বরিশালে বিকল্প ‘হেডবক্স’ দিয়ে চলছে শিশুদের অক্সিজেন সরবরাহ

সুশান্ত ঘোষ
সুশান্ত ঘোষ

গত ১ মার্চ থেকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি বানারীপাড়ার কৃষক হাফিজুলের চার মাস ২৫ দিনের শিশু সন্তান তাবাসসুম।

জ্বর ও হামের লক্ষণ দেখে তাকে ভর্তি রাখা হয়েছে হাম আইসোলেশন কক্ষে। এই কক্ষে আরও দুই শিশুর সঙ্গে ভাগাভাগি করে তাবাসসুমের চিকিৎসা চলছে।

তাবাসসুমের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত দুই দিন ধরে তাকে কৃত্রিমভাবে অক্সিজেন দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আর তখনই স্থানীয়ভাবে প্লাস্টিকের বক্স ছিদ্র করে অক্সিজেন সরবরাহের নল জুড়ে অক্সিজেন দেওয়া হয় তাবাসসুমকে। বক্সের সামনের অংশ গামছা বা কাপড় দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে অক্সিজেন বাইরে বেরিয়ে যেতে না পারে। 

এ ব্যবস্থার নাম দেওয়া হয়েছে হেডবক্স। দ্য ডেইলি স্টারকে হাফিজুল বলেন, ‘ডাক্তারের নির্দেশে নার্স ও হাসপাতাল স্টাফরাই এই ব্যবস্থা করেছেন।’ 

আজ সোমবার দ্য ডেইলি স্টারকে হাফিজুল জানান, ডাক্তার আল আমিনের তত্ত্বাবধানে রয়েছে তার মেয়ে। এই আইসোলেশন বিভাগের অন্যান্য শিশুদের মতো তার সন্তানকে হেডবক্সের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া করা হচ্ছে। অক্সিজেন দেওয়ার পর, রোগীর কিছুটা উন্নতি হলেও একেবারে সুস্থ হচ্ছে না। 

প্লাস্টিকের বক্স দিয়ে তৈরি বিকল্প এ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহ করায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি ও হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিভাবকেরা। তাদের অনেকের দাবি, এই পদ্ধতি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে সংকট দীর্ঘদিনের। শয্যা সংকটের কারণে এক বিছানায় তিন-চারজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া এখানে নিয়মিত ঘটনা। এর মধ্যেই অতিপ্রয়োজনীয় অক্সিজেন মাস্কের সংকটের বিষয়টি সামনে এসেছে।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আব্দুল মুনায়েম সাদ বলেন, ‘শিশুদের অক্সিজেন সরবরাহ বৃদ্ধির জন্য ডাক্তাররা এই ব্যবস্থা করেছেন। আমরা মনে করি, এতে রোগী যথাযথ অক্সিজেন সরবরাহ পাচ্ছে।’

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মো. মশিউল মুনীর বলেন, ‘স্থানীয় উপায়ে এভাবে অক্সিজেন দেওয়ার বিষয়টিকে আমি বলবো ইম্প্রোভাইজেশন। অক্সিজেন যাতে নির্দিষ্টভাবে শরীরে প্রবেশ করে, তার জন্য স্থানীয়ভাবে এই পদ্ধতির উদ্ভাবন করা হয়েছে।’

‘শিশুদেরকে হাই ফ্লো অক্সিজেন দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া আইসিইউ না থাকার বিষয়টি যেভাবে প্রকাশ হচ্ছে, সেটি ঠিক নয়। সারাদেশে আইসিইউ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন মাত্র ৮-১০ জন। আমরা ঢাকায়ও এটি করতে পারিনি। শিশুদের জন্য আইসিইউ-এর বিষয়টি তাই এত সহজ নয়,’ বলেন তিনি।

পরিচালক আরও বলেন, ‘উপরন্তু জায়গার সংকটের কারণে আমরা বিপর্যস্ত। আমরা বরিশাল জেনারেল হাসপাতালের একটি কক্ষ শিশুদের জন্য ডেডিকেটেড করতে বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালককে অনুরোধ করেছি। আজ পুরো মেডিকেলে ৫৬৫ জন রোগী আছেন। হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে রয়েছেন ৭২ জন। আমাদের ধারণক্ষমতার সাত গুণ বেশি রোগী হাসপাতালে রয়েছে।’

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিস জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে হাম সন্দেহে ১১২ রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত জানুয়ারি থেকে গতকাল রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন মোট ৬৩০ জন। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৭ রোগী।

বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ‘শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তাররা যদি স্থানীয়ভাবে তৈরি অক্সিজেনের হেডবক্স ব্যবহার করে থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই তারা বুঝে-শুনেই করেছেন। এ বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে জেনারেল হাসপাতালে মোট বেড রয়েছে ৫০টি। সেখানে শিশুদের জন্য আলাদা ডেডিকেটেড কক্ষ করার মতো ব্যবস্থা নেই।’