নোয়াখালীতে বিএনপি নেতার উদ্দেশে ছোড়া গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়ে সহযোগী আহত

নিজস্ব সংবাদদাতা, নোয়াখালী

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির এক নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় জেলা বিএনপির সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম (৬৫) রক্ষা পেলেও তার সহযোগী ইয়াছিন সেন্টু (৪৭) গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

আজ শুক্রবার সকালে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবিবুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, গত রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের হকার্স মার্কেটে এই হামলা হয়। সেন্টুকে প্রথমে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আবুল কাশেম নোয়াখালী জাতীয় হকার্স সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি। স্থানীয়দের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, রাতে কাশেম হকার্স মার্কেটের কার্যালয় থেকে সেন্টুকে সঙ্গে নিয়ে বের হন। তারা মূল গলিতে চায়ের দোকানের সামনে পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়।

দুই যুবক মোটরসাইকেলে এসে গুলি ছোড়েন। তারা হেলমেট পরে ছিলেন। সেন্টু সে সময় কাশেমকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়ার সময় একটি গুলি তার পেটের বাঁ পাশে লাগে। আবুল কাশেমের হাতেও গুলির আঁচড় লাগে, জানায় পুলিশ।

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. নাহিদ হাসান জানান, গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বেগমগঞ্জ সার্কেল) এএনএম ইমরান খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন আবুল কাশেম। তবে গুলিবিদ্ধ হন তার সহযোগী। হামলার কারণ ও হামলাকারীদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’

এ বিষয়ে জানতে আবুল কাশেমের মোবাইল ফোনে কল করা হলে বন্ধ পাওয়া যায়।

বেগমগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক বাবু কামাক্ষ্যা চন্দ্র দাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহাবুব আলমগীর আলোর ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।