রোজায় ঘরেই বানাতে পারেন রিফ্রেশিং এই ৬ শরবত
বছর ঘুরে আবারও এলো পবিত্র মাহে রমজান। সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে চাই পুষ্টিকর ও সুস্বাদু শরবত। দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার এই সময়ে আমরা তুলে ধরছি কিছু বিশেষ শরবতের রেসিপি—যা স্বাদে অনন্য, গুণে সমৃদ্ধ। এগুলো দিনশেষে আপনাকে এনে দেবে মিষ্টতা ও প্রশান্তি এবং সেই সঙ্গে এনার্জি বুস্টার হিসেবেও কাজ করবে।
ফ্রেশ জিঞ্জার লেমোনেড
উপকরণ
- ৩–৪ ইঞ্চি পরিমাণ একটি বড় আদার টুকরো
- ৪–৫টি লেবু (লেবুর রস করে নিতে হবে)
- ২–৩ টেবিলচামচ মধু অথবা স্বাদমতো চিনি/গুড়
- বরফের টুকরো (চাইলে ব্যবহার করা যায়, না করলেও চলে)
প্রস্তুত প্রণালি
আদার খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরো করে নিতে হবে। এরপর আদা ভালো করে গ্রেট করে সামান্য পানি মিশিয়ে একটি পেস্ট তৈরি করুন। এই পেস্টটি একটি সূক্ষ্ম জালি বা মসৃণ কাপড়ের মাধ্যমে ভালোভাবে ছেঁকে রস বের করুন; এতে প্রায় ২–৩ টেবিলচামচ আদার রস পাওয়া যাবে। এরপর লেবু চিপে রস তৈরি করে ছেঁকে নিন, যাতে কোনো বিচি বা পাল্প না থাকে। একটি বড় পাত্রে লেবুর রস, আদার রস এবং ঠান্ডা পানি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। এর মধ্যে স্বাদমতো মধু বা চিনি/গুড় যোগ করে ভালোভাবে না মেশা পর্যন্ত নেড়ে নিন। রিফ্রেশিং স্বাদের জন্য চাইলে আরও একটু মিষ্টি যোগ করতে পারেন। এরপর একটি গ্লাসে কয়েকটি বরফের টুকরো দিয়ে এই মিশ্রণ ঢালুন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল রিফ্রেশিং জিঞ্জার লেমনেড।

ক্যারট অ্যান্ড জিঞ্জার জুস
উপকরণ
- ৪টি গাজর
- এক টুকরো আদা
- ১টি কমলা
- ১ কাপ পানি
- ১/২ টেবিলচামচ মধু
প্রস্তুত প্রণালি
গাজর ছিলে ছোট ছোট কিউব করে কেটে নিন। আদার খোসা ছাড়িয়ে পাতলা করে স্লাইস করুন। কমলাও পাতলা করে কেটে বিচিগুলো ফেলে দিন। এক কাপ পানিতে কমলার স্লাইস দিয়ে চুলায় বসান। মনে রাখবেন, সরাসরি ফুটন্ত পানিতে আদা দেবেন না; পানিতে আদা যোগ করে তারপর ধীরে ধীরে তাপ বাড়ান। পানি ফুটে উঠলে আদা কয়েক মিনিট সেদ্ধ হতে দিন, এরপর চুলা থেকে নামিয়ে নিন। মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন এবং প্রায় ১০ মিনিট পর ছেঁকে আদার টুকরোগুলো আলাদা করে ফেলুন। তারপর একটি ব্লেন্ডারে এই আদা-কমলার মিশ্রণ, প্রস্তুত করা গাজর, মধু ও কমলার রস একসঙ্গে দিয়ে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন।

