গোর-এ-শহীদ ময়দানে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত, শৈল্পিক স্থাপত্যে আকর্ষণ
দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলা দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর।
আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় ঈদ জামাত। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে জামাতে ইমামতি করেন দিনাজপুর জেলা ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান কাসেমি।
দিনাজপুর ও আশপাশের এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে নামাজে অংশ নেন। ঈদের দীর্ঘ মোনাজাতের আগে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য জাহাঙ্গীর আলম সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এক মাস সিয়াম সাধনার পর এই বৃহৎ ঈদ জামাত মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।
দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। মোনাজাতে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর শান্তি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নির্যাতিত মুসলমানদের মুক্তি কামনা করা হয়।
একই সঙ্গে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ ও ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার শান্তির জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, ২০১৭ সালের আগেও এই ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতো, তবে তখন কেবল একটি ছোট মিম্বার ছিল। পরে বড় পরিসরে মিনার নির্মাণের পর মুসল্লিদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং নামাজ আদায়কারীর সংখ্যাও কয়েকগুণ বেড়েছে।
‘মোগল স্থাপত্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ’ মিনার ও মেহরাব ময়দানের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে এবং মুসল্লিদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করেছে। মিনারটি এখন পর্যটকদের জন্যও অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২২ একর বিস্তৃত ও সবুজ ঘাসে আচ্ছাদিত গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নানা আয়োজনের কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ময়দানের পশ্চিম পাশের মিনারটি ৫১৬ ফুট দীর্ঘ। লাল, খয়েরি ও সাদা রঙের মিশ্রণে তৈরি এই মিনারটি সহজেই দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
স্থাপনাটিতে রয়েছে ৫৫ ফুট উঁচু মেহরাব ও ৫২টি গম্বুজ। প্রান্তে দুটি মিনারের উচ্চতা ৬০ ফুট, মাঝের দুটি ৫০ ফুট এবং টাইলস লাগানো আরেকটি মেহরাবের উচ্চতা ৪৭ ফুট। পুরো কাঠামোয় ৩২টি আর্চ এবং প্রতিটি গম্বুজে বৈদ্যুতিক আলোর ব্যবস্থা আছে।
মসজিদে নববি, কুয়েত, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের স্থাপনার আদলে তৈরি মিনারটি মোগল স্থাপত্যের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং নির্মাণব্যয় প্রায় চার কোটি টাকা।
ঈদের জামাতে দূরদূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস।
নীলফামারীর ডোমার উপজেলার সমীর উদ্দীন (৫৫) বলেন, এত বড় ময়দানে বিপুল মানুষের সঙ্গে নামাজ আদায় করতে খুবই ভালো লেগেছে। এতে এক ধরনের মানসিক প্রশান্তি পাওয়া যায়।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থেকে আসা লোকমান আলী বলেন, ‘সুবিশাল এই ঈদগাঁও ও মোগল স্থাপত্যের আদলে নির্মিত মিনারটি জায়গাটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। অনেকদিন ধরে এখানে নামাজ পড়ার ইচ্ছা ছিল। এবার কয়েকজন মিলে ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে চলে এসেছি।’
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রধান জামাত সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। আর পঞ্চগড়ে প্রধান জামাত জেলা কেন্দ্রীয় ঈদগাঁও, পৌরসভার রামেরডাঙ্গা এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।