ব্যাংকের গ্রাহকের কোটি টাকা আত্মসাৎ: সার্ভারে ত্রুটি বলে হাতে লেখা রশিদ দিতেন তারা

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

লক্ষ্মীপুরে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ৪৮ গ্রাহকের এক কোটি টাকা আত্মসাতের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

এ ঘটনায় মূল আসামি মো. নাছির উদ্দিন ওরফে খোকনকে প্রায় এক বছর আগে গ্রেপ্তার করা হলেও গতকাল শনিবার তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আজ রোববার বিকেলে পিবিআইর নোয়াখালী কার্যালয়ের বিশেষ পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

এতে বলা হয়, গতকাল লক্ষ্মীপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (দায়িত্বপ্রাপ্ত) তাসলিমা ইসলামের আদালতে  ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন মো. নাছির উদ্দিন। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার সাহাপুর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে।

পিবিআইয়ের তদন্তে জানা গেছে, ২০১৯ সাল থেকে জেলার মিরিকপুর শাখার একটি আউটলেটের দায়িত্বে ছিলেন নাছির। সেসময় ব্যাংক টেলার মো. শহিদুল্লাহ ওরফে জিয়াসহ আরও কয়েকজনের যোগ সাজসে গ্রাহকদের টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেন। ব্যাংকের সার্ভারে ত্রুটির কথা বলে গ্রাহকদের ভুয়া ও হাতে লেখা জমা রশিদ দিতেন তারা। এভাবে মোট ১ কোটি ৫ লাখ ৫৭ হাজার ৫০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। গ্রাহকরা টাকা উত্তোলন বা হিসাব হালনাগাদ করতে গেলে বিষয়টি সামনে আসে। পরে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান।

এ ঘটনায় গত বছর ১ জুলাই লক্ষ্মীপুর সদর থানার একটি মামলা করা হয়। ওই বছরই ৩ আগস্ট নাছিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্তে অগ্রগতি না হলে লক্ষ্মীপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেন।

পিবিআইয়ের এসআই মো. কামাল আব্বাস আদালতের অনুমতি নিয়ে আসামিকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এসব তথ্য বের হয়ে আসে।

পুলিশ সুপার ফয়জুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ আত্মসাতের বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে এসেছে।’

ঘটনার সঙ্গে জড়িত পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।