তিন মাসে আইইএলটিএস প্রস্তুতি: কীভাবে পরিকল্পনা করবেন?
আইইএলটিএস পরীক্ষার তারিখ ঠিক করেছেন, হাতে সময় আছে তিন মাস। এখন প্রশ্ন হলো, এই সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগাবেন? শুরু থেকেই একের পর এক মক টেস্ট দেবেন, নাকি আগে ইংরেজির দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করবেন? চারটি অংশেই কি সমান সময় দেবেন, নাকি যেটিতে সমস্যা বেশি, সেটিতে বেশি মনোযোগ দেবেন?
তিন মাসে প্রস্তুতি নেওয়ার সুবিধা হলো, পুরো সময়টাকে কয়েকটি ধাপে ভাগ করে এগোনো যায়। প্রথমে পরীক্ষার ধরন বুঝে নিজের অবস্থান যাচাই করা, এরপর দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করা এবং শেষ দিকে পরীক্ষার মতো পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলন করা যায়। তবে তিন মাস সবার জন্য যথেষ্ট হবে, এমন নয়। আপনার ইংরেজির বর্তমান দক্ষতা এবং কাঙ্ক্ষিত ব্যান্ড স্কোরের ওপর প্রস্তুতির সময় অনেকটাই নির্ভর করবে।
তাই হাতে থাকা ১২ সপ্তাহে কত ঘণ্টা পড়বেন, শুধু সেই হিসাব না করে কখন কী নিয়ে কাজ করবেন, সেই পরিকল্পনাটাই আগে করা দরকার।
শুরুতেই নিজের অবস্থান বুঝুন
প্রথম সপ্তাহেই একটি পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিয়ে দেখুন বর্তমানে আপনি কোথায় আছেন। সম্ভব হলে পরীক্ষার মতো সময় ধরে লিসেনিং, রিডিং ও রাইটিং অংশগুলো করুন। স্পিকিংয়ের জন্য নিজের উত্তর রেকর্ড করেও শুনতে পারেন।
শুধু কত স্কোর হলো, সেটি দেখলেই হবে না। কোন ধরনের প্রশ্নে বেশি ভুল হচ্ছে, সেটিও খেয়াল করুন। রিডিং শেষ করতে সময় বেশি লাগছে? লিসেনিংয়ে বানান ভুল হচ্ছে? রাইটিংয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লেখা শেষ করতে পারছেন না? নাকি স্পিকিংয়ে উত্তর জানা থাকলেও বলতে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন? এই সমস্যাগুলো চিহ্নিত করেই পরের তিন মাসের পরিকল্পনা সাজান।
প্রথম মাস: ভিত্তি ও পরীক্ষার ধরন বুঝুন
প্রথম মাসের লক্ষ্য হওয়া উচিত আইইএলটিএসের চারটি অংশের সঙ্গে ভালোভাবে পরিচিত হওয়া। লিসেনিং, রিডিং, রাইটিং ও স্পিকিংয়ে কী ধরনের প্রশ্ন আসে এবং প্রতিটি অংশে কতটা সময় পাওয়া যায়, সেগুলো জেনে নিন।
রিডিংয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন আলাদাভাবে অনুশীলন করতে পারেন। শুরুতেই দ্রুত শেষ করার চাপ না নিয়ে কেন উত্তর ভুল হচ্ছে, সেটি বোঝার চেষ্টা করুন।
লিসেনিংয়ে শুধু মক টেস্টের অডিও না শুনে নিয়মিত ইংরেজি শোনার অভ্যাসও তৈরি করুন। সংবাদ, সাক্ষাৎকার, পডকাস্ট বা অন্য কোনো আগ্রহের বিষয় শুনতে পারেন। কোনো অংশ বুঝতে সমস্যা হলে আবার শুনুন এবং নতুন শব্দ বা উচ্চারণ খেয়াল করুন।
রাইটিংয়ের ক্ষেত্রে প্রশ্ন বুঝে উত্তর দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিন। কীভাবে ভূমিকা, মূল অংশ ও উপসংহার সাজাবেন, সেটির চর্চা করুন। কঠিন শব্দ ব্যবহারের চেয়ে বক্তব্য পরিষ্কারভাবে প্রকাশ করার অভ্যাস তৈরি করুন।
আর স্পিকিংয়ের জন্য প্রতিদিন কিছুটা সময় ইংরেজিতে কথা বলুন। একা হলেও সমস্যা নেই। পরিচিত কোনো বিষয় নিয়ে এক বা দুই মিনিট কথা বলে নিজের ফোনে রেকর্ড করতে পারেন।
দ্বিতীয় মাস: দুর্বল জায়গায় বেশি সময় দিন
এক মাস অনুশীলনের পর নিজের দুর্বল জায়গাগুলো আরও পরিষ্কার হওয়ার কথা। দ্বিতীয় মাসে তাই চারটি অংশে সমান সময় দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ধরুন, রিডিং ও লিসেনিংয়ে ভালো করছেন, কিন্তু রাইটিংয়ে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে যেতে পারছেন না। তাহলে রাইটিংয়ে তুলনামূলক বেশি সময় দিন। আবার স্পিকিংয়ে বারবার থেমে গেলে নিয়মিত কথা বলার চর্চা বাড়াতে হবে।
