আড়াইহাজারে মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বে বিএনপি নেতাকে হত্যা

নিজস্ব সংবাদদাতা, নারায়ণগঞ্জ

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলায় মাটি কাটা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদককে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে।

এ অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাসহ চারজনকে আটকের কথা জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত ওসমান গনি উপজেলার ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

গতরাত ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাও চরপাড়া এলাকার একটি বিলে মাটি কাটার সময় তাকে কুপিয়ে জখম করা হয়। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে জানান আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন।

এর প্রতিবাদে সকালে নিহতের স্বজন ও অনুসারী দলীয় নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। ওসি জানান, ওই এলাকার পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রমজান আলী ও তার তিন সহযোগীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়ির পাশের দুপ্তারা ইউনিয়নের একটি জমি থেকে মাটি কাটার কাজ নিয়েছিলেন ওসমান গনি। এতে বাধা দেন ওই ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রমজান আলী। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার বিকেলেও তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়েছিল।

ওসমান গনি আড়াইহাজার উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার নাত-জামাই।

ইউসুফ আলী ভূঁইয়া মোবাইল ফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গনির নিজের এক্সকাভেটর আছে। সে মাটি কাটার কাজ করে। ওই এলাকায় একটা জমির মাটি কাটার কাজ পেলে তাতে চাঁদা দাবি করে রমজান। এইকথা আমরা পুলিশেও জানিয়েছিলাম।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে ওসি আলাউদ্দিন বলেন, ‘একটি পুকুরের মাটি কেটে আরেকটি জায়গা ভরাটের কাজ করছিলেন ওসমান গনি। এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরেই ঘটনাটি ঘটেছে। আমরা চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। তাদের সঙ্গে আগের দিন মাটি কাটা নিয়ে ঝগড়া হয়েছিল। হত্যাকাণ্ডেও তাদের সম্পৃক্ততা আছে কিনা জানতে তদন্ত চলছে।’