ভ্রমণে নতুন জায়গায় ঘুম আসে না? কাজে লাগতে পারে কিছু উপায়

স্টার অনলাইন ডেস্ক

নতুন শহর, নতুন হোটেল বা নতুন বাসায় পৌঁছানোর পর অনেকেই একটি সমস্যার মুখোমুখি হন—ঘুম আসে না। সারাদিনের ভ্রমণের ক্লান্তি থাকা সত্ত্বেও বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করতে হয়। আবার কারও ঘুম এলেও মাঝরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যায়। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। নতুন পরিবেশে প্রথম রাতের ঘুম অনেকেরই স্বাভাবিক হয় না। বিশেষজ্ঞরা একে কখনো কখনো ‘ফার্স্ট নাইট ইফেক্ট’ বলেও উল্লেখ করেন। অর্থাৎ, নতুন পরিবেশে মস্তিষ্কের একটি অংশ কিছুটা সতর্ক অবস্থায় থাকে।

প্রথম রাতেই নিখুঁত ঘুমের আশা করবেন না

নতুন জায়গায় পৌঁছেই যদি মনে করেন আজ অবশ্যই আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে, তাহলে উল্টো চাপ তৈরি হতে পারে। প্রথম রাতে কিছুটা কম ঘুম হওয়া স্বাভাবিক। তাই ঘুম না আসা নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন না হয়ে শরীরকে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া ভালো।

পরিচিত রুটিন ধরে রাখার চেষ্টা করুন

বাড়িতে ঘুমানোর আগে যদি বই পড়েন, হালকা গান শোনেন, চা পান করেন বা অন্য কোনো অভ্যাস থাকে, ভ্রমণেও সেটি ধরে রাখার চেষ্টা করতে পারেন। পরিচিত রুটিন অনেক সময় মস্তিষ্ককে সংকেত দেয় যে এখন বিশ্রামের সময়।

ঘরের আলো ও তাপমাত্রা নিজের মতো করে নিন

হোটেল ঘরে অনেক সময় অতিরিক্ত আলো থাকতে পারে। কোথাও আবার ঘর বেশি ঠান্ডা বা গরম লাগতে পারে। ঘুমানোর আগে পর্দা টেনে দেওয়া, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত কম্বল ব্যবহার করা বা কক্ষের তাপমাত্রা ঠিক করে নেওয়া স্বস্তি বাড়াতে পারে।

পরিচিত কোনো জিনিস সঙ্গে রাখতে পারেন

অনেক নিয়মিত ভ্রমণকারী নিজের বালিশ না হলেও বালিশের কভার, ছোট একটি কম্বল বা পরিচিত কোনো জিনিস সঙ্গে রাখেন। শুনতে তুচ্ছ মনে হলেও পরিচিত গন্ধ বা পরিচিত অনুভূতি নতুন পরিবেশে স্বস্তি এনে দিতে পারে।

ঘুমানোর আগে ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন

নতুন শহরে গিয়ে স্থানীয় খাবার চেখে দেখার আগ্রহ থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে ঘুমানোর ঠিক আগে অতিরিক্ত ভারী বা মশলাদার খাবার খেলে অস্বস্তি হতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণের পর শরীর ক্লান্ত থাকলে হালকা খাবার অনেকের জন্য বেশি আরামদায়ক হয়।

ফোন স্ক্রল করতে করতে ঘুমানোর চেষ্টা করবেন না

ঘুম না এলে অনেকেই ফোন হাতে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সময় কাটাতে শুরু করেন। কিন্তু এতে ঘুম আরও পিছিয়ে যেতে পারে। বরং আলো কমিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়া, বই পড়া বা শান্ত কোনো অডিও শোনা তুলনামূলক বেশি সহায়ক হতে পারে।

দিনের বেলা কিছুটা বাইরে বের হন

নতুন জায়গায় পৌঁছে পুরো দিন ঘরে কাটালে রাতে ঘুম আসতে সমস্যা হতে পারে। সম্ভব হলে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করুন। দিনের আলোতে সময় কাটানো শরীরকে নতুন পরিবেশ ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সাহায্য করতে পারে।

ঘড়ি দেখতে থাকবেন না

রাত দুইটায় ঘুম ভেঙে গেল। এরপর প্রতি ১০ মিনিট পরপর সময় দেখছেন—এটি অনেকেরই পরিচিত অভ্যাস। কিন্তু এতে উদ্বেগ আরও বাড়তে পারে। কখন ঘুম আসবে, তা নিয়ে চিন্তা করার বদলে শরীরকে বিশ্রাম দেওয়ার চেষ্টা করা ভালো।

প্রয়োজনে ইয়ারপ্লাগ বা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করুন

নতুন জায়গার শব্দও অনেক সময় ঘুমের সমস্যা তৈরি করে। পাশের ঘরের শব্দ, রাস্তার যানবাহন কিংবা হোটেলের করিডোরের আওয়াজ ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এক্ষেত্রে ইয়ারপ্লাগ বা নয়েজ-ক্যানসেলিং হেডফোন কাজে আসতে পারে।

পৌঁছেই ঘুমিয়ে পড়বেন না

দীর্ঘ যাত্রার পর বিছানা দেখলেই ঘুমাতে ইচ্ছা করতে পারে। কিন্তু যদি স্থানীয় সময় বিকেল বা সন্ধ্যা হয়, তাহলে কয়েক ঘণ্টা জেগে থাকার চেষ্টা করা ভালো। এতে শরীর দ্রুত নতুন সময়সূচির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে এবং রাতের ঘুমও তুলনামূলক স্বাভাবিক হতে পারে।

ঘুম না এলে আতঙ্কিত হবেন না

অনেক সময় সবচেয়ে বড় সমস্যা হয় ঘুম না আসা নিয়ে দুশ্চিন্তা করা। ‘আগামীকাল সকালে কাজ আছে’, ‘এখনো ঘুম এলো না’—এ ধরনের চিন্তা ঘুমকে আরও দূরে সরিয়ে দিতে পারে। প্রথম রাতে কম ঘুম হলেও সাধারণত শরীর এক-দুই দিনের মধ্যে নতুন পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে নেয়। তাই ঘুম না এলে আতঙ্কিত না হয়ে নিজেকে কিছুটা সময় দেওয়াই ভালো।

ভ্রমণে নতুন জায়গায় ঘুমের সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে কিছু ছোট প্রস্তুতি ও অভ্যাস নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়াকে সহজ করতে পারে। আর অনেক ক্ষেত্রে, প্রথম রাতটা পার হয়ে গেলে সমস্যাটিও নিজে থেকেই কমে আসে।