ফ্রেশ লাইম অ্যান্ড পমেগ্রেনেট জুস
উপকরণ
- ২টি বড় লেবুর রস
- ১–১১/২ কাপ ডালিমের দানা
- ২–৩ টেবিলচামচ মধু অথবা স্বাদমতো চিনি/গুড়
- বরফের টুকরো
প্রস্তুত প্রণালি
একটি ডালিমের অর্ধেকের দানা ছাড়িয়ে নিন। এরপর ডালিমের দানাগুলো ব্লেন্ডারে দিয়ে ১৫–২০ সেকেন্ড ব্লেন্ড করুন। ব্লেন্ড করা মিশ্রণটি একটি সূক্ষ্ম জালি বা মসৃণ পাতলা কাপড় দিয়ে ছেঁকে রস আলাদা করে নিন। এতে প্রায় ১ থেকে দেড় কাপ ডালিমের রস পাওয়া যাবে। লেবুগুলো কাটার আগে টেবিলের ওপর হালকা চাপ দিয়ে গড়িয়ে নিলে বেশি রস পাওয়া যায়। এরপর লেবু চিপে হাতে বা জুসারের সাহায্যে রস বের করে নিন। একটি বড় পাত্রে ফ্রেশ ডালিমের রস, লেবুর রস এবং ঠান্ডা পানি একসঙ্গে মিশিয়ে নিন। তারপর এতে ২–৩ টেবিলচামচ মধু অথবা স্বাদমতো চিনি/গুড় যোগ করে ভালোভাবে নাড়তে থাকুন যতক্ষণ না সবকিছু মিশে যায়। স্বাদ অনুযায়ী চাইলে আরও কিছু মধু বা চিনি/গুড় যোগ করতে পারেন।

বিটরুট অ্যান্ড ক্যারট স্মুদি
উপকরণ
- ১টি লাল বিট
- ১টি বড় গাজর
- ১১/২ কাপ দুধ
- ২/৩ কাপ পানি
প্রস্তুত প্রণালি
গাজর ও বিটের খোসা ছাড়িয়ে দুটোই ছোট ছোট কিউব করে কেটে নিন। এরপর একটি ব্লেন্ডারে কিউবগুলো নিয়ে দুধ যোগ করে হাই স্পিডে ব্লেন্ড করুন, যতক্ষণ না মসৃণ পেস্ট তৈরি হয়। তারপর এতে পানি যোগ করে আবার ব্লেন্ড করুন। আপনি যে ঘনত্বের স্মুদি পছন্দ করেন, সে অনুযায়ী পানির পরিমাণ যোগ করতে পারেন। এভাবেই তৈরি হয়ে যাবে এক গ্লাস পুষ্টিকর ও তৃপ্তিদায়ক স্মুদি।

সাইট্রাস মকটেইল
উপকরণ
- ১টি বাতাবি লেবু
- ২টি কমলা
- ১টি লেবু
- কিছু পুদিনা পাতা
প্রস্তুত প্রণালি
বাতাবি লেবু, কমলা ও লেবু চিপে রস বের করে নিন এবং সব রস একসঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। স্বাদ বেশি টক মনে হলে এতে সামান্য পানি যোগ করতে পারেন। এরপর কিছু পুদিনা পাতা যোগ করুন, যা পানীয়টিতে দেবে সতেজ ও রিফ্রেশিং স্বাদ। প্রতিদিনের ভিটামিন সি–এর চাহিদা পূরণে নিয়মিত এই পানীয়টি পান করতে পারেন।

সুইট ট্যামারিন্ড ড্রিঙ্ক
উপকরণ
- ১৫০ গ্রাম মিষ্টি তেঁতুল
- ৪ কাপ পানি
- স্বাদমতো চিনি
- একটি অর্ধেক লেবুর রস (চাইলে ব্যবহার করা যায়, না করলেও চলে)
- ১ চা-চামচ গোলাপজল (চাইলে ব্যবহার করা যায়, না করলেও চলে)
প্রস্তুত প্রণালি
৪ কাপ পানিতে তেঁতুল ভিজিয়ে প্রায় ২ ঘণ্টা রেখে দিন। এরপর তেঁতুল ভালোভাবে চিপে বিচিগুলো ফেলে দিয়ে একটি ছাঁকনিতে ছেঁকে নিন। একটি ব্লেন্ডারে তেঁতুল ভেজানো পানি, চিনি ও সামান্য পানি একসঙ্গে দিয়ে ব্লেন্ড করুন। চাইলে এতে একটু লেবুর রস বা গোলাপ জল যোগ করতে পারেন। স্বাদ অনুযায়ী প্রয়োজন হলে আরও চিনি মেশান। তারপর মিশ্রণটি ৪৫ মিনিট ফ্রিজে রেখে ভালোভাবে ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন।
অনুবাদ করেছেন শবনম জাবীন চৌধুরী

