ছাত্রদলের সংঘর্ষ: ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত, হল ছাড়ার নির্দেশ

নিজস্ব সংবাদদাতা, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবাসে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। গতকাল শুক্রবার রাতের এ ঘটনার পর আজ কলেজের সব ক্লাস ও পরীক্ষা এক সপ্তাহের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।

কলেজের অধ্যক্ষ মো. নাজমুল আলম খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আরও জানান যে, শিক্ষার্থীদের আজ সকাল ৮টার মধ্যে ছাত্রাবাস ও ছাত্রীনিবাস খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার ভোরে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত রাত ৯টার দিকে নগরীর বাঘমারা এলাকায় কলেজের ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

ক্যাম্পাস সূত্র জানায়, আহত দুই শিক্ষার্থী মো. মুয়াজ ও মীর হামিদুল দুজনেই তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং তারা কলেজ ছাত্রদলের পৃথক দুই গ্রুপের সদস্য।

পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেলে তেল ভরাকে কেন্দ্র করে মুয়াজ ও হামিদুলের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এক পর্যায়ে এটি হাতাহাতিতে রূপ নিলে হামিদুল ও তার সহযোগীরা মুয়াজকে মারধর করে মীর হামিদুরের রুম থেকে বের করে দেয়।

পরে হামিদুল চা খেতে বাইরে বের হলে তার ওপর হামলা চালানো হয় এবং স্টিলের পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য মুয়াজকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং হামিদুল ময়মনসিংহে চিকিৎসাধীন আছেন।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিউল ইসলাম জানান, পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এই ঘটনায় নাফিউল ইসলাম (২৫) নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা করা হয়নি। পুরো ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।