মধ্যপ্রাচ্যের ৩ দেশে শেহবাজ শরিফের ঝটিকা সফর
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির মাঝে চার দিনে তিন দেশ সফর করবেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ।
এই ঝটিকা সফরের মূল উদ্দেশ্য ইরানে শান্তি প্রতিষ্ঠা
আজ বুধবার বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এই তথ্য জানা গেছে।
হঠাৎ করেই যেন বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে নিয়েছে পাকিস্তান। মধ্যপ্রাচ্য সংকটে ইরান, ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, গাজার পাশাপাশি এখন ইসলামাবাদের নামও মানুষের মুখে মুখে। সবার নজর ইসলামাবাদের দিকে।
সবার মনোযোগের কেন্দ্রে আছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনির। মূলত তাদের উদ্যোগেই ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয় ওয়াশিংটন—এই তথ্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেওয়ার পর ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় অংশ নেয় যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসলামাবাদে আয়োজিত ওই বৈঠকে তেমন কোনো ফল আসেনি। আলোচনা ব্যর্থ—এমনটাই ধরে নেওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে আবারও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে হামলা শুরু করতে পারে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র, এমন আশংকায় ছিলেন অনেকেই।
তবে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ করেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্বয়ং। জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘আগামী দুই দিনের মধ্যেই’ নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে।
এর মধ্যেই শোনা গেল মধ্যপ্রাচ্য সফরে গেছেন শেহবাজ শরিফ। আজ বুধবার সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হবেন পাকিস্তানের নেতা।
ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চার দিনের ঝটিকা সফরে সৌদি আরব, কাতার ও তুরস্কে যাবেন শেহবাজ। যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনার কূটনৈতিক মঞ্চ প্রস্তুত করতেই তার এই উদ্যোগ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি মতে, ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তার এই সফর চলবে।
তুরস্কে আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাসি ফোরাম নামের সম্মেলনে যোগ দেবেন শেহবাজ। পাশাপাশি, দেশটির প্রেসিডেন্ট রিজেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠক করবেন তিনি।
অপরদিকে, সৌদি আরব ও কাতার সফরের মূল উদ্দেশ্য ওই দুই দেশের নেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেওয়া।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, আজ জেদ্দার ফ্লাইট ধরবেন শেহবাজ শরিফ। তার সঙ্গে উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
পাকিস্তান-সৌদি আরব ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে বিবেচিত।
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরুর পর তেহরান পাল্টা জবাব দিতে মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। মূলত যেসব দেশ মার্কিন সেনাবাহিনীকে তাদের ভূখণ্ডে অবস্থান করার অনুমতি দিয়েছে, তারাই এসব হামলার শিকার।
স্বভাবতই, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মিত্রের অন্যতম রিয়াদ, ইরানের রুদ্ররোষে পড়েছে।
ইসলামাবাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার ঘোষণা দেয়, সৌদি আরবের কাছ থেকে ৩ বিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছে তারা। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতির উন্নয়নে এই তহবিলের ব্যবহার হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থনীতি ও রাজস্ব বিষয়ক মন্ত্রী মুহাম্মাদ আওরঙ্গজেব। তিনি আরও জানান, এর আগে পাওয়া ৫ বিলিয়ন ডলার ফিরিয়ে দেওয়ার সময়সীমাও বাড়বে। তবে কতদিন পর্যন্ত, সেটা জানানো হয়নি।


