ইসরায়েলকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্রের অর্ধেক মজুত শেষ

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ওয়াশিংটনের অত্যাধুনিক আকাশ হামলা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নাম টার্মিনাল হাই অলটিচিউড এরিয়া ডিফেন্স বা সংক্ষেপে থাড। 

যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘ইন্টারসেপ্টর মিসাইল’ বা বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আকাশ পথে থেকে আসা ছোট, মাঝারি ও দূর পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা যায়।

সম্প্রতি এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলকে সুরক্ষা দিতে মার্কিন থাড মিসাইলের অর্ধেক মজুত ফুরিয়ে গেছে। 

আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি গণমাধ্যম টাইমস অব ইসরায়েল। 

২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় ইরানের শীর্ষ নেতা আয়াতোল্লাহ আলি খামেনিসহ বেশি কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ও কর্মকর্তা নিহত হন। ওই ঘটনার পর প্রতিশোধ নিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে ইরান। 

মূলত এসব হামলা থেকে ‘বন্ধু’ ইসরায়েলকে বাঁচাতে এই গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুতের অর্ধেক খরচ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।  

গত বৃহস্পতিবার দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলের দিকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে ২০০টিরও বেশি থাড মিসাইল ব্যবহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। 

পাশাপাশি, বন্ধুকে বাঁচাতে আরও ১০০টি এসএম-থ্রি ও এসএম-সিক্স বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রও ব্যবহার করেছে ওয়াশিংটন। 

অপরদিকে, নিজেদের সুরক্ষায় ১০০টিরও কম অ্যারো ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহার করেছে ইসরায়েল। 

ডেভিড স্লিং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থেকেও ৯০টি ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে। 

অ্যারো মিসাইল ইসরায়েলের নিজস্ব প্রযুক্তি নির্মিত অস্ত্র।  

এক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মার্কিন কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, নতুন করে যুদ্ধ আবারও শুরু হলে এই অস্ত্রের ব্যবহার আরও বাড়বে। কারণ, ইসরায়েলের নিজস্ব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো এ মুহূর্তে কার্যকর নেই। সেগুলো তারা রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পাঠিয়েছে। 

অপর এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একা কোনো যুদ্ধে লড়া বা জয়লাভের সক্ষমতা নেই ইসরায়েলের। কিন্তু কেউ এ বিষয়টি ভালো করে জানে না, কারণ কখনো এটি ভালো করে খতিয়ে দেখা হয়নি।’

তবে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে উল্লেখিত এসব বিষয় অস্বীকার করেছে পেন্টাগন। 

তাদের দাবি, ‘ইসরায়েলের বোঝা বহন করছে না যুক্তরাষ্ট্র’। 

পেন্টাগন জানায়, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা আমাদের নানামুখী ও বিস্তৃত সামরিক সক্ষমতার একটি উপকরণ মাত্র’। 

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলি দূতাবাস ওই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের আর কোনো অংশীদার ইসরায়েলের মতো সামরিক প্রস্তুতি, ইচ্ছাশক্তি, পারস্পরিক স্বার্থরক্ষার অঙ্গীকার বা সক্ষমতা রাখে না।’

ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই গুঞ্জন ওঠে, ইসরায়েলের আকাশ হামলা প্রতিরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় ইন্টারসেপ্টার মিসাইল ফুরিয়ে যাচ্ছে। 

বিষয়টি বরাবরই অস্বীকার করে আসলেও গত মাসে অ্যারো মিসাইলের উৎপাদন নাটকীয়ভাবে বাড়ানোর জন্য নতুন পরিকল্পনার অনুমোদন দিয়েছে জেরুসালেম। 

যুদ্ধের শুরর দিকে কয়েকটি গণমাধ্যম জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের উচিৎ তাদের নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র মজুত বুঝেশুনে খরচ করা। তবে এর জবাবে ওয়াশিংটন জানায়, তাদের হাতে প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি আক্রমণ ও প্রতিরক্ষামূলক ক্ষেপণাস্ত্র আছে। 

আকাশ হামলা থেকে নিজেদের সুরক্ষা দিতে ইসরায়েল কয়েক ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করেছে। 

মূলত উচ্চতা ভেদে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হয়। 

সবচেয়ে বেশি উচ্চতা থেকে ধেয়ে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে অ্যারো সিস্টেম ব্যবহার হয়। অ্যারো ২ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল ও মহাকাশে কাজ করে। অপর দিকে, অ্যারো ৩ বায়ুমণ্ডলের ওপরে কাজ করে। 

একটি অ্যারো ৩ মিসাইল নির্মাণের খরচ ২ থেকে ৩ মিলিয়ন ডলার। এটি নির্মাণ করতে কয়েক মাস সময় লেগে যায়। 

বিভিন্ন প্রতিবেদন মতে, যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অন্তত ৬৫০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েছে ইরান। 

ইসরায়েলের সরকারী হিসাব মতে, এসব হামলায় ২১ জন নিহত হন। 

অন্তত ১৬টি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের জনবহুল এলাকাগুলোতে আঘাত হানে। এতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি হয়। এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোতে হাজারো কেজি প্রথাগত গোলাবারুদের ব্যবহার হয়। পাশাপাশি, ৫০টি গুচ্ছ বোমা বহনকারী ক্ষেপণাস্ত্রও আঘাত হানে।