এ সময় ভুলের একটি খাতা রাখতে পারেন। রিডিংয়ে কোন ধরনের প্রশ্নে ভুল হচ্ছে, লিসেনিংয়ে কোন শব্দ শুনতে সমস্যা হচ্ছে কিংবা রাইটিংয়ে কী ধরনের ভুল বারবার করছেন, সেগুলো লিখে রাখুন। সপ্তাহ শেষে সেই তালিকা দেখলে নিজের দুর্বলতার ধরন বোঝা সহজ হবে।
এই মাস থেকেই সময় ধরে অনুশীলনের পরিমাণও বাড়ান। কারণ উত্তর জানা এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে উত্তর দিতে পারা এক বিষয় নয়।
তৃতীয় মাস: পরীক্ষার পরিবেশে অনুশীলন করুন
শেষ মাসে নতুন নতুন কৌশল শেখার চেয়ে এত দিনের প্রস্তুতিকে পরীক্ষার উপযোগী করে তোলার দিকে মনোযোগ দিন। নির্দিষ্ট সময় ধরে পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিন। পরীক্ষা যদি কম্পিউটারভিত্তিক হয়, তাহলে কম্পিউটারে টাইপ করে রাইটিং অনুশীলন করুন।
প্রতিটি মক টেস্টের পর শুধু ব্যান্ড স্কোর নিয়ে চিন্তা না করে ভুল বিশ্লেষণ করুন। আগের ভুলগুলো কি এখনো হচ্ছে? সময়ের অভাবে কোনো অংশ বাদ যাচ্ছে? তাড়াহুড়ার কারণে সহজ প্রশ্নে ভুল করছেন? সেই অনুযায়ী পরের অনুশীলন ঠিক করুন।
স্পিকিংয়ের ক্ষেত্রেও পরিচিত প্রশ্নের মুখস্থ উত্তর না দিয়ে স্বাভাবিকভাবে কথা বলার চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে বন্ধু, শিক্ষক বা অন্য কারও সঙ্গে পরীক্ষার মতো করে অনুশীলন করতে পারেন।
প্রতিদিন কতক্ষণ পড়বেন?
তিন মাসের প্রস্তুতিতে প্রতিদিন ঠিক কত ঘণ্টা পড়তেই হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। কারও জন্য প্রতিদিন এক থেকে দুই ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে অনুশীলন কার্যকর হতে পারে, আবার কারও আরও বেশি সময় প্রয়োজন হতে পারে।
বরং সপ্তাহের জন্য ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করুন। যেমন: নির্দিষ্ট কয়েকটি রিডিং অনুশীলন শেষ করবেন, দুটি রাইটিং লিখবেন কিংবা কয়েক দিন স্পিকিং রেকর্ড করবেন। এতে শুধু ‘আজ দুই ঘণ্টা পড়েছি’ হিসাব না করে আসলে কী কাজ হলো, সেটি বোঝা যায়। এক দিন পাঁচ ঘণ্টা পড়ে পরের চার দিন কিছু না করার চেয়ে নিয়মিত চর্চা বেশি কাজে আসে।
শুধু মক টেস্টেই আটকে থাকবেন না
প্রতিদিন পূর্ণাঙ্গ মক টেস্ট দিলেই দ্রুত উন্নতি হবে, এমন নয়। মক টেস্ট মূলত আপনি কোথায় দাঁড়িয়ে আছেন এবং কোথায় সমস্যা হচ্ছে, সেটি বুঝতে সাহায্য করে।
কোনো একটি রিডিংয়ে দশটি ভুল হলে সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি রিডিং শুরু না করে আগের ভুলগুলো দেখুন। একইভাবে রাইটিং লিখে রেখে দিলে হবে না। সম্ভব হলে কারও কাছ থেকে ফিডব্যাক নিন অথবা নির্ভরযোগ্য মূল্যায়নের মানদণ্ড দেখে নিজের লেখা যাচাই করুন। ভুল ধরার পর সেটি ঠিক করার কাজটাই প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শেষ সপ্তাহে নতুন চাপ নয়
পরীক্ষার আগের সপ্তাহে হঠাৎ করে পড়ার সময় দ্বিগুণ করার প্রয়োজন নেই। বরং যে ভুলগুলো নিয়মিত হচ্ছিল, সেগুলো আরেকবার দেখুন। পরীক্ষার নিয়ম, সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে নিন। পরীক্ষার আগের রাতে নতুন শব্দের দীর্ঘ তালিকা মুখস্থ করা বা রাত জেগে মক টেস্ট দেওয়ার চেয়ে পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া বেশি কাজে দেবে।
তিন মাসে আইইএলটিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো পরিকল্পনাটি নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সাজানো। প্রথম মাসে পরীক্ষাকে বুঝুন, দ্বিতীয় মাসে দুর্বল জায়গাগুলো নিয়ে কাজ করুন এবং তৃতীয় মাসে সময় ধরে পরীক্ষার মতো অনুশীলন করুন। অন্য কেউ কত দিনে কত ব্যান্ড পেয়েছেন, সেই হিসাবের সঙ্গে নিজের প্রস্তুতি মেলানোর প্রয়োজন নেই। তিন মাস শেষে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত শুধু বেশি অনুশীলন করা নয়, বরং আগের চেয়ে কম ভুল করা এবং পরীক্ষার প্রতিটি অংশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সামলাতে পারা।


