যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহে ব্রিকস সম্মেলন, ভারতে পুতিন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ব্রিকস সম্মেলন শুরু হওয়ার আগে আজ শুক্রবার ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার আবহে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

ভারতের কূটনৈতিক সূত্রের খবর অনুযায়ী, দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের ফাঁকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আলোচনার কথা রয়েছে। একইসঙ্গে, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গেও মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা রিয়া নভোস্তির ফুটেজে দেখা যায়, নয়াদিল্লির পালাম বিমান ঘাঁটিতে পৌঁছালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং।

এদিকে, ২০১৯ সালের পর এটিই হতে যাচ্ছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের প্রথম ভারত সফর। বিতর্কিত হিমালয় সীমান্তে প্রাণঘাতী সংঘর্ষের ছয় বছর পর দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই সফরকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পারমাণবিক শক্তিধর এশিয়ার এই দুই প্রতিবেশীর সম্পর্ক সম্প্রতি আবার স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এরই অংশ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে ফ্লাইট চলাচল, ভিসা সুবিধা এবং উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ব্যবস্থা ধীরে ধীরে শুরু হচ্ছে।

তবে তাদের মধ্যে এখনো গভীর অবিশ্বাসের রেশ রয়ে গেছে। বিতর্কিত সীমান্ত, ক্রমবর্ধমান বাণিজ্য ঘাটতি এবং কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতার মতো বিষয়গুলো আজও দেশ দুটির সম্পর্ককে জটিল করে রেখেছে।

সম্মেলনে আসা বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানাতে পুরো নয়াদিল্লির রাস্তাঘাট প্রধানমন্ত্রী মোদির পোস্টারে ছেয়ে গেছে। নিরাপত্তার জন্য রাজধানীজুড়ে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং কেন্দ্রীয় জেলাগুলোতে যান চলাচলের ওপর ব্যাপক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ জনগণকে ধৈর্য ধরতে এবং সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছে।

২০০৯ সালে ব্রিকস তৈরি হয়েছিল মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর প্রভাব কমাতে। কিন্তু এখন ইরান, সৌদি আরব আর আরব আমিরাতের মতো নতুন দেশ যুক্ত হওয়ায় জোটের ভেতরেই মতের অমিল দেখা দিয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে এই দেশগুলোর অবস্থান আলাদা।

ভারতের অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশনের বিশ্লেষক হর্ষ ভি. পান্তের মতে, এবারের সম্মেলনের সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় হবে এই মতপার্থক্য বা ‘বিভাজন রেখা’। তিনি মনে করেন, যে সম্প্রসারণকে একসময় বড় সাফল্য ভাবা হতো, এখন সেটাই ব্রিকসের জন্য একটা বড় চাপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতি বিশ্লেষক শীলন শাহ বলেন, ইরানে চলমান যুদ্ধ ব্রিকস জোটের ঐক্যের জন্য বড় ধরনের পরীক্ষা। তিনি উল্লেখ করেন, গত মে মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে দেশগুলো কোনো যৌথ বিবৃতিতে একমত হতে পারেনি, যা এই জোটের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যেরই প্রমাণ।

ইরান ও ইসরায়েল—উভয়ের সঙ্গেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে ভারত। তবে একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক রক্ষায় ভারত বেশ সতর্ক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ভারত রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে। রাশিয়া ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। তবে ইউক্রেন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রাশিয়ার কাছ থেকে জ্বালানি কেনা নিয়ে বিতর্কও রয়েছে।

পুতিন শেষবার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ভারত সফর করেছিলেন। তবে চলতি মাসে কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে তিনি মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই মাসেই কিয়েভ সফর করেছেন। সেখানে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, এই  যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে ভারতের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।