বিজ্ঞান শব্দ: হ্যালুসিনেশন

স্টার অনলাইন ডেস্ক

রাতের বেলা হঠাৎ তুমি দেখলে, ঘরের কোণে একটা বেগুনি রঙের হাতি দাঁড়িয়ে আছে! তাহলে কী হবে? তুমি হয়তো ভয় পাবে! কিন্তু পরে দেখা গেল, সেখানে আসলে কিছুই ছিল না! মাঝে মাঝে এমন হয়। আর বিজ্ঞানীরা এর একটা নাম দিয়েছেন।

বিজ্ঞানীরা এই ধরনের ঘটনাকে বলছেন, হ্যালুসিনেশন।

শব্দটি শুনতে একটু কঠিন লাগলেও বিষয়টি খুব মজার। কারণ শুধু মানুষই না, এখন নাকি কম্পিউটার ও চ্যাটবটও ‘হ্যালুসিনেশন’ করতে পারে! এটা কিন্তু আমার কথা নয়, বিজ্ঞান সাময়িকী লাইভ সায়েন্সের একটি আর্টিকেলে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হ্যালুসিনেশন মানে কী

সহজ করে বললে, হ্যালুসিনেশন হলো এমন কিছু দেখা, শোনা বা অনুভব করা, যা আসলে বাস্তবে নেই।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, কখনো অসুস্থ হলে, খুব বেশি জ্বর এলে বা ঘুম কম হলে মানুষ ভুল কিছু দেখতে বা শুনতে পারে।
যেমন—কেউ ভাবতে পারে কেউ তাকে ডাকছে, কেউ অদ্ভুত শব্দ শুনতে পারে, আবার কেউ এমন কিছু দেখতে পারে, যা সত্যি নয়।

ওই সময়ে আমাদের মস্তিষ্ক বাস্তব ও কল্পনাকে গুলিয়ে ফেলে।

এবার আসি সবচেয়ে মজার অংশে! তুমি নিশ্চয়ই এআই চ্যাটবটের নাম শুনেছো। যেমন—নানা ধরনের স্মার্ট চ্যাটবট, যারা তোমার প্রশ্নের উত্তর দেয়। নাম বলি—জেমিনাই, চ্যাটজিপিটি।

তুমি জিজ্ঞেস করলে, ‘চাঁদে প্রথম কে গিয়েছিল?’ চ্যাটবট সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দেবে।

কিন্তু কখনো কখনো এআই এমন উত্তরও দেয়, যা একদম সত্যি মনে হয়, অথচ সেই উত্তর পুরো ভুল!

বিজ্ঞানীরা এই ভুলকেও বলেন এআই হ্যালুসিনেশন। মানে, চ্যাটবট মনে করে সে ঠিক বলছে, কিন্তু আসলে সে বানিয়ে বলছে!
একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। ২০২৩ সালে গুগল তাদের এআই চ্যাটবট গুগল বার্ডকে জিজ্ঞেস করেছিল, নয় বছরের শিশুর জন্য মহাকাশ দূরবীন জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের নতুন আবিষ্কারের কোনো তথ্য দাও।

তখন চ্যাটবট বলেছিল, জেমস ওয়েব প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহের ছবি তুলেছে!

শুনতে দারুণ লাগে, তাই না? কিন্তু পরে বিজ্ঞানীরা বললেন, ‘আরে! এটা তো ভুল তথ্য!’ আসল ছবিটি তুলেছিল অন্য একটি বিশাল টেলিস্কোপ। অর্থাৎ, চ্যাটবট ভুল উত্তর বলেছিল।

আর এটাই হলো ‘এআই হ্যালুসিনেশন’।

তাহলে কি এআই মিথ্যা বলে? না, এআই ইচ্ছা করে মিথ্যা বলে না। সমস্যা হলো, এআই মানুষের মতো ভাবতে পারে না। সে অনেক তথ্য দেখে আন্দাজ করে উত্তর দেয়। কখনো সেই আন্দাজ ঠিক হয়। কখনো ভুলও হয়।

তাই এআই খুব আত্মবিশ্বাস নিয়ে উত্তর দিলেও, সেটি সবসময় সত্যি নাও হতে পারে।

তাই বিজ্ঞানীরা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবসময় যাচাই করতে হবে। বই, শিক্ষক বা বিশ্বস্ত ওয়েবসাইট থেকে মিলিয়ে দেখতে হবে। এআইয়ের সব কথা অন্ধভাবে বিশ্বাস করা যাবে না।

মজার ব্যাপার হলো, মানুষের মস্তিষ্ক ও এআই কখনো কখনো বাস্তবতা নিয়ে ভুল করতে পারে! একজন মানুষ কল্পনায় ভুল কিছু দেখতে পারে। আর চ্যাটবট ভুল করে উত্তর দিতে পারে। তাই বিজ্ঞানীরা এআইকে আরও বুদ্ধিমান ও নির্ভুল করার চেষ্টা করছেন।

শেষ কথা হলো, হ্যালুসিনেশন মানে—এমন কিছু দেখা বা বলা, যা আসলে সত্যি নয়।