নেপালের ভোটে এগিয়ে সাবেক ‘র্যাপার-মেয়র’ বালেন্দ্র শাহ
নেপালের বহুল প্রতীক্ষিত নির্বাচনের ভোট গণনা চলছে। ২০২৫ সালে জেন-জি অভ্যুত্থানে দেশটির সরকার পতনের পর এটাই প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
প্রাথমিক ভোট গণনায় এগিয়ে আছেন তরুণদের নেতা বালেন্দ্র শাহ।
এক কালে হিপহপ মিউজিকের সঙ্গে জড়িত এই র্যাপার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা ছিল নজিরবিহীন এক ঘটনা।
আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
জেন-জি আন্দোলনের সময় প্রশাসনের অংশ হয়েও শিক্ষার্থীদের অভ্যুত্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন ‘বালেন’ নামে পরিচিত কাঠমান্ডুর সাবেক মেয়র।
বালেন্দ্রর প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে নেপালের ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলিও রয়েছেন। গত বছর জেন-জি প্রজন্মের তরুণদের প্রবল আন্দোলনের মুখে অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।
৩৫ বছর বয়সী বালেন্দ্র শাহ নির্বাচনী প্রচারের সময় থেকেই নেপালের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আধিপত্য বিস্তার করেছেন।
আজ শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মাত্র তিন বছর আগে প্রতিষ্ঠিত বালেন্দ্র শাহর মধ্যপন্থী দল ‘রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি’ ৩৭টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী অলির দল ‘কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল’ (ইউএমএল) মাত্র তিনটি আসনে এগিয়ে আছে।
৪৯ বছর বয়সী গগন থাপার নেতৃত্বাধীন নেপালের প্রাচীনতম দল ‘নেপালি কংগ্রেস’ ৫টি আসনে এগিয়ে রয়েছে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা আভাস দেন, আজ শুক্রবার সন্ধ্যা বা শনিবারের মধ্যে নির্বাচনের ফলাফল পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে যেতে পারে।
নেপালের পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ ‘প্রতিনিধি পরিষদের’ মোট ২৭৫টি আসনের মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি নির্বাচন হচ্ছে। এতে প্রার্থিতা করেছেন তিন হাজার ৪০০ জন প্রার্থী।
এখন সেগুলোরই গণনা চলছে।
পার্লামেন্টের বাকি ১১০ আসন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্ধারিত হবে।
নেপালি পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের মোট আসন সংখ্যা ২৭৫। এর মধ্যে ১৬৫টি আসনে সরাসরি ভোট হয়েছে।
গতকালের ভোটে অংশ নিয়েছেন ৫৯ শতাংশ ভোটার।
বালেন্দ্র নির্বাচনী প্রচারের সময় বিশাল জনসমাগম করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং সরাসরি জনসংযোগের মাধ্যমে পরিবর্তনপ্রত্যাশী তরুণ ভোটারদের সঙ্গে নিবিড়ভাবে যোগাযোগ রেখেছেন।
প্রথা ভেঙে ভারত সীমান্তবর্তী ঝাপা-৫ আসনে অলির (৭৪) নিজের ঘাঁটিতে তাকে চ্যালেঞ্জ জানান বালেন্দ্র।
৩ কোটি মানুষের দেশ নেপালে কয়েক দশক ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে। এর ফলে দেশটির কৃষিভিত্তিক অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং বেকারত্ব বেড়েছে।
এসব সমস্যার জন্য অবকাঠামোগত সমস্যা ও ব্যাপক দুর্নীতিকেই দায়ী করেন বিশ্লেষকরা।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে গত বছরের সেপ্টেম্বরে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধের জেরে শুরু হওয়া সেই বিক্ষোভে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে আসে।
ব্যাপক সংঘর্ষ ও প্রাণহানির প্রেক্ষাপটে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অলি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

