আলোচনা হয়নি, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল চোরাবালিতে আটকা পড়েছে: ইরানের স্পিকার

স্টার অনলাইন ডেস্ক

ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনার খবর নাকচ করেছেন। যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে ‘খুব ভালো এবং ফলপ্রসূ আলোচনা’ হয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় তেহরানের পক্ষ থেকে এমন প্রতিক্রিয়া এলো।

আল জাজিরার খবরে এমনটি বলা হয়েছে। গতকাল সোমবার এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা বা সমঝোতা হয়নি।’

একে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ লেখেন, ‘অর্থবাজার ও তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে চোরাবালিতে আটকে পড়েছে তা থেকে বাঁচতে ভুয়া খবর (ফেক নিউজ) ছড়ানো হচ্ছে।’

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাগাইয়ের আগের বক্তব্যেরই পুনরাবৃত্তি করেছেন স্পিকার। বাগাইও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনার খবর নাকচ করে দিয়েছিলেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনায় প্রকাশিত বক্তব্যে বাগাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনায় বসতে চায়—এই ধরনের বার্তা সরাসরি নয়, বরং কিছু বন্ধুসুলভ দেশের মাধ্যমে ইরান পেয়েছে।

এমন এক সময়ে এই অস্বীকারের খবর এল, যখন ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ চতুর্থ সপ্তাহে পদার্পণ করেছে। এদিকে সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে যে, তারা তেহরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের আক্রমণ শুরু করেছে।

ইরানও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ করে দিয়েছে। এই জলপথটি দিয়েই বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের ওপর এই যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

গত শনিবার ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেন, ইরান যদি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সব ধরনের নৌযানের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয়, তবে তিনি দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ করে দেবেন।

তবে সোমবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে বড় হাতের অক্ষরে লেখা এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, ইরানের সঙ্গে কথিত আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরকে দেশটির বিদ্যুৎকেন্দ্র ও জ্বালানি অবকাঠামোতে ‘সব ধরনের সামরিক হামলা পাঁচ দিনের জন্য স্থগিত’ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, এই স্থগিতাদেশ ‘চলমান বৈঠক ও আলোচনার সাফল্যের’ ওপর নির্ভর করছে।

আলাদাভাবে ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও জানান, গত রোববার এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। তিনি নির্দিষ্ট করে কারও নাম না বললেও দাবি করেন, ইরানের ‘শীর্ষ পর্যায়ের এক ব্যক্তির’ সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কথা বলছে।

ট্রাম্প দাবি করেন, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে খুবই আগ্রহী। আমরাও একটি চুক্তি করতে চাই। আমরা পাঁচ দিনের একটি সময় নিচ্ছি, দেখি কী হয়। যদি সব ঠিকঠাক থাকে, তবে আমরা এই সমস্যার সমাধান করে ফেলব। অন্যথায়, আমরা আমাদের ইচ্ছামতো বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাব।

এদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, সোমবার ট্রাম্পের সাথে তার কথা হয়েছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ইরানের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধকে ‘কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে’।

তিনি বলেন, যেকোনো চুক্তিতে আমরা আমাদের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থগুলো সুরক্ষিত রাখব।