ঈদের দিন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার রোগীতে ‘পঙ্গু হাসপাতালে’ উপচে পড়া ভিড়
বছরের অন্য যেকোনো দিনের চেয়ে আজ ঈদের দিন বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) জরুরি বিভাগে রোগী ছিল অনেক বেশি।
শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী মানুষ এসেছেন নানা ধরনের আঘাত পেয়ে আহত হয়ে। কারো হাত ভাঙা, কারো পা। আবার কেউ এসেছেন ছোটখাটো আঘাত নিয়ে।
তাদের মধ্যে অনেকের চিৎকার নিটোরের জরুরি বিভাগের প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
নিটোর সাধারণ মানুষের কাছে ‘পঙ্গু হাসপাতাল’ নামেই পরিচিত। হাসপাতালের যে পরিস্থিতি তাতে বোঝার উপায় নেই যে আজ ঈদের দিন এবং সারা দেশে মানুষ উৎসব উদযাপন করছে।
রিসেপশনে থাকা দুই নার্সের একজন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অন্যান্য দিনের তুলনায় আজ রোগী অনেক সংখ্যা বেশি।’
তিনি জানান, অধিকাংশ রোগী এসেছেন মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়ে।
অপর একজন কর্মীর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই পাশ দিয়ে ট্রলিতে করে এক যুবককে হাসপাতালে আনা হয়।
রোগীর মামা দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, তার ভাগ্নে জুবায়েরের বয়স ১৮ বছর। সে এইচএসসি পরীক্ষার্থী।
তিনি বলেন, ‘সে বড় ভাইয়ের মোটরসাইকেল নিয়ে বেড়াতে বের হয়ে অ্যাকসিডেন্ট করেছে। ওর ডান পা ভেঙে গেছে।’
নরসিংদী সদর থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
২৫ বছর বয়সী আরেক রোগী রাকিব এসেছেন বাম হাত ভাঙা অবস্থায়।
জরুরি বিভাগে দ্য ডেইলি স্টারকে তিনি বলেন, ‘আমি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলাম। উল্টো দিক থেকে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ইসিবি চত্বরে আমার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে দিলো। পড়ে গিয়ে আমার হাত ভেঙে যায়।’
তিনি দাবি করেন, ‘দোষ ওই সিএনজিচালকেরই ছিল। কিন্তু হাত ভাঙলো আমার। ঈদটাই মাটি হয়ে গেল।’
নিটোরের জরুরি বিভাগে শয্যা ১০টি। কিন্তু, রোগীর চাপে সেখানে স্থান সংকুলান হচ্ছে না। বেশ কয়েকজন রোগীকে ট্রলিতেই রাখা হয়েছে।
সেখানে তিনজন চিকিৎসক, ৭-৮ জন নার্সসহ কয়েকজন সহায়ক কর্মী রোগীদের সেবা দিচ্ছিলেন।
বিকেল ৫টার দিকে দু-তিনজন রোগীকে জরুরি অপারেশন থিয়েটারের সামনে অপেক্ষায় থাকতে দেখা যায়।
এই দুই বিভাগ ছাড়া বিশেষায়িত এ হাসপাতালটির অন্যান্য অংশ তুলনামূলকভাবে শান্ত। সেখানে রোগী ও তাদের স্বজনদের উপস্থিতি বেশ কম।
ঈদের ছুটির কারণে হাসপাতালের বহির্বিভাগ বন্ধ ছিল। বহির্বিভাগে টাঙানো নোটিশে লেখা রয়েছে, ২৩ মার্চ থেকে এই বিভাগের সেবা পাওয়া যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নার্স দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, আজ শনিবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত মোট ১৫১ জন রোগী হাসপাতালটির জরুরি বিভাগে এসেছেন।
নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবুল কেনান বলেন, ‘ঈদের ছুটির সময় সাধারণত সড়ক দুর্ঘটনায় আহত রোগীর সংখ্যা বেড়ে যায়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে রোগীরা এখানে আসেন। কারণ, অনেক হাসপাতালই বন্ধ থাকে বা সীমিত সেবা পাওয়া যায়।’
তিনি বলেন, ‘গত বছর ঈদের ছুটিতে আমরা যেসব রোগী পেয়েছিলাম তার বেশিরভাগেই তিন চাকার যানে দুর্ঘটনায় আহত রোগী। কিন্তু এবার মোটরসাইকেল চালকরাই সংখ্যায় বেশি।’
তিনি জানান, এই ছুটির সময়ে প্রতি শিফটে ১৮ জন করে মোট ৩৬ জন চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করছেন। জরুরি পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে আরও চিকিৎসক যোগ দেবেন।