হরমুজে মারাত্মক ‘ঘূর্ণিপাকের ফাঁদে’ জড়াবে শত্রুরা
ইসলামাবাদে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, মার্কিন নৌবাহিনী পারস্য উপসাগর-সংলগ্ন হরমুজ প্রণালির দখল নেবে। দখল নিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখবে যাতে ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে কোনো নৌযান আসা-যাওয়া করতে না পারে।
এই হুমকির সমুচিত জবাব দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী।
আজ রোববার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
বিপ্লবী রক্ষীবাহিনী (আইআরজিসি) আজ জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের সরু নৌপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতেই আছে।
যদি ‘হিসাবে কোনো ভুল হয়’, তাহলেই শত্রুবাহিনীর সদস্যরা এক ‘মারাত্মক ঘূর্ণিপাকে’ জড়াবে। এমন হুঁশিয়ারি এসেছে আইআরজিসির কাছ থেকে।
পারস্য-ভাষায় লেখা একটি বার্তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর নৌ কমান্ড। সেখানে বলা হয়, ‘নৌচলাচল পুরোপুরি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে’।
‘হিসেবে একটু এদিক ওদিক হলেই শত্রুরা (হরমুজ) প্রণালিতে একটি মারাত্মক ঘূর্ণিপাকের ফাঁদে আটকে পড়বে’, যোগ করে রক্ষীবাহিনী।
পোস্টের সঙ্গে একটি ভিডিও যুক্ত করা হয়। এতে বিভিন্ন নৌযানের দিকে বন্দুকের ক্রসহেয়ার তাক করে রাখতে দেখা যায়।
রক্ষীবাহিনীর গণসংযোগ দপ্তরের পক্ষ থেকে পোস্ট করা অপর বার্তায় নৌকমান্ড দাবি করে, ‘শত্রুদের কয়েকজন কর্মকর্তা মিথ্যা দাবি করছেন। তারা বলছেন হরমুজ প্রণালি বন্ধ আছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সুনির্দিষ্ট বিধান মেনে ক্ষতিকারক নয় এমন বেসামরিক নৌযান চলাচল উন্মুক্ত আছে।’
তবে এসব বিধানের বিস্তারিত জানানো হয়নি।
‘যেকোনো যুক্তিতে হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো সামরিক নৌযানকে এগিয়ে আসতে দেখা গেলে ওই ঘটনাকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করা হবে এবং এর পরিণাম হবে ভয়াবহ’, যোগ করে রক্ষীবাহিনী।
এর আগে, সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশালে একটি সুবিশাল বার্তা দিয়ে ট্রাম্প নিশ্চিত করেন, তার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি থেকে সব মাইন পরিষ্কার করে জাহাজীকরণের জন্য ওই পথ উন্মুক্ত করা।
তবে একইসঙ্গে, ওই নৌপথের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখে ইরান যাতে মুনাফা অর্জন করতে না পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে হবে বলে মত দেন ট্রাম্প।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুগপৎ হামলায় আক্রান্ত হওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয় ইরান, যা আজও বলবৎ আছে। যার ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট দেখা দেয় এবং হু হু করে বাড়তে থাকে তেল-গ্যাসের দাম।
গত সপ্তাহে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেয় তেহরান-ওয়াশিংটন।
তবে এই বিরতিকে স্থায়ী রূপ দেওয়ার জন্য আয়োজিত বৈঠকের আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে।
যার ফলে, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আরও বেশি মাত্রায় সহিংসতা ছড়ানোর আশংকা দেখা দিয়েছে।
