১০ দিনের ব্যবধানে ৪ বার পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়াল ভারত

স্টার অনলাইন ডেস্ক

কাগজেকলমে যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির চিহ্ন নেই। ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ রেখেছে, আর অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সব বন্দর অবরুদ্ধ করে রেখেছে। এর মধ্যে শান্তি আলোচনা বা চুক্তি নিয়েও তেমন কোনো ভালো খবর নেই। 

এই পরিস্থিতিতে এশিয়ার বেশিরভাগ দেশ চরম জ্বালানি সংকটে ভুগছে। 

আজ সোমবার এই সংকটের জেরে আবারও পেট্রোল-ডিজেলের দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠানগুলো। এ নিয়ে গত ১০ দিনে চার বার জ্বালানির দাম বাড়ল ভারতে। 

বার্তাসংস্থা এএফপি এই তথ্য জানিয়েছে। 

ফেব্রুয়ারিতে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শুরুর পর দেশটিতে গাড়িতে ব্যবহৃত জ্বালানির দাম পাঁচ শতাংশ বেড়েছে। 

মূলত পারস্য সাগরের তীরবর্তী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকার কারণে ভারতসহ এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল আসছে না। 

তেল আমদানির দিক দিয়ে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ। দেশটি তাদের অপরিশোধিত তেলের চাহিদার অর্ধেকের বেশি হরমুজ প্রণালির মাধ্যমেই আমদানি করে। 

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যে কিছুটা তারতম্য থাকে। গড়পড়তায় দুই রুপির মতো বেড়েছে দাম। 

নয়াদিল্লিতে পেট্রোলের দাম ৯৯.৫ রুপি থেকে বেড়ে ১০২.১২ রুপি হয়েছে। ডিজেলের দাম এখন ৯৫.২০ রুপি। 

কিছুদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মত দেন, জ্বালানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা জরুরি, কারণ এতে জ্বালানি আমদানিতে ব্যবহৃত বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হয়। 

মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ ঘাটতি পূরণে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানি বৃদ্ধি করেছে ভারত। 

মধ্যপ্রাচ্য সংকটের জেরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সাময়িকভাবে রুশ তেলের বিরুদ্ধে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রেখেছেন। 

এ মাসের শুরুতে ভারতের পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী জানান, তেল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজস্ব কমছে। প্রায় প্রতিদিন তারা ১২০ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব কম পাচ্ছে। 

তবে তিনি নিশ্চয়তা দেন, জ্বালানি আমদানি ও সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকবে।