জামালপুর

পিকআপে ছিল ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস, ৫ জনের কারাদণ্ড

নিজস্ব সংবাদদাতা, জামালপুর

জামালপুর সদর উপজেলায় একটি পিকআপ ভ্যান থেকে প্রায় ৯০০ কেজি ঘোড়ার মাংস জব্দ করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও মোট এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

আজ রোববার সকালে উপজেলার নরুন্দি বাজার এলাকার মিরাপুর ঘাট এলাকা থেকে এসব মাংস জব্দ করা হয়।

জামালপুরের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার হানচারপাড় গ্রামের জুয়েল (৪০), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ডোবাকান্দি গ্রামের শহীদ মিয়া (৪০), চরদোবাকান্দি গ্রামের আলফাজ মিয়া (৪৫) ও মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি গ্রামের হুমায়ুন (৪৭) এবং শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার বাটকুল গ্রামের রাসেল মিয়া (৩০)।

পুলিশ জানায়, রোববার ভোর ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী তুলশীরচর ইউনিয়ন থেকে মাংসের বস্তা বোঝাই করে পিকআপটি মিরাপুর ঘাটে আসে। গাড়ি থেকে বস্তা নামানোর সময় তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা পিকআপটি আটকে পুলিশে খবর দেন।

খবর পেয়ে নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পিকআপটি জব্দ করেন। এ সময় পিকআপ থেকে ১৩ বস্তা মাংস উদ্ধার ও পাঁচজনকে আটক করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, এসব মাংস বিক্রির জন্য ঢাকায় নেওয়া হচ্ছিল।

পরে পশু জবাই ও মাংসের মান নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১১ এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইমন হোসেন।

তিনি জানান, মাংস ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে ছয় মাস করে এবং পিকআপের চালক ও হেলপারকে দুই মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে পাঁচজনকে মোট এক লাখ ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং জরিমানা অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদে অতিরিক্ত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্দেশে জব্দ করা প্রায় ৯০০ কেজি মাংস পরে বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়েছে।

জামালপুর সদর উপজেলার নরুন্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. নাজমুল হক ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই চক্রটি অনেক দিন ধরেই ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছে। চক্রটি ধরতে পুলিশ দীর্ঘদিন কাজ করে যাচ্ছে। অবশেষে ঘোড়ার মাংসসহ চক্রটির সদস্যদের আটক করা হয়।’