প্রকৃতির ক্যালেন্ডার ‘ফেনোলজি’: কখন ফুটবে ফুল, গজাবে পাতা
গাছ কখন নতুন পাতা আসবে? কখন ফুল ফুটবে? পাখি কখন পরিযানে যাবে? মাছই বা কখন ডিম ছাড়বে? এসব ঘটনা হঠাৎ করে ঘটে না। প্রকৃতির নানা পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়েই জীবজগতের জীবনচক্রে এসব পরিবর্তন আসে। জীবনের এই ছন্দের সঙ্গে পরিবেশের পরিবর্তনের সম্পর্ক নিয়ে যে বিজ্ঞান কাজ করে, তার নাম ফেনোলজি।
শব্দটি উচ্চারণ করা হয় ‘ফেন-অ-ল-জি’।
ধরা যাক, শীত পেরিয়ে বসন্ত আসছে। এত দিন যে গাছের ডালপালা ছিল খালি, সেখানে দেখা দিল সবুজ কুঁড়ি। কিছুদিন পর গাছে নতুন পাতা গজাল, ফুটল ফুল। কিন্তু গাছ কীভাবে বুঝল যে বসন্ত এসে গেছে?

এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজেন ফেনোলজিস্টরা। তারা গবেষণা করেন, দিনের আলো বাড়া, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া, বৃষ্টিপাতসহ পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন কীভাবে গাছের পাতা গজানো বা ঝরে পড়া কিংবা ফুল ফোটার মতো ঘটনাকে প্রভাবিত করে।
তবে ফেনোলজির গবেষণা কেবল গাছপালা নিয়েই নয়। প্রাণীদের জীবনচক্রের নানা পরিবর্তনও এর আওতায় পড়ে।
যেমন, অনেক মাছ বছরের নির্দিষ্ট সময়ে উপকূলীয় এলাকায় এসে ডিম ছাড়ে। মাছগুলো অবশ্য ক্যালেন্ডার দেখে ঠিক করে না কখন ডিম ছাড়বে! পানির তাপমাত্রা, সমুদ্রের স্রোত এবং দিনের আলোর সময়ের মতো পরিবেশগত পরিবর্তনই তাদের প্রজননের সময় নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়ছে জীবজগতের স্বাভাবিক জীবনচক্রেও।
তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় কোনো কোনো গাছে আগের চেয়ে দ্রুত কুঁড়ি আসতে পারে। একইভাবে জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে পাখি ও অন্যান্য প্রাণীর পরিযানের সময়ও বদলে যেতে পারে।
এসব পরিবর্তন বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবীর তাপমাত্রা আরও বাড়তে থাকলে গাছপালা ও প্রাণীদের জীবনচক্রে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তা বুঝতে ফেনোলজির গবেষণা বিজ্ঞানীদের সাহায্য করতে পারে।

মানুষের জীবনেও ফেনোলজির গবেষণার গুরুত্ব রয়েছে। যেমন, বছরের কোন সময়ে বাতাসে পরাগরেণুর পরিমাণ বাড়ে এবং এর সঙ্গে মানুষের অ্যালার্জির সমস্যার কোনো সম্পর্ক আছে কি না—এমন বিষয়ও বিজ্ঞানীরা গবেষণা করেন।
সহজ করে বললে, ফেনোলজি হলো প্রকৃতির সময়সূচি বোঝার বিজ্ঞান। কখন গাছে কুঁড়ি আসবে, কখন ফুল ফুটবে, কখন পাখি পরিযানে যাবে কিংবা কখন মাছ ডিম ছাড়বে—এসব ঘটনার সঙ্গে পরিবেশের পরিবর্তনের কী সম্পর্ক, সেটিই ফেনোলজির মূল বিষয়।