প্যারেন্টিং

সকালে সন্তানের স্কুল, চাপ কমানোর ৮ কৌশল

রবিউল কমল
রবিউল কমল

সকালে ঘুম থেকে ওঠানো, দাঁত ব্রাশ করানো, পোশাক পরানো, নাশতা খাওয়ানো এবং বশেষে স্কুলের গাড়ি বা গেটে পৌঁছানো। প্রতিদিনের এই ছোটাছুটিতে অনেক পরিবারের সকালটাই শুরু হয় বিরক্তি ও তাড়াহুড়ো দিয়ে।

তবে একটু পরিকল্পনা করলেই সকালের এই বিশৃঙ্খলা অনেকটাই কমানো সম্ভব। অভিভাবকদের জন্য কয়েকটি সহজ কৌশল দিয়েছেন ইউনিসেফের চাইল্ড কেয়ার, ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড এডুকেশন কনসালটেন্ট দীপু মাহমুদ।

নিজের যত্ন দিয়ে সকাল শুরু করুন

সন্তানের পেছনে ছুটতে গিয়ে নিজের নাশতা বা মানসিক প্রস্তুতির কথা ভুলে গেলে চলবে না। সম্ভব হলে সন্তান ওঠার ১০ থেকে ১৫ মিনিট আগে উঠে একটু শান্ত সময় কাটান। হালকা ব্যায়াম, গান শোনা বা কয়েক মিনিট নীরব থাকাও কাজে দিতে পারে।

অভিভাবক নিজে শান্ত থাকলে সন্তানের আবেগ সামলানোও সহজ হয়।

প্রতিদিন একই রুটিন রাখুন

শিশুরা নিয়ম ও পূর্বানুমানযোগ্যতা পছন্দ করে। তাই প্রতিদিনের কাজের রুটিন মোটামুটি একই রাখুন, যথাক্রমে ঘুম থেকে ওঠা, বাথরুম, দাঁত ব্রাশ, পোশাক, নাশতা, জুতা ও ব্যাগ।

ছোটদের জন্য ছবিসহ একটি রুটিন চার্টও বানিয়ে দিতে পারেন। এতে বারবার ‘এখন কী করবে?’ বলে মনে করিয়ে দিতে হবে না।

Mother and daughter preparing for school picking up school bag together at  home flat illustration. 68107649 Vector Art at Vecteezy

আগের রাতেই যতটা সম্ভব প্রস্তুতি

সকালের কাজ কিছুটা কমিয়ে আনতে আগের রাতটাকেই কাজে লাগান। পোশাক বের করে রাখা, স্কুলব্যাগ গোছানো, পানির বোতল ভরা এবং টিফিন প্রস্তুত করে রাখলে সকালে সময় বাঁচে।

সকালে ‘আজ নাশতায় কী হবে?’ এমন ছোটখাটো সিদ্ধান্ত যেন বড় ঝামেলায় পরিণত না হয়। তাই আগের রাতেই কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে রাখুন।

হাতে বাড়তি সময় রাখুন

শিশুকে নিয়ে বের হওয়ার সময় একদম শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন না। ১৫ থেকে ৩০ মিনিট বাড়তি সময় হাতে রাখলে হঠাৎ কোনো ঝামেলা হলেও পুরো সকাল এলোমেলো হয়ে যাবে না।

মনে রাখবেন, শিশুরা সব সময় আপনার ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলবে না। জুতার ফিতা বাঁধতে গিয়ে মন খারাপ হতে পারে, জামার একটা অংশ পছন্দ নাও হতে পারে, এমনকি একটি মোজার সেলাই নিয়েও বড়সড় আপত্তি তুলতে পারে! তাই এসবের জন্যও সময় রাখুন।

Mother and daughter preparing for school picking up school bag together at  home flat illustration. 68107649 Vector Art at Vecteezy

দরজার পাশে বানান ‘লঞ্চ প্যাড’

স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজনীয় সব জিনিসের জন্য দরজার পাশে একটি নির্দিষ্ট জায়গা রাখুন। ব্যাগ, জুতা, পানির বোতল, ছাতাসহ যা যা প্রতিদিন লাগে, সেখানেই রাখা যেতে পারে।

তাহলে বের হওয়ার সময় ‘জুতাটা কোথায়?’ বা ‘বোতলটা কে দেখেছে?’ এই চিরচেনা প্রশ্নগুলো অনেকটাই কমবে।

শিশুকেও যুক্ত করুন

সব কাজ বাবা-মা করে দিলে শিশু নিজের দায়িত্ব বুঝতে শেখে না। বরং বয়স অনুযায়ী কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ দিন।

যেমন, আগে দাঁত ব্রাশ করবে নাকি পোশাক পরবে, সেটি তাকে বেছে নিতে দিন। দুই ধরনের নাশতা বা দুই জোড়া পোশাকের মধ্যে একটি বেছে নেওয়ার সুযোগও দিতে পারেন। এতে শিশুর নিজের প্রতি দায়িত্ববোধ বাড়ে এবং সহযোগিতা করার প্রবণতাও তৈরি হয়।

9 Ways To Prepare Kids for School

স্কুলে যাওয়ার আগে একটু যত্ন

সকালের ব্যস্ততায় সন্তানকে কেবল নির্দেশ দিতে থাকলে সে বিরক্ত হয়ে উঠতে পারে। বের হওয়ার আগে দুই মিনিট জড়িয়ে ধরা, প্রিয় গান চালিয়ে একটু নাচা কিংবা ছোট্ট কোনো মজার রীতি তৈরি করা যেতে পারে।

এই সামান্য সময়টুকু শিশুকে মানসিকভাবে স্বস্তি দিতে পারে এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক গভীর হয়।

সকাল খারাপ গেলে দোষারোপ নয়

সব দিন পরিকল্পনা অনুযায়ী যাবে না। কোনো দিন হয়তো সন্তান দেরি করবে, কোনো দিন আপনার মেজাজও খারাপ হয়ে যেতে পারে। এমন হলে নিজেকে ‘খারাপ অভিভাবক’ ভাবার দরকার নেই।

বরং পরে সন্তানের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। কী কারণে সকালটা খারাপ গেল এবং পরের দিন কীভাবে একটু সহজ করা যায়, তা নিয়ে একসঙ্গে ভাবুন। এতে সন্তানও ভুল থেকে শেখার সুযোগ পাবে।

20+ Parent Buying School Supplies Stock Illustrations, Royalty-Free Vector  Graphics & Clip Art - iStock

সকালটা হোক একটু সহজ

সকালকে একেবারে নিখুঁত করার কোনো জাদুর সূত্র নেই। তবে আগের রাতের প্রস্তুতি, নির্দিষ্ট রুটিন, বাড়তি সময় এবং একটু সময় নিয়ে শিশুকে সামলানোর মতো অভ্যাস সকালের চাপ অনেকটাই কমাতে পারে।

সবচেয়ে বড় কথা, স্কুলে সময়মতো পৌঁছানোর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো শিশুকে নিয়ে দিনটি শান্তভাবে শুরু করা।