ঈদে ঢাকায় একা? খেতে যেতে পারেন যেসব জায়গায়
ঈদে রাজধানী ঢাকা এক অন্য রূপ ধারণ করে। অধিকাংশ মানুষ নাড়ির টানে যখন শহর ছেড়ে পরিবারের কাছে, তখন এক বিশাল শূন্যতা ভর করে এই ইট-পাথরের নগরে।
এর মধ্যেই নানা কারণে ঢাকায় থেকে যায় একটি বড় অংশ, যাদের মধ্যে রয়েছে ব্যাচেলর, মেসে থাকা শিক্ষার্থী, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জরুরি সেবায় নিয়োজিত কর্মী, শ্রমিক কিংবা পরিবার থেকে দূরে থাকা একাকী কেউ।
ঈদের দিন অনেকের বাসায় রান্না হয় না, আবার হাতের কাছের সাধারণ হোটেলগুলোও বন্ধ থাকে। তাই ঢাকার কিছু নির্দিষ্ট রেস্তোরাঁই হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র ভরসা।
এসব রেস্তোরাঁতে গিয়ে কেউ বিরিয়ানি, কেউ কাবাব, আবার কেউ কফি আর হালকা খাবারে সেরে নেন ঈদের আহার।
ঈদের দিনও সাধারণত খোলা থাকে—ঢাকার এমন ১২ জায়গার খোঁজ দেওয়া হলো এই লেখায়।
স্টার কাবাব ও রেস্টুরেন্ট
ঢাকার ভোজনরসিকদের কাছে স্টার কাবাব এক অতি পরিচিত নাম। পুরান ঢাকা, ফার্মগেট, ধানমন্ডি—শহরের বিভিন্ন এলাকায় এর শাখা রয়েছে।
ঈদের দিন দুপুরের পর থেকেই এখানে ভোজনরসিকদের আনাগোনা শুরু হয়। খাসির ভুনা, নেহারি, কাচ্চি, নান-কাবাব—সবকিছুই তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে পাওয়া যায়। ব্যাচেলর বা শ্রমজীবী মানুষের জন্য এটি বরাবরের মতোই এক আস্থার ঠিকানা।
সুলতানস ডাইন
কাচ্চি বিরিয়ানির রাজকীয় স্বাদের জন্য সুলতান’স ডাইনের জনপ্রিয়তা এখন তুঙ্গে। ধানমন্ডি, মিরপুর, উত্তরা ও বসুন্ধরাসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে এর শাখা রয়েছে। ঈদের দিন সাধারণত বিকেল থেকে রেস্তোরাঁটি খুলে দেওয়া হয়।
এক প্লেট কাচ্চি, সঙ্গে বোরহানি আর চাটনি—পরিবারহীন একাকী ঈদে এই আয়োজনটুকুই অনেকের মন ভরিয়ে দেয়।
কাচ্চি ভাই
তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘কাচ্চি ভাই’ বর্তমানে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মূলত সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত কাচ্চি ও মোঘলাই খাবারের জন্য এটি পরিচিত।
ঈদের দিন বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে এদের অধিকাংশ শাখা চালু হয়। বন্ধুবান্ধব বা সহকর্মীদের নিয়ে আড্ডার ছলে এক প্লেট কাচ্চি খাওয়ার জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান।
ফখরুদ্দীন বিরিয়ানি ও কাবাব
ঐতিহ্যবাহী বিরিয়ানির স্বাদে ফখরুদ্দীন একটি পুরোনো ও নির্ভরযোগ্য নাম। বাসমতী চালের সুগন্ধি বিরিয়ানি আর নরম মাংসের স্বাদে মাতোয়ারা হতে অনেকেই এখানে ভিড় করেন।
যারা ঈদের দিন পরিবার ছাড়া ঢাকায় থাকেন, তাদের জন্য বিকেলে বা সন্ধ্যায় ফখরুদ্দীনের বিরিয়ানি হতে পারে সেরা তৃপ্তি।
