কোন বয়সে নারীদের ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্টের ঝুঁকি বেশি

স্মৃতি মন্ডল
স্মৃতি মন্ডল

ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই উপসর্গহীন। যে কারণে এটি নীরবে বেড়ে ওঠে এবং কিছু ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতির কারণ হতে পারে।

ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট কী এবং এর ঝুঁকি ও চিকিৎসা সম্পর্কে জানিয়েছেন আশুলিয়া নারী ও শিশু হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিভাগের অধ্যাপক ডা. আঞ্জুমান আরা রিতা।

ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট কী, কেন হয়

অধ্যাপক ডা. আঞ্জুমান আরা রিতা বলেন, ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট ডিম্বাশয়ের একটি বিনাইন টিউমার (ক্যানসার নয়)। এটিকে ম্যাচিউর সিস্টিক টেরাটোমাও‌ বলা হয়। এতে ত্বক, চুল, দাঁত, চর্বি ও হাড়ের মতো বিভিন্ন টিস্যু থাকতে পারে।

এই টিউমারের কারণ সাধারণত জন্মগত। এটি জার্মসেল থেকে উৎপন্ন হয়। ওভারিয়ান ডারময়েড সিস্ট প্রজনন বয়সে প্রকাশ পায় এবং ধীরে ধীরে বড় হয়।

কাদের বেশি হয়

সাধারণত ১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী নারীরা আক্রান্ত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা একদিকের ডিম্বাশয়ে হয়। প্রায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্ষেত্রে উভয় ডিম্বাশয়ে হতে পারে ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট।

ঝুঁকি

১. এই টিউমারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি ওভারিয়ান সিস্ট টরশন, অর্থাৎ ওভারি ঘুরে যাওয়া

২. সিস্ট ফেটে যাওয়া (রাপচার্ড)

৩. ক্যানসারের রূপান্তরিত হওয়া

৪. সংক্রমণ

লক্ষণ

ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট অনেক সময় উপসর্গহীন থাকে। তবে লক্ষণ থাকলে হতে পারে—

১. তলপেটে ব্যথা

২. তলপেটে ভারী ভারী ভাব অনুভব হওয়া

৩. তলপেট ফোলা

৪. হঠাৎ তীব্র ব্যথা যেটা টরশন হলে হয়

চিকিৎসা

অধ্যাপক ডা. আঞ্জুমান আরা রিতা বলেন, ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্ট উপসর্গহীন ও ছোট সিস্ট হলে অবজারভেশন, মানে নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।‌

সাধারণত আলট্রাসনোগ্রাফি করার মাধ্যমে ওভারিয়ান ডার্ময়েড সিস্টের আকৃতি ও অবস্থান সম্পর্কে জানা যায়। জটিল বা সন্দেহজনক ক্ষেত্রে প্রয়োজনে সিটি স্ক্যানসহ অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয় রোগীর।

সিস্ট ৫ সেন্টিমিটার অথবা তার বেশি হলে, উপসর্গ থাকলে সেক্ষেত্রে চিকিৎসা হলো অস্ত্রোপচার করা। কীভাবে অস্ত্রোপচার করা হবে সেটি রোগীর অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।

কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে সিসটেক্টমি (ডিম্বাশয় রেখে টিউমার ফেলে দেওয়া), বয়স্ক নারী বা সন্দেহজনক টিউমার হলে সেক্ষেত্রে ওফোরেক্টমি (ডিম্বাশয় ফেলে দেওয়া) করা হয়।

অস্ত্রোপচারে সাধারণত ল্যাপারোটমি পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। অনেক সময় ল্যাপারোস্কপির মাধ্যমে করা যায়।

অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চলতে হবে। জটিলতা এড়াতে যেকোনো সমস্যাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং নিয়মিত চেক-আপ করা জরুরি।