হামে মৃত্যু-আক্রান্তের তথ্য ২ সপ্তাহে ৩ বার সংশোধন করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

তুহিন শুভ্র অধিকারী
তুহিন শুভ্র অধিকারী

ওয়েবসাইটে হাম আক্রান্তের তথ্য আপলোড করার মাত্র কয়েকঘণ্টার ব্যবধানে আজ আবারও হামের পরিসংখ্যান সংশোধন করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সংশোধিত তথ্যে সন্দেহভাজন হাম রোগী ও হাসপাতালে ভর্তির সংখ্যা কমেছে।

আজ শনিবার বিকেলে আপলোড করা প্রথম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৯৬৭ সন্দেহভাজন রোগী পাওয়া গেছে এবং একইসময়ে ১ হাজার ৮৭৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।

এই তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চের পর থেকে এটাই সন্দেহভাজন রোগী ও হাসপাতালে ভর্তির সর্বোচ্চ সংখ্যা।

কিন্তু, দুই ঘণ্টা পর ওয়েবসাইট থেকে এ তথ্য সরিয়ে নেয় অধিদপ্তর।

পরে একটি সংশোধিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আপলোড করা হয়। এতে বলা হয়, আজ সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৯৭২ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং হাসপাতালে সন্দেহভাজন হাম রোগী ভর্তি হয়েছে ৮৮৩ জন।

এতে আরও বলা হয়, ময়মনসিংহের সিভিল সার্জন অফিস থেকে পাওয়া গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য আপডেট করা হয়েছে।

কিন্তু এই দুই বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে সন্দেহভাজন রোগী ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যায় বড় পরিবর্তন পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা গেছে ময়মনসিংহ বিভাগের ক্ষেত্রে।

প্রথম সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিভাগে ১ হাজার ৩৯ জন সন্দেহভাজন রোগী এবং ১ হাজার ২৪ রোগী হাসপাতালে ভর্তির কথা বলা হলেও, সংশোধিত বিজ্ঞপ্তিতে ৪৪ সন্দেহভাজন হাম রোগী ও ২৯ জন ভর্তির তথ্য দেখানো হয়েছে।

বরিশাল বিভাগের ক্ষেত্রে প্রথম বিজ্ঞপ্তিতে ১৪৪ সন্দেহভাজন রোগী ও ১৫০ জন হাসপাতালে ভর্তির তথ্য ছিল। সংশোধন করে পর সন্দেহভাজন রোগী দেখানো হয় ৪৩ জন ও ভর্তি দেখানো হয় ৪৩ জন।

সিলেট বিভাগে প্রথমে ৪৩ জন সন্দেহভাজন রোগী ও ৪৩ জন ভর্তির কথা উল্লেখ থাকলেও, পরে সন্দেহভাজন রোগী ১৪৪ জন ও ভর্তি ১৫০ জন বলে জানানো হয়।

অবশ্য দুই বিজ্ঞপ্তিতেই হামে সন্দেহভাজন মৃত্যু ও নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত আছে।

এ নিয়ে গত ২ সপ্তাহে হামের প্রতিদিনের তথ্য তৃতীয়বারের মতো সংশোধন করল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এতে তথ্যের সত্যতা এবং এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহের ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এর আগে গত ১০ মে আগে উল্লেখ না করা ৪৬ সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা যোগ করে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর পরিসংখ্যানে বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা জানায় অধিদপ্তর।

সেসময় অধিদপ্তর জানিয়েছিল, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ সংশ্লিষ্ট জেলার সিভিল সার্জন অফিসের সঙ্গে সমন্বয় করে তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে।

এরপর সংশোধনী আনা হয়েছিল ১৮ মে। সেদিনের বিজ্ঞপ্তিতে অধিদপ্তরের ডেটাবেজ থেকে ৪ হাজার ৩৪০ জন সন্দেহভাজন হাম রোগীর তথ্য বাদ দেওয়া হয়।

সেসময় জানানো হয়, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে পাঠানো তথ্যে পুনরাবৃত্তি থাকায় ডেটা হালনাগাদ করা হয়েছে।

এভাবে তথ্যের পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, 'বারবার পরিবর্তন করলে মানুষের কাছে তথ্যের সত্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এ ধরনের সংশোধন এড়াতে কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত।'

যোগাযোগ করা হলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জাহিদ রায়হান আজ শনিবার তথ্য সংশোধনের কথা স্বীকার করেন।

তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, 'ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যের পুনরাবৃত্তি হওয়ার কারণে আজকে সংশোধন করা হয়েছে।'

তিনি জানান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ও রাজশাহী বিভাগীয় পরিচালককে (স্বাস্থ্য) ‘ভুল তথ্য’ পাঠানোর জন্য ইতোমধ্যে কারণ দর্শানো নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আজকের তথ্যের গড়মিলের বিষয়েও তদন্ত হবে এবং কেউ দায়ী প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।