হাজী বিরিয়ানি
পুরান ঢাকার বিরিয়ানির ঐতিহ্যে হাজী বিরিয়ানির নাম সবার আগে আসে। ছোট দোকান হলেও এর স্বাদ বিশ্বজুড়ে সমাদৃত।
যারা ঈদের দিন পুরান ঢাকায় ঘুরতে যান, তারা এখানে এসে ছোট প্লেটের বিরিয়ানি চেখে দেখতে পারেন। এর স্বতন্ত্র মসলা আর সুগন্ধ অনেকের কাছেই ঈদের অন্যতম আকর্ষণ।
নান্না বিরিয়ানি
ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নান্না বিরিয়ানি পাওয়া যায় এবং ব্যাচেলরদের কাছে এটি বেশ জনপ্রিয়। বিরিয়ানি, তেহারি ও কাবাব—সবই এখানে পাওয়া যায় মাঝারি দামে।
ঈদের দিন সাধারণত আংশিক সময় খোলা থাকে বিধায় রান্নার ঝামেলা এড়াতে অনেকে এখানে ভিড় করেন।
কয়লা রেস্টুরেন্ট
কয়লা মূলত গ্রিল ও কাবাবের জন্য বিখ্যাত। বনানী ও এর আশপাশের এলাকায় এটি বেশ জনপ্রিয়। ঈদের দিন যারা একটু নিরিবিলি ও শান্ত পরিবেশে চিকেন গ্রিল বা মোঘলাই খাবার উপভোগ করতে চান, তাদের জন্য কয়লা একটি চমৎকার বিকল্প হতে পারে।
আল মজলিস অ্যারাবিয়ান রেস্টুরেন্ট
আরবীয় খাবারের স্বাদ নিতে চাইলে আল মজলিস একটি অনন্য নাম। মান্ডি, কাবসা বা গ্রিল চিকেন—ভিন্নধর্মী খাবারের অভিজ্ঞতার জন্য এটি পরিচিত। বন্ধুদের সাথে বড় প্লেটে খাবার ভাগ করে খাওয়ার আনন্দ এখানে পূর্ণতা পায়।
পিজ্জা হাট
ভারী দেশি খাবার এড়িয়ে যারা একটু ফাস্টফুড বা ইতালীয় স্বাদ খুঁজছেন, তাদের জন্য পিজ্জা হাট সবসময়ই প্রিয়।
ঢাকার প্রায় সব বড় শপিং মল ও বাণিজ্যিক এলাকায় এর শাখা আছে। ঈদের দিন বিকেল থেকে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা আর পিজ্জা ভাগ করে খাওয়ার জন্য এটি দারুণ জায়গা।
কেএফসি
বিশ্বখ্যাত ফ্রাইড চিকেন ব্র্যান্ড কেএফসির সার্ভিস ও সহজলভ্যতা ব্যাচেলরদের জন্য বেশ সুবিধাজনক। ঈদের দিন বিকেলের দিকে দ্রুত খাবার পেতে অনেকেই এখানে ভিড় করেন। চিকেন বাকেট, বার্গার বা ফ্রাইয়ের স্বাদে একাকী ঈদও আনন্দময় হয়ে উঠতে পারে।
ক্যাফে ম্যাংগো
ধানমন্ডি এলাকার তরুণদের কাছে ক্যাফে ম্যাংগো একটি পছন্দের আড্ডার স্থল। এখানে কফি, পাস্তা বা স্যান্ডউইচের মতো হালকা খাবার পাওয়া যায়। ঈদের বিকেলে যারা খুব বেশি ভারী খাবার না খেয়ে একটু আরামদায়ক পরিবেশে সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এটি উপযুক্ত।
নবাব চাটগাঁ
ঢাকায় বসে চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস বা কালাভুনার স্বাদ পেতে নবাব চাটগাঁর বিকল্প নেই। ঈদের দিন যারা ঝাল-মসলাদার গরুর মাংসের ঐতিহ্যবাহী স্বাদ খুঁজছেন, তাদের জন্য এটি হতে পারে চমৎকার গন্তব্য। বন্ধুদের সঙ্গে বড় আয়োজনে খাওয়ার জন্য এখানে সুন্দর পরিবেশ পাওয়া যায়।