১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকার দেশকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে: আবদুস সালাম
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর দায়িত্ব নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে দেশকে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম।
আজ শুক্রবার এলিফ্যান্ট রোডের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় তিনি ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ডিএসসিসির পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
সালাম বলেন, ‘ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যে আমরা এই শহর পরিষ্কার করব।’
তিনি জানান, কোরবানির পর নগর পরিষ্কার করতে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ৭৫টি ওয়ার্ডে ৪৬ টন ব্লিচিং পাউডার ও ২১০ গ্যালন বা ১ হাজার ৫০ লিটার স্যাভলন দেওয়া হবে। এছাড়া, কোরবানির পশুর বর্জ্য ফেলার জন্য পুরো ঢাকা শহরে ১ লাখ ৪০ হাজার পিস ব্যাগ দেওয়া হবে।
আগামী ২-৩ বছর পরে স্লটার হাউসে কোরবানির ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
সালাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে সিটি করপোরেশন ডুবিয়ে দিয়েছে। আমি বলি যে, ১৮ মাসে ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই যে দেখেন, হামে বাচ্চারা মারা যাচ্ছে, এই দায়িত্বটা কার? এই দায়িত্বটা ওদের। সেই সময় টিকা আনে নাই।’
‘আজকে ঢাকা শহরে দেখেন রিকশার জ্যাম হয়। এই রিকশা কখন আসছে? ৫ আগস্টের পরে আসছে। আজকে পুরো রাস্তাঘাট সয়লাব। আজকে হকারে সব রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে। এভাবে তো চলতে পারে না! একটা সিস্টেম হতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
সালাম আরও বলেন, ‘ওই ১৮ মাস তারা কিছুই করে নাই। বরং দেশটা আরও পিছিয়ে দিয়েছে।’
এ সময় বিরোধীদলের সমালোচনা করেন এই বিএনপি নেতা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাত্র তিন মাসে অনেক কাজ করার চেষ্টা করেছেন। আজকে বিরোধীরা বলে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে সরকার ফেলে দেবে। ‘ফেলে দেওয়ার কী হলো! জনগণ ভোট দিয়ে (বিএনপিকে ক্ষমতায়) এনেছে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ কোত্থেকে এলো? আমাদের ১৭ বছরের আন্দোলনেই তো জুলাই সনদ। আমরা তো সেটার বাইরে না! আর সবচেয়ে বড় কথা, জনগণের জন্য কাজ করছে কি না সরকার—এটা দেখতে হবে।’
জনগণ বিএনপিকে ৫ বছর সময় দিয়েছে, সে পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন বিএনপির এই নেতা।
বিরোধীরা আন্দোলন করলে বিএনপি ঘরে বসে থাকবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আন্দোলনের কথা বলে দেশটাকে আর পিছিয়ে দিয়েন না। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে আজকে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় সারা পৃথিবীতে একটা অর্থনৈতিক মন্দা, বাংলাদেশও সেটার বাইরে না। কিন্তু আপনারা যদি এখন আবার একটা বিশৃঙ্খলা করেন, দেশটা তো আরও রসাতলে যাবে। কাজেই ধৈর্য ধরেন, একটু সময় দেন। দুই-তিন বছর সময় দেন।’
তিনি বলেন, ‘দেখেন না—তারেক সাহেব কতটুকু পারে, কী পারে না। তারপর না পারলে তো পাবলিকই বলবে। আপনারা তো পাবলিক না! আপনারা তো জামায়াতের লোক। আপনারা তো অমুক দলের ছাত্রদের লোক। আপনারা তো পাবলিক না, পাবলিক কী বলে সেটা শোনেন।’
‘দেশ চালানো অত সহজ না। আস্তে আস্তে চালাতে দেন, তারেক রহমানকে চালাতে দেন, গণতন্ত্রটা রাখেন। আবার নির্বাচন করবেন, নির্বাচনে যদি জনগণ তারেক রহমানকে পছন্দ না করে, আপনাদেরকে পছন্দ হলে আপনাদের ভোট দেবে। এত সহজ না তো। আপনাদের চরিত্র একাত্তরে তো মানুষ দেখেছে। ভুলে গেছে? ভোলার কথা না তো,’ যোগ করেন তিনি।
মেয়র নির্বাচিত হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ সমস্যার সমাধান করে ফেলবেন আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, এলিফ্যান্ট রোড এলাকার জলাবদ্ধতার সমস্যা সমাধানে নতুন প্রকল্প আসছে।
তিনি আরও জানান, এই এলাকার পানি ড্রেনেজ সিস্টেমের মাধ্যমে বুড়িগঙ্গায় ফেললে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হবে।
এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা চেয়ে সালাম বলেন, ‘ময়লাটা যেখানে ফেলার, সেখানে ফেলতে হবে। যত্রতত্র না ফেলে একটা ডাস্টবিন বা গার্বেজ বক্স বা টিন, যেটাই আমরা ব্যবহার করতে পারি, অন্তত বাড়ির ময়লাগুলো...সব দোকান থেকে যদি ঝাড়ু দিয়ে এনে রাস্তার মধ্যে ফেলে দেয়, তাহলে তো রাস্তায় আবর্জনা হবেই এবং সারাদিন দেখা যায় যে, এই আবর্জনার মধ্যে গাড়ি-ঘোড়া চলে, আবর্জনাগুলো ছড়িয়ে যায়। এইগুলোতে আপনাদের শৃঙ্খলা আনতে। এগুলো (শৃঙ্খলা) আনার জন্য কিন্তু সিটি করপোরেশন পাহারা দিতে পারবে না।’
সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর সংখ্যা বাড়িয়ে দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি। সালাম আরও জানান, নগর পরিচ্ছন্নতায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সঙ্গে বৈঠক করবেন।