ইরান যুদ্ধ শুরুর পর হরমুজ দিয়ে চলাচল করেছে যেসব দেশের জাহাজ
ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়া জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ দিয়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই প্রণালিটি কার্যত বন্ধ রয়েছে।
সাধারণত, বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস রপ্তানির প্রায় পাঁচ ভাগের একভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে যেসব দেশের তেলবাহী জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকটির গন্তব্য অনুযায়ী তালিকা প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
মালয়েশিয়া
লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ‘সেরিফোস’ ১০ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রবেশ করে আবার বেরিয়ে যায়। এটি ইরানের লারাক দ্বীপকেও পাশ কাটিয়ে যায়। মার্চের শুরুতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে তেল বোঝাই করা এই জাহাজটি ২১ এপ্রিল মালয়েশিয়ার মালাক্কা বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরাকি অপরিশোধিত তেল বোঝাই এবং মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের একটি ইউনিটের চার্টার করা ‘ওশান থান্ডার’ ৫ এপ্রিল এই জলপথ অতিক্রম করে। ১৮ এপ্রিল মালয়েশিয়ার পেঙ্গেরাংয়ে ১০ লাখ ব্যারেল তেল খালাস করার কথা রয়েছে জাহাজটির।
বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি রয়টার্সকে জানিয়েছেন, এই দুটি ট্যাঙ্কার ইরানের অনুমোদন পাওয়া মালয়েশিয়ার সাতটি জাহাজের মধ্যে রয়েছে, যারা প্রণালিটি অতিক্রম করতে পেরেছে।
চীন
চীনের পতাকাবাহী ভিএলসিসি ‘কসপার্ল লেক’ এবং ‘হে রং হাই’ ১১ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি ত্যাগ করে। ইরাকি তেল বোঝাই ‘কসপার্ল লেক’ ১ মে চীনের ঝৌশান বন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ‘হে রং হাই’ সৌদি তেল খালাস করতে মিয়ানমারের দিকে যাচ্ছে। এই দুটি ভিএলসিসিই চীনা জ্বালানি জায়ান্ট সিনোপেকের ট্রেডিং শাখা ইউনিপেকের মাধ্যমে চার্টার করা হয়েছে।
২ এপ্রিল প্রণালি অতিক্রম করা ভিএলসিসি ‘ধালকুট’ ২২ এপ্রিল সৌদি তেল খালাস করতে মিয়ানমারের দিকে যাচ্ছে বলে ক্লেপলারের তথ্য দেখিয়েছে। মিয়ানমারে খালাস করা তেল সাধারণত পেট্রোচায়নার ইউনান শোধনাগারে পাঠানো হয়।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ৩১ মার্চ জানান, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ের পর সম্প্রতি তিনটি চীনা জাহাজ হরমুজ অতিক্রম করেছে।
ভারত
মার্চ ও এপ্রিল মাসে অন্তত দুটি ভিএলসিসি এবং দুটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার উপসাগর ত্যাগ করে ভারতে তেল খালাস করতে গেছে। ২ এপ্রিল প্রণালি অতিক্রম করা ভিএলসিসি ‘হাবরুট’ ১৫ এপ্রিল ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের জন্য আবুধাবির তেল খালাস করতে প্যারাদীপের দিকে যাচ্ছে।
এদিকে, ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ভিএলসিসি ‘মারাঠি’ ২৮ মার্চ রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য সিক্কা বন্দরে সৌদি তেল খালাস করেছে। একই তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘স্মিরনি’ সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার ১২ মার্চ প্রণালি ত্যাগ করে এবং ১৬ মার্চ রাষ্ট্রায়ত্ত শোধনাগার হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জন্য মুম্বাইয়ে ১০ লাখ ব্যারেল সৌদি তেল খালাস করে। আরেকটি সুয়েজম্যাক্স ‘শেনলং’ ৬ মার্চ প্রণালি ত্যাগ করে ১১ মার্চ মুম্বাইয়ে একই পরিমাণ সৌদি তেল খালাস করে।
ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাবনের পতাকাবাহী ‘এমএসজি’ ট্যাঙ্কার অবশিষ্ট জ্বালানি তেল নিয়ে ৯ এপ্রিল প্রণালি অতিক্রম করার পর ভারতের পিপাভাভ বন্দরের দিকে যাচ্ছে। লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ‘নাভারা’ ৩১ মার্চ প্রণালি পাড়ি দিয়ে ৮ এপ্রিল সিক্কা বন্দরে জ্বালানি তেল খালাস করেছে।
মার্চের শেষ দিকে সরকার জানায়, প্রায় ৯৪ হাজার মেট্রিক টন রান্নার গ্যাস বহনকারী ভারতগামী দুটি এলপিজি ট্যাঙ্কার নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে ভারতের দিকে যাচ্ছে।
ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, ‘বিডব্লিউ টায়ার’ ৫ থেকে ৭ এপ্রিলের মধ্যে মুম্বাই ও পিপাভাভে খালাস করে, আর ‘বিডব্লিউ এলম’ ৬ থেকে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে ভারতের তিনটি বন্দরে খালাস সম্পন্ন করে।
এর আগে ‘শিবালিক’, ‘নন্দা দেবী’, ‘পাইন গ্যাস’ এবং ‘জগ বসন্ত’ নামের আরও চারটি ভারতীয় পতাকাবাহী এলপিজি ট্যাঙ্কার প্রণালি অতিক্রম করেছে।
পাকিস্তান
পাকিস্তানের পতাকাবাহী দুটি ট্যাঙ্কার ১২ এপ্রিল উপসাগরে প্রবেশ করে। তথ্য অনুযায়ী, আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ‘শালামার দাস’ তেল বোঝাই করতে সোমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিকে যাচ্ছে। আর প্যানাম্যাক্স আকারের ‘খায়রপুর’ পরিশোধিত পণ্য বোঝাই করতে কুয়েতের দিকে যাচ্ছে।
আফ্রাম্যাক্স ট্যাঙ্কার ‘পি. আলিকি’ ২৮ মার্চ প্রণালি অতিক্রম করে এবং ৩১ মার্চ করাচিতে সৌদি তেল খালাস করে।
থাইল্যান্ড
থাইল্যান্ড ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমন্বয়ের ফলে ব্যাংচাক কর্পোরেশনের মালিকানাধীন একটি থাই তেলবাহী জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে এবং অবরোধ এড়াতে কোনো অর্থ দিতে হয়নি বলে ২৫ মার্চ জানিয়েছেন এক থাই কর্মকর্তা। ক্লেপলারের তথ্য অনুযায়ী, সুয়েজম্যাক্স ট্যাঙ্কার ‘পোলা’ থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরে ১০ লাখ ব্যারেল খাফজি তেল খালাস করেছে।