে কাটা হয়নি। অভিভাবককে বারবার সতর্ক করার পরও শিশুর চুল কাটা হয়নি, তাই চুল কাটা হয়েছে।’
মারুফুর রহমান আরও বলেন, ‘ঘটনার পর শিশুর আচরণ বেপরোয়া হয়ে পড়ে। তাই আজ তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
শিশুটির বাবা দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে অপমান করা হয়েছে। আমি প্রতিবাদ করায় তাকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এমন ঘটনা আরও অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও ঘটেছে, তবে কেউ প্রতিবাদ করেনি।’
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম কামরুল ইসলাম ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘শিশুর চুল কেটে দেওয়া ও তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের জন্য উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’